চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সর্বশেষ:

এইজন্যই বলি- মদ খাওয়া উচিত না

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ | ৪:১২ অপরাহ্ণ

মদ খেলে মানুষের অনেক দুঃসাহসী কাজ করতে ইচ্ছে হয়। কেউ নিজের এক্সকে মিস করতে করতে ভিডিও কল করে ফেলে তো কেউ নিজের সদ্যবিবাহিত বৌকে বাইক থেকে ফেলে দিয়ে চম্পট দেয়।

মাইরি, ইয়ার্কি করছি না। তখন ব্যাঙ্গালোরে সদ্য এসেছি। আগেই বলেছি এখানে রাস্তায় প্রচুর লালু-ভুলু-কালুদের ভিড়। আপনি ওদের বিস্কুট খাওয়ান একদিন, ওরা জান কবুল করে আপনাদের প্রোটেক্ট করবে। কিন্তু ব্যাটারা এমন ক্ষেপুলাল যে একদিন আপনি বাইক চড়ে ফিরুন, সব বিস্কুট, মাংস ভাত খাওয়ানোর এপিসোড ভুলে বাঁ বাঁ করে আপনাদের তাড়া করবে।

এক বন্ধুর তখন সবে বিয়ে হয়েছে। নতুন বউ নিয়ে এসেছে পার্টি করতে । আমরা তো সব জন্ম হ্যাংলা । ‘এ ভাই মদ খাওয়া’ বলে হাঁ করেই আছি। আমাদের আর কী! বয়েস কম, (আমি তো সবে বাইশ) পেটে সয় । মদ খেয়ে যে কোনো পাপ করে নিতে পারি। পরে বলে দেব মেমোরি ক্রিয়েট করছিলাম। যাক গে, মোদ্দা কথায় আসি। সে ব্যাটা বিয়ের আনন্দে বন্ধুর বাড়িতেই বিয়ারের টাওয়ার লাগিয়েছে, ওল্ড মঙ্কের ট্যাংক আনিয়েছে। সবাই মিলে ওল্ড মঙ্ক খেয়েছে, সন্ধ্যে সাতটা থেকে।

যখন রাত এগারোটা বাজে, তখন কেউ বাথরুমে কমোড জড়িয়ে শুয়ে আছে। কেউ নিজের প্রেয়সীকে বোঝাচ্ছে তারারাও কত আলোকবর্ষ দূরে, কেউ নিজের হাতে মাত্র আটটা আঙুল খুঁজে পেয়ে বাকি দুটো আঙুলের শোকে মরা কান্না জুড়েছে। কেউ কিচেনের স্ল্যাবের উপর মাংস ভাত মেখে খাচ্ছে। কেউ ঘরের লফ্টকেই ট্রেনের আপার বার্থ ভেবে সেখানে উঠে বলছে ভাই যশবন্তপুর এলে ডেকে দিস। সেইসব দেখে বন্ধুর নতুন বউ ভারী আনসেফ ফিল করল। বন্ধুকে বলল- ওগো চলো, বাড়ি যাই।
বন্ধু অলরেডি এত পেগ ডাউন যে আর এক পেগ খেলে বুড়ো সন্ন্যাসী সাক্ষাৎ সামনে অবতীর্ণ হবে।

তাও বউয়ের আদেশের সামনে কোন মহাপুরুষই বা প্রতিবাদ করতে পেরেছে। বন্ধু বাইক নিয়ে নিজে হেলমেট পরে, বউকে হেলমেট পরিয়ে রেডি হলো। কারণ সেফটি ফার্স্ট। আমরাও বেরোলুম। কারণ, হোস্ট নিজেই চলে যাচ্ছে তাই ভদ্রতা ফার্স্ট।

সবাই মাতাল। এবার মদ খেয়ে তো মেইন রোড দিয়ে ফেরা যাবে না। কারণ সেফটি ফার্স্ট। প্লাস পুলিশ দাদারাও রেডি আছে। তাই ঠিক হলো সবাই অলি গলি দিয়ে বাড়ি ফিরব। বাড়ি ফেরার পথে একটি কুখ্যাত গলি ছিল যেখানে রাত এগারোটার পরেই বাইক ঢোকালে গলির কুতুয়ারা জামাল কুদুর চেয়েও ক্ষেপে যেত। আমি সবাইকে বাইকের সিটে জমা ধুলোয় ম্যাপ এঁকে বুঝিয়ে দিলুম যে ভাইলোগ এই গলিতে ঢুকলে, সাবধান । বাইক হাঁকাবে না, কুড়িতে চালাবে। তাহলে কুতুয়ারা বুঝবে তোমরা ওদেরই মতো ভালো।
সবাইকে বাই বলে সেই গলিতে ঢুকলাম, আমি, আমি যার গাড়িতে ছিলাম সে, আর আমার নববিবাহিত বন্ধু। আমরা আস্তেই যাচ্ছিলুম, হঠাৎ দেখলুম সেই বন্ধু পাশ দিয়ে ভোঁ করে বেরিয়ে গেলো। আর তার বাইকে তার বউ নেই!

আমি যার বাইকে ছিলুম, সে বলল হ্যাঁ রে ওর একটা বউ ছিলো না? আমি বললুম, নিশ্চয় ছিল। বৌ ছিল বলেই তো আমাদের এই হাল। ভারী ভাবিত হয়ে নিরাপদ দূরত্বে বাইক রেখে আমরা গেলুম বউয়ের খোঁজ করতে। গিয়ে দেখি নতুন বউ মাঝরাস্তায় বসে হাপুস নয়নে কাঁদছে। আর ভুলু-কালু-লালুরা তার চারপাশে লেজ নাড়তে নাড়তে ঘুরছে ।
নিদারুণ দৃশ্য!

ব্যাটা বর কুকুর দেখে এমন গাড়ি ভাগিয়েছে যে খেয়ালই নেই পিছন থেকে বউ পড়ে গেছে। আমি অবশ্য ওকে দোষ দিইনি। সারাজীবন একা চালিয়েছে বেচারা, হঠাৎ করে মনে থাকার কথাও নয় যে পিছনে আরও ষাট কেজি অ্যাড হয়েছে।

নতুন বউকে তুলে নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। নতুন বউ সারারাত সোফায় বসে রইলো। সকালে ঘুম থেকে উঠে বন্ধুকে ফোন করলাম, কী রে সেফলি পৌঁছেছিস? বউ ঠিক আছে তো? ব্যাটা খুব সোয়াগ দেখিয়ে আমায় বলে কী, হ্যাঁ আমি ঠিক আছি, বউও ঠিক আছে। আমি বুঝলাম হ্যাং ওভার নামেনি তখনো, বললাম তোর বউ ঠিক আছে। বাড়িতে খুঁজে দেখ, খুঁজে না পেলে আমার বাড়ি এসে নিয়ে যাস। চা খাচ্ছে।

বেচারা লজ্জায় সানগ্লাস পরে এসেছিল। আর গালাগালি যা পড়েছিল তা আর বললাম না । এইজন্যই বলি মদ খাওয়া উচিত না। লেখা : লেখকের ফেসবুক থেকে

 

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট