চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

সর্বশেষ:

দুনিয়ার মূল্য আল্লাহর কাছে মশার ডানার সমানও নয়

নাসির উদ্দিন

৭ নভেম্বর, ২০২৩ | ৫:২৮ অপরাহ্ণ

পৃথিবীতে জাল বিছিয়ে আছে খ্রিস্টান মিশনারি। যা আমাদের চারপাশে পরিবেশে দেখতে পাই। তারা বিভিন্নভাবে মুসলমানদের মধ্যে তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চায়। তাদের উদ্দেশ্য মুসলমানদের খ্রিস্টান বানানো নয়, তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো খ্রিস্টানদের হেফাজত করা। খ্রিস্টানরা যাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করে। তাই তারা তাদের ধর্ম প্রচার মুসলমানদের মাঝে যেমনি করে, তেমনি খ্রিস্টানদের মাঝেও করে তাদের মনোবল দৃঢ় রাখার জন্য।
আল্লাহপাক কোরআনে বলেন, মুশরিক, ইহুদি ও খ্রিস্টানরা চায় না মুসলমানের উপর কোন কল্যাণ নাজিল হোক। তারা চায় না মুহাম্মদ (সা.) এর উপর ওহী নাজিল হোক। তাই বিশ্বে ইহুদি-খ্রিস্টানরা মুসলমানদের পরাজিত করার জন্য নানামুখী তৎপরতায় লিপ্ত অনাদিকাল থেকে। বিশেষভাবে খ্রিস্টানরা আন্তর্জাতিকভাবে বহুমুখী তৎপরতার সাথে জড়িত। তাই মুশরিকরা যেমনি মুসলমানের দুশমন, ঠিক তেমনি ইহুদি, খ্রিস্টানরাও মুসলমানের দুশমন। মুশরিকরা হলো অশিক্ষিত দুশমন। ইহুদি-খ্রিস্টানরা হলো শিক্ষিত দুশমন।
সেই কারণে আল্লাহপাক কোরআনে ঈমানদেরও ঈমান আনতে বলেছেন। মুফাসসিরেরা বলছেন- ঈমানদারতো ঈমান এনেছেন, ঈমানদেরকে আল্লাহ আবার ঈমান আনতে কেন বলেছেন। এর অর্থ হলো তোমরা ঈমানের উপর অটল থাক। অর্থাৎ ঈমানকে তোমরা নবায়ন কর। দুর্বল ঈমানকে সবল করবে দাওয়াত। সেই কারণে দ্বীনের দাওয়াত অমুসলিমদের পাশাপাশি মুসলিমদেরকেও দেওয়া জরুরি। তারা আমল করে ঈমান মজবুত রাখবেন। দেখবেন ইসলাম নিয়ে গবেষণা করে অনেক খ্রিস্টান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তাই মুসলমানদের শুধু অন্য ধর্মের লোকজনকে নয়, মুসলমানদেরও দাওয়াত দেয়া দরকার।
খ্রিস্টান মিশনারি একাধিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে। একটি উদ্দেশ্য হলো-অন্য জাতিদের ইসলাম বিমুখ রাখা। অন্য ধর্মের লোকজন যাতে ইসলাম গ্রহণ না করে। সেই কারণে তারা ইসলামের বিরোধিতা করে সন্ত্রাস ও অপপ্রচার চালায়। যাতে খ্রিস্টান মুসলমান না হয়। পৃথিবীতে অন্য যত জাতি আছে তারাও যেন ইসলামের দিকে না আসে সেই কারণে তারা ইসলামের বিরুদ্ধে ধারবাহিকভাবে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে থাকে। ইসলামকে বিভিন্ন তকমা দিয়ে কলুষিত করে। যাতে অন্য ধর্মের মানুষেরা ইসলামের দিকে না আসে।
খ্রিস্টান মিশনারির আরেকটি উদ্দেশ্য হলো- মুসলমানদের ধর্মীয় ব্যপারে শৈথিল্য করা। ধর্ম পরিবর্তনের চাইতে এটি সহজ কাজ। তারা যেন শতভাগ ইসলাম পালন না করে। সে জন্য তারা বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করে বাজারে ছাড়ে। অশ্লীল মুভি, নানা সামাজিক মাধ্যম, মদ, জুয়া, মাদক, পতিতালয়সহ অস্ত্র ব্যবসার প্রসার ঘটায়। যুবক-যুবতীদের বিভ্রিান্ত করার জন্য নানা টোপ ফেলে। থার্টিফাস্টসহ নানা দিবস নিয়ে নানা আঙ্গিকে হাজির হয়। রাতে ক্লাবে সময় কাটানোর প্রথা উপরিমহলে চালু করেছে। তার সাথে ডিসকো জকি, ভিডিও জকিতো আছেই।
এসবের ফলে ধীরে ধীরে মুসলমানের তাকওয়া চলে যায়। এসব পরিকল্পনা তারা বিশ্বের নানা প্রান্তে বাস্তবায়ন করে। জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তির নানা উৎকর্সের মধ্যে আপনি দেখবেন ভালর আদলে মন্দ অনেক কিছু ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষ তার ধর্মের প্রতি ধীরে ধীরে আগ্রহ হারাতে থাকে। তাকওয়া ছাড়তে শুরু করা মানুষ আমল ছেড়ে দেয়। কুসংস্কার, বিদআত, কুফরি,শিরকি আকিদায় লিপ্ত হয়। অর্থাৎ তারা চায় নামে মুসলমান, কাজে খ্রিস্টান।
নামে মুসলমান কাজে খ্রিস্টান হলে খ্রিস্টানদের সাথে অনেক আগ্রহ নিয়ে কাজ করবে। ইসলাম তাদের মধ্যে দুর্বল হয়ে গেলে ইসলাম প্রতিষ্ঠান জন্য আর চেষ্টা করবে না। দুনিয়ার কামনা-বাসনা, চাহিদায় লিপ্ত হয়ে কোনমতে নামে মুসলমান হয়ে তারা মৃত্যুবরণ করবে। এটা সবচেয়ে বড় কাজ খ্রিস্টানদের। তারা চায় না মুসলিম রাষ্ট্রের মানুষগুলো খ্রিস্টান হোক। তারা জানে এটা অসম্ভব। তবে এটা সম্ভব খ্রিস্টীয় সংস্কৃতি যদি প্রবেশ করানো যায় তা হলে তারা ইসলামের আমল থেকে দূরে সরে দুর্বল হয়ে পড়বে। পশ্চিমা সংস্কৃতি তারা অনুসরণ করবে।
মুহাম্মদ (সা.)বলেছেন- আগের জাতিদের সংস্কৃতি গ্রহণ করবে। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, আপনি ইহুদি-খ্রিস্টাদের কথা বলছেন। তাই বলছি, ইহুদি-খ্রিস্টানদের সংস্কৃতি ধারণ করতে গিয়ে তোমার সভ্যতা থেকে দূরে সরে যাবে। এমনকি মুসলমান এতবেশি ইহুদি, খ্রিস্টানমুখী হয়ে যাবে, তারা যদি কখনো গুইসাপের গর্তের মধ্যে ঢুকে তাহলে মুসলমানরাও তাদের গর্তে ঢুকবে। নাউজুবিল্লা। তাদের সংস্কৃতি মুসলিম সমাজে প্রবেশ করবে খ্রিস্টান মিশনারীর মাধ্যমে এটা বুঝাতে চেয়েছেন মহানবী।

আজ বিশ্বে বিপুল মুসলমান মুসলিম সংস্কৃতি বাদ দিয়ে খৃষ্টান সংস্কৃতিতে অভ্যস্থ হয়ে ওঠছে। এটাকে তারা আধুনিকতা, ফ্যাশন মনে করছে।এই নিয়ে গর্ববোধ করছে। বিয়ে-শাদি,জন্মদিন, সামাজিক কার্যক্রমে তাদের সংস্কৃতি লালন করছে, যা ইসলামে অনুমোদনহীন। এক্ষেত্রে খ্রিস্টান মিশনারী সফল । পৃথিবীজুড়ে তাদের সংস্কৃতি মুসলমানদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ায় তারা সফল । ইসলাম থেকে বের করে কিছু মুসলিম মাঝখানে থাকছে। তারা কোন ধর্মে নেই।এভাবে তারা একসময় নাস্তিকে পরিণত হয়।তারা আবার নিজেদের মুসলমান দাবি করে ইসলাম নিয়ে বিষোদগার করে। অর্থাৎ নামে মুসলমান কাজে নাফরমান।কিন্তু নাম রাখবে মুহাম্মদ,আবদুল্লাহ,ফাতিমা ও আয়েশা।নামে মুসলিম,পরিবার মুসলিম, প্রকৃতপক্ষে তাদের কোন ঈমান নেই।ইসলামের বিভিন্ন বিধি-বিধানের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। যাতে মুসলমানরা বিভ্রান্ত হয় এবং ওই বিধিবিধান মেনে আমল কম করে।
পশ্চিমারা বিশ্বে অগ্রগামী।দুনিয়ার ক্ষেত্রে তারা অগ্রগামী কেন? তারা বিশ্বকে বুঝাতে চায় আমরা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করার কারণে। বিশ্ববাসী তোমার আস, খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করো। তোমরাও অগ্রগামী হয়ে যাবে। অথচ ইসলামের ব্যাখ্যা সেটা নয়। আল্লাহপাক পৃথিবীতে মানুষকে পাঠিয়েছেন পরীক্ষা করার জন্য। তাই আল্লাহপাক বন্ধুদের দেন কম, দুষমনদের দেন বেশি। বন্ধুদেরগুলো পরকাল অর্থাৎ আখিরাতের জন্য জমা রেখেছেন।
হাদীসে আছে- মহানবী মুহাম্মদ (সা/) বলেছেন- দুনিয়া যদি আল্লাহর কাছে একটি মশার ডানার সমান হতো, তাহলে তিনি কোনো কাফেরকে তার এক ঢোক পানিও পান করাতেন না।

আল্লাহপাকের কাছে এই দুনিয়ার কোন মূল্য নেই। মূল্যহীনগুলো আল্লাহ দুশমনদের দেয়। জান্নাতের একদিনের খাবার দুনিয়ার ৭০ বছরের চাইতে অনেক উত্তম। সেই কারণে ঈমানদাররা দুনিয়াতে কোনমতে চলে। মহানবী বলেছেন- আমাকে যদি মোহব্বত করো দুনিয়ার লোভ ছাড়, অভাবকে সঙ্গী বানাও। আমি ইচ্চাকৃতভাবে দুনিয়ার লোভ-লালসা, সম্পদ থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি। আমার কাছে যা আসতো প্রতিদিন সদকা এবং হাদিয়ার মাধ্যমে বিলি করে দিই। মুসলিমদের সুফল পরকালের জন্য রেখেছেন। অমুসলিমদের আল্লাহ দুনিয়াতেই সব দিয়ে রেখেছেন।আপানাদেরগুলো পরকালের জন্য জমা আছে। তারা নগদে পাচ্ছেন সেই কারণে তাদেরগুলো আপনাদের কাছে বেশি মনে হচ্ছে। এই সম্পদ জান্নাতের সামান্য নেয়ামতের কাছে কিছুই না।
তাই আল্লাহপাক বলেছেন,আমার বিশেষ বান্দাদের জন্য জান্নাতে এমন এমন নেয়ামত রেখেছি। দুনিয়ার জীবনে কখনো তা সে চোখে দেখেনি, কানে শুনেনি এবং কল্পনাও করতে পারেনি। এমন নেয়ামত জান্নাতের মধ্যে রাখা হয়েছে।ক্ষমতা দিয়ে আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করছেন। এর সঠিক ব্যবহার না অপব্যবহার করছে। মুসলমান তাদের বিবেক বুদ্ধি ইবাদতে খরচ করে। অমুসলিম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যয় করে। মুসলমান ইবাদতে সফল। তারা দুনিয়া নিয়ে ব্যাস্ত।
বিশ্বে মানবজাতির ক্যান্সার ইহুদিদের জন্য ইজরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় খৃষ্টানরা। পৃথিবীর ১৯৫টি রাষ্ট্রের মধ্যে ইহুদিদের একটাই রাষ্ট্র সেটা ইজরাইল। তাও আবার জোর করে খ্রিস্টাদের ছত্রছায়ায়। তাদের ছত্রছায়া উঠে গেলে একদিন মধ্যপ্রাচ্যে টিকে থাকার সাধ্য তাদের নেই। তারা মুসলমানদের আদি শত্রু ইহুদিদের জন্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান কারণ মুসলমানরা ইহুদি কুচক্রিদের মোকবেলায় লিপ্ত থাকবে। খ্রিস্টাদের মোকাবেলায় তেমন আসবে না। সেই কারণে ইসরাইলের জন্য জান-প্রাণ পশ্চিমারা। তাই মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল প্রতিষ্টা করেছে।
যুগযুগ ধরে বায়তুল আকসার মধ্যে ইহুদিরা সন্ত্রাসী আক্রমন করে যাচ্ছে। বা্য়তুল আকসা কাবা ঘরের পর সন্মানিত মসজিদ। কাবার মতো প্রথমে আদম (আ.) পরে ইব্রাহিম (আ.) ও সোলাইমান (আ.) সংস্কারের মাধ্যমে বা্য়তুল আকসা নির্মাণ করেছেন।মানবতার ক্যান্সার ইহুদিদের প্রতিষ্ঠা করে খ্রিস্টানরা চায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখার জন্য। কারণ ইহুদি জাতি সবসময় ফিৎনাবাজ। তারা সন্ত্রাসের মধ্যে কঠোর। ২৪ ঘন্টা খৃষ্টানরা তাদের সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কখনো তারা চায় না মুসলমানের কল্যাণ হোক।
সবাইকে পশ্চিমা বানাতে চায় তারা। তারা যেভাবে খায়, যেন সবাই সেভাবে আহার করে। পোশাক পরে উলঙ্গ, বেহায়াপনা, পৃথিবীর সব মানুষ তাই করুক। দুনিয়ার শিক্ষা গ্রহণ করুক দ্বিন থেকে দূরে থাকুক। অর্থাৎ তারা যেমন লেজ কাটা, সবাইকে লেজ কাটা দেখতে চায়। নামে ধর্মের অনুসারি কাজে ধর্মহীন দেখতে চায়।

এর বিপরীতে আমরা অলস, ঘুমিয়ে আছি। সামান্য স্বার্থের জন্য ঈমান বিক্রি করতে রাজি। সত্যের উপর অটল থাকতে পারি না। তাই আজ সেই কারণে ফিলিস্তিনের মুসলমসানদের চরম র্দদশা। মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারছি না। নিজের স্বার্থের কারণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুসলমানরা প্রতিবাদ করতে পারছে না। এটা হলো দুনিয়ার লোভ। দুনিয়ার লোভের কারণে আজ আমরা অধঃপতনের শেষ প্রান্তে। আল্লাহপাক আমাদের সকলকে খৃষ্টানদের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

লেখক: ব্যুরোচিফ, বাংলাভিশন, চট্টগ্রাম

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট