চট্টগ্রাম শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪

আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি কলম : কেয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি সৃষ্টির নিয়তি লিখেছে এই কলম

নাসির উদ্দিন

১০ অক্টোবর, ২০২৩ | ৬:০৫ অপরাহ্ণ

আল্লাহপাক সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন। তবে আমরা যে কলম দিয়ে লিখি সেই কলম সর্বপ্রথম সৃষ্টি নয়। বরং যে কলম দিয়ে লাওহে মাহফুয লেখা হয়েছে সেটিই সর্বপ্রথম সৃষ্টি। এরপর আদম সন্তানদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইদ্রিস (আ:) কলম দ্বারা লেখেন। মহানবী (সা.) হাদীসে সর্বপ্রথম লেখার দিকে যে অনির্দিষ্ট নবীর কথা উল্লেখ করেছেন তিনি ইদরিস (আ.)। মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই তিনি একজন নবী ছিলেন, যিনি লিখন পদ্ধতির সূচনা করেন। যে তাঁর মতো লিখতে চায় সে যেন তা করে।’
রাসূল (সা:) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন। তারপর কলমকে বললেন, লেখ, কলম বললো, কী লিখব? আল্লাহ বললেন, কেয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি বস্তুর ভাগ্য লেখ।’ এভাবেই কলমের মাধ্যমে আল্লাহ পাক তার সব সৃষ্টির নিয়তি লিখলেন। অন্য হাদীসে মহানবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেন এবং তাকে লেখার নির্দেশ দেন। সে মতে কলম কেয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে, সব লিখে ফেলে। এ কিতাব আল্লাহর কাছে আরশে রক্ষিত আছে।’

আল্লাহপাক সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টির মাধ্যমে ইসলামে শিক্ষাকে অত্যাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম আয়াত নাজিল করেন শিক্ষা বিষয়ে। আর শিক্ষার অতি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো কলম। ইসলামে শিক্ষা ও কলমের মর্যাদা কতটুকু, তা বোঝা যায় কুরআনে কারিমের সর্বপ্রথম নাজিল হওয়া চারটি আয়াতের মাধ্যমে। বিশ্বমানবতার মুক্তির উদ্দেশ্যে উচ্চারিত ইসলাম ধর্মের প্রথম আহ্বান : ‘পড়ো, তোমার প্রতিপালকের নামে,যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্তপিণ্ড থেকে। পড়ো,তোমার প্রতিপালক মহিমান্বিত;যিনি কলমের সাহায্যে জ্ঞান দান করেছেন। মানুষকে শিখিয়েছেন, যা সে জানত না।’ (আলাক : ১-৫)।
আল্লাহ যখন পৃথিবী সৃষ্টি করার ইচ্ছা পোষণ করেন প্রথমে কলম সৃষ্টি করেন। এরপর লওহে মাহফুজ সৃষ্টি করেন। এরপর আল্লাহ পাক তার সব সৃষ্টির নিয়তি লিখে রাখলেন। সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত পর্যন্ত সব কিছু আল্লাহর নির্দেশমতো কলম লিখে রেখেছে । অত:পর আসমান-জমিন সৃষ্টি করলেন। ছয়দিনে তা সুশোভিত করলেন। নূর দিয়ে রুহ সৃষ্টি করলেন। রুহের মধ্যে সর্বপ্রথম রুহে মোহাম্মদি সৃষ্টি করলেন। আদম (আ:)কে সৃষ্টি করলেন।শারীরিক দিয়ে আদম (আ.) প্রথম সৃষ্টি হলেও রুহের দিক দিয়ে মহানবী মুহাম্মদ (সা:) প্রথম সৃষ্টি।
আল্লাহপাক আদম (আ:) এর পিঠের মধ্যে কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ আসবে সব রুহগুলে আমানত রেখেছেন। পরে আল্লাহ পিঠ থেকে সমস্ত রুহ বের করলেন। তাদের ঝড়ো করে আল্লাহ পাক স্বীকৃতি আদায় করেন। “ আমি কি তোমাদের রব নই?” “ তখন সমস্ত রুহ একবাক্যে স্বীকার করেন,হাঁ আপনিই আমাদের রব”। সর্বপ্রথম এই প্রশ্নের উত্তর দেন আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা:) । সেই মোতাবেক অমুসলিমরাও আল্লাহকে রব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অমুসলিমরাও আল্লাহর তৌহিদের স্বীকৃতি দিয়েছে।
স্মরণ কর, আদম সন্তানদের পৃষ্ঠদেশ থেকে তোমর রব বের করলেন তাদের বংশধরদেরকে। এবং তাদের থেকে স্বীকারোক্তি নিলেন তাদেরই সম্বন্ধে এবং বললেন : “ আমি কি তোমাদের রব নই?” তারা বলল: হাঁ, আমরা স্বাক্ষী রইলাম”। তা এ জন্য যে তোমরা যেন কেয়ামতের দিন বলতে না পার যে, আমরা তো এ ব্যাপারে বেখবর ছিলাম। ( আ’রাফ: ১৭২)
রব- এর স্বীকৃতি আদায়ের সময় আদম (আ:)দেখলেন, একজনের শরীর চকচক করছে। তিনি প্রশ্ন করলেন ইনি কে? আল্লাহ বললেন, দাউদ(আ:)। দাউদ (আ:) এর বয়স কত হবে ? বলা হলো ৬০ বছর। আদম (আ:)বললেন, তাঁর বয়স এক কম কেন ? আমার হায়াত থেকে আমি উনাকে ৪০ বছর দান করলাম। আল্লাহপাক সেই দান কবুল করলেন। সুবহানাল্লাহ। আদম (আ:)এর বয়স ছিল এক হাজার বছর। ৪০ বছর দাউদ আ -কে দান করার তারনে হায়াত পান ৯৬০ বছর। কারণ দাউদ (আ:) হায়াত পান ১০০বছর। আজরাঈল (আ:) যখন আদম (আ:) এর কাছে রুহ কবজ করতে এলেন। তখন আদম (আ:) বললেন, আমার বয়স তো এখনো ৪০ বছর বাকী আছে। তখন আজরাঈল (আ:) বললেন, আপনিতো ভুলে গেছেন। যখন আল্লাহপাক তৌহিদের স্বীকৃতি নিলেন তখন আপনি দাউদ (আ:) কে ৪০ বছর দান করেছিলেন। আপনি তা ভুলে গেছেন। তখন আদম (আ:) তাঁর ভুল স্বীকার করেন। উত্তম ব্যাক্তি তিনি যিনি ভুল ধরা পড়ার পর তওবা করে নেন। অনেকে আবার মুখে তওবা করে অন্তরে বিশ্বাস করেন না। তা মুনাফেকি তওবা। অন্তর দিয়ে তওবা করলে সেটা আল্লাহপাক কবুল করেন।
পৃথিবীর সমস্ত মানুষ জন্মগতভাবে ঈমানদার। কারণ: সব রুহ একবাক্যে রব-এর স্বীকৃতি দিয়ে পৃথিবীতে এসেছে। আবার এই স্বাক্ষ্য দিয়েছে, কেয়ামতের দিন বলতে পারবে না, আমরা তো এ ব্যাপারে বেখবর ছিলাম। তৌহিদের যে স্বীকৃতি তারা দিয়েছিল, তাদের মধ্যে অনেকে আবার শয়তানের প্ররোচনায় তা ভুলে যায়। তাই ইসলামে নাবালেগ কোন শিশুকে কাফের বলার সুযোগ নেই। কারণ বালেগ হওয়ার পর যদি স্বেচ্ছায় শিরকে লিপ্ত হয়,তখন তাদের কাফের বলা যাবে।
বালেগ হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা ঈমানদার। কিন্তু এরপর কেউ কাফের, কেউ ইহুদি, কেউ খৃষ্টান কিংবা অন্য ধর্মে চলে যায়। তাই প্রত্যেকের কলবের ভিতর আল্লাহপাক আমানত রেখেছেন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।আবার শুধু আল্লাহকে মানলে ইমানদার হবেন না, রাসূল (সা:) কেও মানতে হবে। ইবাদত হবে আল্লাহর আর পদ্ধতি হবে রাসূলের। রাসূল (সা:) এর পদ্ধতি ছাড়া ভিন্ন পদ্ধতির ইবাদত আল্লাহ কবুল করবেন না।
আল্লাহ পাক আমাদের রাসূল (সা:) এর পদ্ধতিতে ইবাদত করার তৌফিক দিন। আমিন।

লেখক: ব্যুরোচিফ, বাংলাভিশন চট্টগ্রাম

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট