চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

বাসে পকেটমার চক্রের ‘ডিটারজেন্ট পাউডার’, খপ্পরে পড়লাম আমিও!

২৯ মে, ২০২৩ | ৪:৪৪ অপরাহ্ণ

পকেটমারের খপ্পরে পড়লাম আমি। ব্যক্তিগত কাজে খাতুনগঞ্জ গিয়েছিলাম সকাল ১১টায়। এরপর দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে চাক্তাই থেকে কিছু শুঁটকি ক্রয় করে রিক্সা নিয়ে চাক্তাই তুলাতলিতে আসলাম। উদ্দেশ্য বহদ্দারহাট বাজার থেকে কিছু মাছ ক্রয় করে অক্সিজেন-এ বাসায় যাবো। তাই সিএনজি টেক্সি ভাড়া না করে খালি লোকাল রাইডার বাসে ওঠলাম। দেখলাম কালামিয়া বাজারে এসে গাড়িতে অনেক যাত্রী ওঠলো। আমি স্বাভাবিকভাবে বসে রইলাম। এরপর রাহাত্তারপুল এসে দেখলাম হঠাৎ আমার ও পাশের যাত্রীর মাথার ওপর একজন ডিটারজেন্ট পাউডার শরীরের উপর ফেললো। আমরা দু’জনে বোকার মতো হয়ে রইলাম। কে ফেললো পাউডার তা মোটেই কোন যাত্রী খেয়াল করেননি। আমি দাঁড়িয়ে উঠে টিস্যু দিয়ে পাউডারগুলো ঝাড়লাম, একলোক দেখি উল্টাপাল্টা কথা বলতেছে।
এদিকে তাকাতেই আমার পকেট থেকে নগদ টাকা নিয়ে একলোক গাড়ি থেকে চম্পক দিল, আমি প্যান্টের পকেটে হাত দেখি টাকা নেই! গাড়ি থেকে তাড়াতাড়ি নেমে পড়লাম। দেখি- পকেটমার লাপাত্তা। মজার বিষয়- পকেটমার গাড়ি থেকে নামার পর দৌঁড় দেওয়ার অবস্থা দেখে এক সিএনজি অটোরিকশা ড্রাইভার তাকে ফলো করলো। বুঝতে পারলো সে ছিনতাইকারী। দেখলো ডিভাইডার পার হয়ে বহদ্দারহাট এক কিলোমিটারের দিকে চলে যেতে। ড্রাইভার আমাকে জিজ্ঞেস করলো- আপনার মোবাইল চুরি হয়েছে নাকি? আমি বললাম না, টাকা নিয়ে গেছে। বললো চলেন- পিছন দিকে যাই। গাড়িতে ওঠেন, গাড়ি এক কিলোমিটার এলাকায় থানার সামনে গিয়ে দেখি পকেটমার রিক্সা নিয়ে আরামে চলে যাচ্ছে। ড্রাইভার বললো- ওইতো পকেটমার, ধরেন। সিএনজি অটোরিকশাটি রিক্সার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। আমি লাফ দিয়ে পকেটমারকে ঝাপটে ধরলাম, শার্টটা ছিড়ে গেল, গা ঝারা দিয়ে টাকা সব রাস্তায় ফেলে দৌঁড় দিল। আমি আর সিএনজি অটোরিকশা ড্রাইভার ভাই টাকাগুলো কুড়িয় নিলাম। আর মানুষ হা করে দাঁড়িয়ে আছে! ডিটারজেন্ট পাউডার ফেলে পকেট মারার সিস্টেম কোনদিন শুনিনি। আসলে সাবধানতার কোন বিকল্প নেই। ধন্যবাদ সিএনজি অটোরিকশা ড্রাইভার ভাইকে।

লেখক: ব্যাংক কর্মকর্তা

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট