চট্টগ্রাম সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

সর্বশেষ:

ইরানে রেজিম চেঞ্জ ও মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলের যুদ্ধ

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সফল হবেন কী?

ইরানে রেজিম চেঞ্জ ও মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলের যুদ্ধ

আবসার মাহফুজ

১৩ মার্চ, ২০২৬ | ১২:২৪ অপরাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে যুদ্ধ নতুন কিছু নয়। কিন্তু এমন কিছু যুদ্ধ আছে, যেগুলো শুধু একটি রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ নয়; বরং একটি পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, অর্থনৈতিক কাঠামো এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য পুনর্গঠনের প্রকল্প হিসেবে দেখা হয়। ইরানের ওপর সর্বশেষ চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন সেই ধরনের এক ঘটনার দিকেই ইঙ্গিত করছে। বহু বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি থামানোর উদ্যোগ নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র নতুন করে আঁকার এক বৃহত্তর ভ‚রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। প্রশ্ন হলো- এই পরিকল্পনা কি বাস্তবে সফল হতে পারে, নাকি এটি অঞ্চলটিকে আরও গভীর অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবে?

 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবনে হামলা, তাঁকে প্রায়ই সপরিবারে হত্যা এবং দেশটির শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক আঘাত ও হত্যা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্যাটেলাইট চিত্রে ধোঁয়া, ধ্বংসস্তূপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছবি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। ইরানের মতো একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক রাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এমন সরাসরি আঘাত কেবল সামরিক পদক্ষেপ নয়; এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা- যে কোনো মূল্যেই মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।

 

ঘটনাটি আরও বিস্ময়কর এই কারণে যে হামলার সময় ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে পারমাণবিক আলোচনাও চলছিল। জেনেভা ও ওমানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান এমন একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যার মাধ্যমে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে কমিয়ে আনা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ এলবারাদেই বহুবার বলেছেন, ক‚টনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক সংকট সমাধান সম্ভব ছিল এবং সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। কিন্তু আলোচনার মাঝখানে সামরিক হামলা প্রমাণ করে যে সংঘাতের পেছনে আরও গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের’ বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বারবার বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর ‘ন্যাশন বিল্ডিং’ বা অন্য দেশের সরকার পরিবর্তনের অভিযানে জড়াবে না। কিন্তু সম্প্রতি মধ্যরাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রিক উঠিয়ে নেওয়া এবং বাস্তবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার মাধ্যমে সেই অবস্থানের সঙ্গে এক ধরনের বিরোধ দেখা যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলাকে ‘প্রতিরোধমূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, এই ব্যাখ্যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিক পোর্টার মনে করেন, ‘প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ’ ধারণাটি প্রায়ই একটি রাজনৈতিক কৌশল, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য হুমকিকে বর্তমানের সামরিক পদক্ষেপের নৈতিক যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাঁর মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিঃসন্দেহে একটি উদ্বেগের বিষয়, কিন্তু সেটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বৃহত্তর ভ‚রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করলে তার ফলাফল অনিশ্চিত হয়ে ওঠে।

 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাবি করে আসছেন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেওয়া তাঁর বিখ্যাত ভাষণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বক্তব্য- সব জায়গাতেই তিনি ইরানকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন। ফলে বর্তমান সংঘাতকে অনেকেই নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি ধাপ হিসেবে দেখছেন। এই প্রেক্ষাপটে ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ ধারণাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। যদিও এটি কোনো আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় নীতি নয়, তবুও ইসরায়েলের কিছু ডানপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি ভূরাজনৈতিক কল্পনার কথা বলে আসছে, যেখানে ইসরায়েলের প্রভাব নীল নদ থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। মার্কিন কূটনীতিক মাইক হাকাবির সাম্প্রতিক মন্তব্যÑ যেখানে তিনি এমন বিস্তৃত প্রভাবের সম্ভাবনাকে অস্বীকার করেননি-এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

 

তবে বাস্তবতা হলো, মধ্যপ্রাচ্যের মতো জটিল অঞ্চলে একক শক্তির আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত কঠিন। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তববাদী তত্ত্বের অন্যতম প্রবক্তা জন মিয়ারশাইমার বহুবার বলেছেন, কোনো আঞ্চলিক শক্তি যদি অতিরিক্ত আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে, তাহলে অন্য শক্তিগুলো স্বাভাবিকভাবেই তাকে প্রতিরোধ করতে একত্রিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসও সেই বাস্তবতাই দেখিয়েছে।

 

ইরান দীর্ঘদিন ধরে ‘অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার’ বা অসম যুদ্ধ কৌশলে দক্ষতা অর্জন করেছে। তাদের সরাসরি সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের তুলনায় কম হলেও আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা অনেক বেশি। লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের বিভিন্ন শিয়া মিলিশিয়া, ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন- এই সব গোষ্ঠীর মাধ্যমে ইরান এমন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা পুরো অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

 

সামরিক বিশ্লেষক অ্যান্থনি কর্ডেসম্যানের মতে, ইরানের শক্তি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাদের আঞ্চলিক জোট ও নেটওয়ার্কই আসল শক্তি। ফলে ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা মানেই পুরো অঞ্চলজুড়ে বহুমাত্রিক সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হওয়া।

 

ইতিমধ্যে সেই বাস্তবতার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কয়েক দিনের মধ্যেই দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার অর্থনীতিতেও তা গভীর প্রভাব ফেলবে।

 

গালফ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। দুবাইয়ে হামলা, সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে আঘাত এবং কাতারের গ্যাস রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে যে সংঘাতটি দ্রুত আঞ্চলিক রূপ নিচ্ছে। যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের তেল সংকটের মতো একটি বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

 

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের ভ‚মিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গত এক দশকে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথ অস্ত্র উৎপাদনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী সামরিক-অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব তৈরি হয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় অস্ত্র আমদানিকারক এবং ইসরায়েল তার গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারীদের একটি।

 

বিশ্লেষক আজাদ এসার মনে করেন, পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে ইসরায়েলের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদার এখন ভারত। এই সম্পর্ক কেবল অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি প্রযুক্তি, শ্রমবাজার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি বিস্তৃত কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। গাজা যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের প্রবেশ সীমিত হওয়ায় ইসরায়েলে ভারতীয় শ্রমিক নেওয়ার পরিকল্পনাও সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

 

তবে প্রশ্ন হলো-এই সমীকরণ কি সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি বা স্থিতিশীলতা আনতে পারবে? ইতিহাস বলছে, বাইরের শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপ প্রায়ই অনাকাক্সিক্ষত ফল বয়ে আনে। ইরাক যুদ্ধ তার একটি বড় উদাহরণ। ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক আক্রমণের অজুহাত ছিল গণবিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংস এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু বাস্তবে সেই যুদ্ধ ইরাককে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার মধ্যে ঠেলে দেয় এবং অঞ্চলজুড়ে নতুন সংঘাতের জন্ম দেয়।

 

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ স্টিফেন ওয়াল্ট মনে করেন, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো অঞ্চলে স্থায়ী স্থিতিশীলতা আনা খুবই কঠিন। কারণ, রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হলে তা দ্রুত নতুন সংঘাতের জন্ম দেয়। তাঁর মতে, ইরানের মতো একটি বড় রাষ্ট্র যদি হঠাৎ করে ভেঙে পড়ে, তাহলে তা সিরিয়া বা লিবিয়ার চেয়েও বড় মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে।

 

ইরান একটি বহুজাতিক, বহুভাষিক রাষ্ট্র। পারস্য, কুর্দি, আজারি, আরব ও বেলুচ জনগোষ্ঠী নিয়ে গঠিত এই রাষ্ট্রের ভৌগোলিক ও সামাজিক কাঠামো অত্যন্ত জটিল। যদি কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এবং আঞ্চলিক সংঘাত দ্রুত বিস্তার লাভ করতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে লাখ লাখ শরণার্থী ইউরোপ ও এশিয়ার দিকে ছুটে যেতে পারে।

 

তবে ইরান সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে- এমন ধারণাও অনেক বিশেষজ্ঞ প্রশ্নবিদ্ধ মনে করেন। ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বহু সংকটের মধ্যেও টিকে থাকার ক্ষমতা দেখিয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে দীর্ঘ আট বছরের যুদ্ধ, কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-পরও রাষ্ট্রটি টিকে আছে।

 

এই বাস্তবতায় অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, বর্তমান সংঘাত দ্রুত কোনো একক ফলাফলে পৌঁছাবে না। বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী এক ধরনের অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে, যেখানে সরাসরি যুদ্ধের পাশাপাশি প্রক্সি সংঘাতও চলতে থাকবে।

 

সব মিলিয়ে দেখা যায়, ইরানের ওপর সামরিক আঘাত শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে অভিযান নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার কাঠামো নির্ধারণের একটি প্রচেষ্টা। কিন্তু ইতিহাস, ভ‚রাজনীতি এবং আঞ্চলিক বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না।

 

মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলানোর চেষ্টা অতীতেও হয়েছে, কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রেই তা পরিকল্পনামাফিক সফল হয়েছে। বরং অনেক সময় সেই প্রচেষ্টা আরও বড় অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিও হয়তো সেই একই বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে- যেখানে শক্তির রাজনীতি, জ্বালানি স্বার্থ এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্ব›িদ্বতা মিলিয়ে বিশ্ব আবারও এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

 

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- এই যুদ্ধ কি সত্যিই নতুন মধ্যপ্রাচ্য তৈরি করবে, নাকি এটি আরেকটি দীর্ঘ সংঘাতের সূচনা মাত্র। ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতা কোনো একক শক্তির পরিকল্পনা অনুযায়ী বদলায় না। বরং এখানে প্রতিটি পদক্ষেপ নতুন প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। সেই প্রতিক্রিয়ার ঢেউ কত দূর পর্যন্ত পৌঁছাবে, তা হয়তো এখনো কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।

 

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট