চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

আবসার মাহফুজ

২১ জানুয়ারি, ২০২৬ | ২:৩৬ অপরাহ্ণ

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) ১৪ জানুয়ারি প্রকাশিত গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট-২০২৬ চলতি বছরের কিছু ঝুঁকির কথা বলেছে। রিপোর্টে নতুন প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক ব্যবস্থায় প্রবেশের প্রেক্ষাপটে ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত ২০২৬ খ্রিস্টাব্দের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর পরের চারটি ঝুঁকি হলো- রাষ্ট্রভিত্তিক সংঘাত, চরম আবহাওয়া, সামাজিক মেরূকরণ এবং ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। যার ফলে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা আরও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। স্বল্পমেয়াদে অর্থনৈতিক ঝুঁকিই সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি উভয়ই ওপরে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে উদ্বেগ তীব্রভাবে বেড়েছে। স্বল্পমেয়াদে পরিবেশগত ঝুঁকির অবস্থান কিছুটা কমেছে। বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে নেতৃবৃন্দ ও বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি ক্রমেই হতাশাব্যঞ্জক হয়ে উঠছে। জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেক বিশেষজ্ঞ আগামী দুই বছরকে অস্থির সময় হিসেবে দেখছেন, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। আরও ৪০ শতাংশ মনে করছেন, পরিস্থিতি অন্তত অস্বস্তিকর থাকবে। মাত্র ৯ শতাংশ স্থিতিশীলতা এবং ১ শতাংশ ‘শান্ত’ পরিস্থিতির প্রত্যাশা করছেন। আগামী ১০ বছরের পূর্বাভাস আরও উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা দীর্ঘ মেয়াদে বিশ্বপরিস্থিতিকে অস্থির বা ঝোড়ো মনে করছেন।
ডব্লিউইএফ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত সরবরাহ শৃঙ্খল, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে এই ঝুঁকিকে বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টির সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন ১৮ শতাংশ উত্তরদাতা। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও বর্গে ব্রেন্ডে বলেছেন, ‘প্রধান শক্তিগুলো যখন নিজেদের প্রভাবক্ষেত্র নিশ্চিত করতে চাইছে, তখন একটি নতুন প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। এই পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় সহযোগিতা আগের মতো না থাকলেও সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও সংলাপের মনোভাব এখনও অত্যাবশ্যক। প্রতিবেদনটি তিনটি সময়সীমায় ঝুঁকি বিশ্লেষণ করেছে। এগুলো হলো- তাৎক্ষণিক (২০২৬), স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদ (আগামী দুই বছর) এবং দীর্ঘমেয়াদ (আগামী ১০ বছর)। ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধ স্বল্পমেয়াদেও প্রথম স্থানে রয়েছে। গতবছরের তুলনায় এটি আটধাপ ওপরে এসেছে। রাষ্ট্রভিত্তিক সশস্ত্র সংঘাত ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, দুই বছরের সময়ে এটি নেমে পঞ্চম স্থানে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিকট ভবিষ্যতে সশস্ত্র সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্ত্রায়ন এবং সামাজিক বিভাজন একসঙ্গে তীব্র হচ্ছে। এসব তাৎক্ষণিক ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি ও পরিবেশগত অবনতি থেকে দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও তৈরি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিশ্ব-অর্থনীতি আজ আর কেবল বাজার, মুদ্রা কিংবা প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। অর্থনীতি এখন ক্ষমতার ভাষা, ক‚টনীতির হাতিয়ার এবং অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধের বিকল্প রূপ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট-২০২৬ যে বাস্তবতাকে সামনে এনেছে, তা হলো-ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত এখন বিশ্বের প্রধান ঝুঁকি। এই ঝুঁকি শুধু উন্নত দেশগুলোর কৌশলগত দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নয়; এর অভিঘাত সরাসরি আঘাত হানছে বৈশ্বিক সরবরাহশৃঙ্খল, বাণিজ্যব্যবস্থা, বিনিয়োগপ্রবাহ এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির ভঙ্গুর ভিত্তির ওপর। অর্থনৈতিক অঞ্চলভিত্তিক প্রতিযোগিতা, নিষেধাজ্ঞা, শুল্কযুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অস্ত্রায়ন মিলিয়ে পৃথিবী এক নতুন, অনিশ্চিত ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে সহযোগিতার জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
ভ‚-অর্থনৈতিক সংঘাতের মূল বৈশিষ্ট্য হলো-রাষ্ট্রগুলো সামরিক শক্তির পরিবর্তে অর্থনৈতিক উপকরণ ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। শুল্ক আরোপ, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, প্রযুক্তি রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক লেনদেনে বাধা, এমনকি মুদ্রা ও ঋণব্যবস্থাকেও চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান প্রযুক্তি ও বাণিজ্যদ্ব›দ্ব, রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রাজনীতি কিংবা ইউরোপের শিল্পনীতিতে আত্মনির্ভরতার প্রবণতা-সবই এই ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতার অংশ। এসব সংঘাতের ফল হিসেবে বিশ্ব-অর্থনীতি ক্রমশ খণ্ডিত হচ্ছে, গড়ে উঠছে আলাদা আলাদা অর্থনৈতিক ব্লক, যেগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখছে।
এই প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক অঞ্চল ধারণাটিও নতুনভাবে ব্যাখ্যা হচ্ছে। একসময় অর্থনৈতিক অঞ্চল মানে ছিল মুক্তবাণিজ্য, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্পায়নের কেন্দ্র। এখন অর্থনৈতিক অঞ্চল অনেক ক্ষেত্রে ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে। কোন অঞ্চল কোন জোটের সঙ্গে যুক্ত হবে, কোন সরবরাহশৃঙ্খলে অন্তর্ভুক্ত থাকবে, কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে-এসব সিদ্ধান্ত আর নিছক অর্থনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত। ফলে বিশ্ববাণিজ্যব্যবস্থার বহুপাক্ষিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা কার্যকরভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারছে না, আর দেশগুলো দ্বিপাক্ষিক বা আঞ্চলিক চুক্তির দিকে ঝুঁকছে, যা বৈশ্বিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থাকে আরও ভঙ্গুর করে তুলছে।
ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনে যেভাবে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাতকে বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টির সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিশেষজ্ঞ। এর অর্থ হলো-অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি কিংবা আর্থিক অস্থিরতা আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এগুলো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও কৌশলগত দ্বন্দ্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা ইউরোপের শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে উন্নয়নশীল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পর্যন্ত প্রভাব ফেলেছে। একইভাবে, লোহিতসাগর বা দক্ষিণ চীনসাগরের উত্তেজনা সরবরাহশৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটিয়ে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়াচ্ছে, যার বোঝা শেষপর্যন্ত ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।
এই ভ‚-অর্থনৈতিক বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। তারা একদিকে বৈশ্বিক বাজার ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে বড় শক্তিগুলোর দ্বন্দ্বে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা সীমিত। অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সময় তাদের এখন হিসাব করতে হচ্ছে-কোন জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিরাপদ, কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি থাকবে, কোন বাণিজ্যপথ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই। এই অনিশ্চয়তা বিনিয়োগসিদ্ধান্তকে ধীর করছে, উন্নয়নপরিকল্পনাকে জটিল করে তুলছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ঋণঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আরও উদ্বেগজনক হলো, ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাতের সঙ্গে সামাজিক মেরুকরণ ও ভুল তথ্যের বিস্তার একে অপরকে শক্তিশালী করছে। অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে সমাজে অসন্তোষ বাড়ে, রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র হয়, আর তখন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও প্রোপাগান্ডা সহজে প্রভাব বিস্তার করে। এর ফল হিসেবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়, নীতিনির্ধারণ আরও স্বল্পমেয়াদি ও প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। ডব্লিউইএফের জরিপে নেতৃবৃন্দের হতাশাব্যঞ্জক দৃষ্টিভঙ্গি এই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ-তারা বুঝতে পারছেন, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব আরও অস্থির ও খণ্ডিত হয়ে পড়বে।
তবে এই অন্ধকার বাস্তবতার মধ্যেও একেবারে আশার আলো নিভে যায়নি। ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট বর্গে ব্রেন্ডে যে কথাটি জোর দিয়ে বলেছেন, তা হলো-সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও সংলাপের প্রয়োজনীয়তা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। প্রশ্ন হলো, সেই সহযোগিতা কীভাবে সম্ভব হবে এমন একসময়ে, যখন আস্থার সংকট গভীর এবং প্রতিযোগিতা তীব্র? এর উত্তর সহজ নয়, কিন্তু কিছু মৌলিক নীতিতে ফিরে যাওয়া জরুরি। প্রথমত, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বাণিজ্যব্যবস্থাকে পুরোপুরি নিরাপত্তার চশমা দিয়ে দেখা বন্ধ করতে হবে। নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু অতিরিক্ত সুরক্ষাবাদ শেষপর্যন্ত সবার জন্যই ক্ষতিকর। দ্বিতীয়ত, বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার জরুরি, যাতে তারা নতুন বাস্তবতায় কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে পারে। তৃতীয়ত, উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দিতে হবে, কারণ বৈশ্বিক সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় মূল্য তারা দিচ্ছে।
বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এই ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চল, রপ্তানিখাত, প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ-সবই বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত। তাই পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক নীতির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। একদিকে বহুমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক গড়ে তোলা, অন্যদিকে কোনো একক জোটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো-এই ভারসাম্যই হতে পারে টিকে থাকার কৌশল। একইসঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে নতুনভাবে ভাবতে হবে, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো যৌথভাবে বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারে।
শেষপর্যন্ত বলা যায়, ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত কোনো সাময়িক ঝড় নয়; এটি নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থার স্থায়ী বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে। প্রশ্ন হলো- এই সংঘাত কি বিশ্বকে দীর্ঘস্থায়ী বিভাজনের দিকে নিয়ে যাবে, নাকি নতুনধরনের সহযোগিতার পথ খুলে দেবে? উত্তর নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কূটনৈতিক প্রজ্ঞা এবং অর্থনীতিকে আবার মানুষের কল্যাণের কেন্দ্রে ফেরানোর ওপর। চলতি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি আমাদের সামনে যে সতর্কবার্তা দিচ্ছে, তা উপেক্ষা করলে মূল্য দিতে হবে সবাইকে- ছোট-বড়, ধনী-গরিব নির্বিশেষে। তাই এখনই প্রয়োজন বাস্তববাদী, দায়িত্বশীল ও সহযোগিতামুখী দৃষ্টিভঙ্গি, যা ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণে এনে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আবার স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট