চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ৯:৫৮ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

ভয়াবহ অপরাধ থেকে পরিত্রাণ কোন পথে!

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশে হত্যা-আত্মহত্যা-ধর্ষণ-চুরি-ডাকাতি-সন্ত্রাস-ছিনতাই-প্রতারণা-ভূমিদখল-অর্থ ও মাদক পাচার-দুর্নীতি-চাঁদা ও টেন্ডারবাজি-কিশোর গ্যাং অপসংস্কৃতিসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরামূলক অপতৎপরতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃশ্যত বহুলাংশে স্বাভাবিক থাকলেও উদ্ভূত বেপরোয়া ভয়ংকর সব অপরাধের কারণে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ উদ্বিগ্ন। নগর-শহর-প্রান্তিক জনপদে ধনী-গরিব নির্বিশেষে রাজনীতিক-ডাক্তার-শিক্ষক-সাংবাদিক-পর্যটকসহ কেউই নানামাত্রিক অপরাধের কদর্য এ রাহুগ্রাস থেকে নিস্তার পাচ্ছে না।

এ কারণে জানমালের নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহতা কঠিন রূপ পরিগ্রহ করছে। জনশ্রুতি মতে, আইনের শাসনের দুর্বলতা, অর্থলিপ্সু কতিপয় রাজনীতিক-প্রতিষ্ঠানপ্রধান-জননিরাপত্তা প্রশাসনের অবৈধ-অনৈতিক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য জনমনে অনাস্থার দুর্ভেদ্য প্রাচীর নির্মাণ করছে। ক্রমান্বয়ে দেশের সমগ্র অঞ্চলে জনগণের জীবন-জীবিকা ও আর্থ-সামাজিক পরিবেশে বৈরী পরিস্থিতি ক্ষোভের সঞ্চার পরিলক্ষিত হচ্ছে।

প্রায়োগিক কর্মকৌশল অবলম্বন ও যথার্থ বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ না করে অপরাধের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে সরকারের পক্ষ থেকে এর রাশ টানতে না পারলে পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে যেতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। অপরাধবিজ্ঞানীদের মতে, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা তথা সংশোধনমূলক কার্যক্রমের অপ্রতুলতা, দীর্ঘ সময়ব্যাপী চলা বিচার কার্যক্রম, কারাগারের অব্যবস্থাপনা, জঘন্য অপরাধীর সঙ্গে কিশোর অপরাধী বা নতুন অপরাধীদের এক সেলে রাখা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ইত্যাদি কারণে কোনো অপরাধী একবার কারাগার থেকে বের হয়ে পরবর্তী সময়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে অপরাধ জগৎকে কুৎসিত বলয়ে রূপান্তরিত করছে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২১ সালে ডিএমপির আট বিভাগে অপরাধের মামলা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৬১টি, সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে মাদক নিয়ে। এরপর রয়েছে চুরি-ছিনতাই-ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা। ডিএমপি এলাকায় গত বছরে ১৬৬টি খুনের ঘটনা ঘটে, যা ২০২০ সালের তুলনায় ৫৩টি কম।

বিভিন্ন অপরাধে ২০২১ সালে মোট গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার ৩৬৯ এবং মামলা হয় ২২ হাজার ৬৭৩টি। ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছিল মিরপুর ও গুলশান থানায়। ডিএমপির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অপরাধের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন এলাকায়। ওই এলাকায় ধর্ষণ, ডাকাতি, দস্যুতা, ছিনতাই, চুরি, গাড়ি চুরি ও মাদক উদ্ধারের ঘটনা বেশি ঘটেছে। ঢাকা বিভাগের অপরাধের এ চিত্র থেকে কিছুটা হলেও দেশের সামগ্রিক অপরাধের দৃশ্যাদৃশ্য সহজেই আঁচ করা যাচ্ছে, যা দেশের জন্য বেশ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে কয়েক বছর ধরে হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেলেও ২০২২ সালের শুরু থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে খুনের ঘটনা। গত ২ এপ্রিল গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুসারে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে সাতজন করে মোট হত্যাকাণ্ড ঘটেছে প্রায় চার শতাধিক।

পুলিশ বাহিনীর ভাষ্যমতে, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার-ব্যক্তিগত বিরোধ, জমিজমা দখল, পারিবারিক কলহ, আর্থিক লেনদেনে সমস্যা, মাদক এবং ক্ষেত্রবিশেষে রাজনৈতিক কারণে দেশজুড়ে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে সারা দেশে খুনের ঘটনা ঘটেছে ৪৫ হাজার ১৪৬টি। ওই পরিসংখ্যান মতে, দেশে ২০২১ সালে ৩ হাজার ৪৫৮টি, ২০২০ সালে ৩ হাজার ৫৩৯টি, ২০১৯ সালে ৩ হাজার ৬৫৩টি, ২০১৮ সালে ২ হাজার ৬১৭টি এবং ২০১৭ সালে ৩ হাজার ৫৪৯টি হত্যাকাণ্ড হয়েছিল।

হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে এমন অপরাধের মধ্যে ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে ধর্ষণ একটি অন্যতম অপরাধে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করেও একে অবদমন করা যাচ্ছে না। গত ৫ জুলাই প্রকাশিত বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সারা দেশে ধর্ষিত হয়েছে ৪৭৬ নারী।

ধর্ষণের পর খুন হয়েছে ২৪ এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছে ছয়জন। এছাড়া ৭২ নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা জেলায় সর্বাধিক ৪৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। নারায়ণগঞ্জে ৩৭টি, চট্টগ্রামে ২৭, গাজীপুরে ২২ ও নোয়াখালী জেলায় ঘটেছে ১৫টি। ২৭ মার্চ ২০২২ তারিখ গণমাধ্যমে প্রকাশিত জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের প্রতিবেদনে ২০২১ সালে দেশে মোট ১ হাজার ১১৭ শিশু ধর্ষণের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুসারে, একক ধর্ষণের শিকার ৭২৩ জন, দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ১৫৫ জন, প্রতিবন্ধী শিশু ১০০ জন এবং অন্যান্য ১৩৯ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

বিজ্ঞজনের মতে, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্বল ভূমিকা, পারিবারিক শিক্ষার অভাব ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে কিশোররা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তৈরি হচ্ছে কিশোর গ্যাং। এ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরাই একসময় বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত করে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই থেকে শুরু করে হত্যাসহ নানা অপরাধে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য জড়িয়ে পড়ছে। তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে মাদক ও দখলবাজিতে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে কিশোররা।

সময়ের আবর্তনে তাদের অপরাধের ধরনও বদলে যাচ্ছে। ৪ জুলাই ২০২২ গণমাধ্যমে প্রকাশিত র‌্যাব সদর দপ্তর সূত্রমতে, দেশে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে র‌্যাব ৬০৮ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। তন্মধ্যে ৩০ জনকে অর্থদণ্ড এবং ১০ জনকে মুচলেকা দিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির মতে, শুধু ২০২১ সালেই গ্রেফতার হয়েছে ২৯০ জন কিশোর এবং ২০১৯ সালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবন, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ১২৯ কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

কিশোর গ্যাংয়ের পাশাপাশি পথশিশুদেরও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করছে মানুষরূপী দানবদের সংঘবদ্ধ চক্র। পথশিশুদের একটি বিরাট অংশ শৈশবেই খুন-চুরি-ছিনতাই-মাদক বিক্রি-নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধ অবলীলায় করে যাচ্ছে।

১৬ মে ২০২২ গণমাধ্যমে প্রকাশিত পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১১ লাখ পথশিশু কোনো না কোনো অপরাধে জড়িত। তাদের ৪৪ শতাংশই মাদকাসক্ত। কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তথ্যমতে, কেন্দ্রে অবস্থানরত ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সি কিশোরদের ২০ শতাংশ হত্যা এবং ২৪ শতাংশ কিশোর নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকসেবন-ক্রয়-বিক্রয়, অস্ত্র ব্যবহার-ব্যবসা ইত্যাদি জঘন্য অপরাধে জড়াতে বিশেষ মহল কর্তৃক প্রতিনিয়ত প্ররোচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিসংখ্যান মতে, পথশিশুদের ৮৫ শতাংশই মাদকসেবন করে। এর মধ্যে ১৯ শতাংশ হেরোইন, ৪৪ শতাংশ ধূমপান, ২৮ শতাংশ বিভিন্ন ট্যাবলেট ও আট শতাংশ ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশা করে থাকে। তাছাড়া মিছিল-মিটিং, বিভিন্ন রাজনৈতিক শোডাউন কিংবা হরতালের পিকেটিংয়ে, ভাঙচুর কিংবা ককটেল নিক্ষেপের মতো বিপজ্জনক কাজে পথশিশুদের ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন শপিংমল, বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশগুলোতে গড়ে ওঠা ছিনতাইকারী চক্রের অধিকাংশ সদস্যই পথশিশু।

সম্প্রতি ছিনতাই বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে সামাজিক অপরাধ বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক গণমাধ্যমে বলেন, ‘যারা কর্মহীন বা বেকার, তাদের একটা অংশ ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাই কর্মহীনদের জন্য কর্মের ব্যবস্থা করলে অনেকেই এমন অপরাধ থেকে বেরিয়ে আসবে।

আর যারা ছিনতাইকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়ে মানুষকে আঘাত করছে, হত্যা করছে বা বিভিন্নভাবে জখম করছে, তাদের অবশ্যই আইনের মুখোমুখি করতে হবে। আর যাতে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে আবার একই অপরাধে না জড়াতে পারে, সেই ব্যবস্থাও নিতে হবে। যে বা যারা ছিনতাইয়ের শিকার হয়, কেবল তারাই বোঝে এমন ঘটনার শিকার হলে তার মধ্যে কেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই ছিনতাইকে বড় ধরনের অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মাদকাসক্তদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ পুরুষ, ১৬ শতাংশ নারী। সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে নারী ও শিশু-কিশোররাও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। অবৈধ মাদক আমদানির জন্য প্রতিবছর ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি মুদ্রা বিদেশে পাচার হচ্ছে বলে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞ গবেষকদের মতানুসারে, মাদকের সঙ্গে অপরাধ ও অপরাধীর নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। সাধারণত মাদকসেবীরা মাদক সংগ্রহে অর্থের জোগান দিতেই ছিনতাই, এমনকি খুন করতেও দ্বিধাবোধ করে না। গবেষণা মতে, মাদকদ্রব্যের ব্যবহারের ফলে ‘মাদকের প্রতিক্রিয়া’ বা ‘ফার্মোকোলোজিক্যাল ইফেক্টে’ মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা অধিকতর গুরুতর অপরাধ সংঘটনে ন্যূনতম কুণ্ঠাবোধ করে না।

মাদকাসক্ত একজন মানুষ হিতাহিত জ্ঞানশূন্যতায় শ্বাশত বিবেকের বিপরীতে অশুভ-অবরুদ্ধতার বেড়াজালে আটকা পড়ে। নেশার টাকা জোগাড়ে স্ত্রীকে হত্যা, বাবা-মাকে জবাই করা, নেশাখোর বাবা মাদক সংগ্রহে ব্যর্থ হয়ে নিজ সন্তানকে খুন কিংবা সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে।

অপরাধ-সমাজবিজ্ঞানী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের দাবি অনুসারে-ক্রিস্টাল আইস, ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিলসহ সব ধরনের মাদকের সহজপ্রাপ্যতা অপরাধের পরিসংখ্যানকে দীর্ঘায়িত করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ-মাদক ব্যবসায়ীদের কঠিনতম শাস্তির বিধান কার্যকর করে কঠোর হাতে এদের দমনে ব্যর্থ হলে সমাজ অন্ধকারের গভীর গহ্বরে নিপতিত হবে-নিঃসন্দেহে তা বলা যায়।

মিয়ানমারসহ সীমান্তে বিভিন্ন মাদকের প্রবেশপথ বন্ধ ও আশ্রিত রোহিঙ্গাসহ মাদক চোরাকারবারি-সরবরাহকারীদের দীর্ঘ সময়ের জন্য কারাগারে নিক্ষেপ করা না গেলে সমাজের সার্বিক গতিশীলতা রুদ্ধ হয়ে পড়বে। কিশোর-তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সৃজন-মনন-সাংস্কৃতিক-উদ্ভাবনী প্রকল্প-উৎপাদনমুখী কর্মযজ্ঞের বিকল্প পন্থা আবিষ্কার অনিবার্য হয়ে পড়েছে। সমুদয় ক্ষেত্রে সরকার-সরকারের সব সংস্থা-পরিবার-সমাজ ও সাধারণ জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় উল্লেখ্য সংকট উত্তরণে সম্ভাব্য পথপ্রদর্শনে যৌক্তিক-নির্লোভ-নির্মোহ ইতিবাচক ভূমিকাই মুখ্য। তথ্যসূত্র: যুগান্তর

লেখক: ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, শিক্ষাবিদ; সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

পূর্বকোণ/সাফা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট