চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সর্বশেষ:

চোরাপথে আসছে নিন্ম মানের চা পাতা

সয়লাব সীমান্তের হাটবাজার উদ্বিগ্ন বাগান মালিকরা

কামরুল ইসলাম

১৩ মে, ২০১৯ | ২:৪১ পূর্বাহ্ণ

চোরাপথে আসা নি¤œমানের চা পাতায় সয়লাব হয়ে গেছে সীমান্ত এলাকার হাট-বাজার। প্রতিদিন ওপার থেকে বস্তায় বস্তায় চা পাতা প্রবেশ করছে বিভিন্ন সীমান্ত পথে। বাগান মালিকরা এতে উদ্বিগ্ন।
আগেও দক্ষিণ এবং উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান হয়ে আসতো চা পাতা। কিন্তু তখন এত ব্যাপক ছিল না। সাম্প্রতিক সময়ে তা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এমন কি রামগড়, ছাগলনাইয়া, সিলেট, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্ত পথেও দেদার ঢুকছে। বিপণন সংশ্লিষ্টরা জানালেন, আগে আরও অন্যান্য পণ্যের সাথে ছিঁটেফোটা কিছু চা পাতা আসতো। তার তেমন কোন প্রভাব পড়তো না দেশীয় পাতার বাজারে। বর্তমানে সীমান্তের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে সংকট তৈরি করেছে চোরাচালান হয়ে আসা নি¤œমানের পাতা। দামে কম এবং অল্প পাতায় চা হয় অধিক পরিমানে। তাছাড়া, এপারে বাজার তৈরির জন্য ওপার থেকে নানা কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক নিলামে অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজন জানালেন, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার হাটেবাজারে দেশীয় চা পাতার বাজার একেবারে কমে গেছে। আগে যেখানে সপ্তাহে দেড় হাজার কেজি থেকে দু’হাজার কেজি পাতার চাহিদা ছিল, বর্তমানে সেখানে তার অর্ধেকও নেই। কোন কোন এলাকায় একেবারে বিক্রি নেই দেশীয় চা পাতা। অথচ অবাধে বিক্রি হচ্ছে প্রতিবেশী দেশের বিভিন্ন ব্রান্ডের পাতা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দক্ষিণের সাতক্ষীরা, যশোরের ঝিনাইদহ, কালিগঞ্জ, শার্শা, উত্তরাঞ্চলের রংপুর, পঞ্চগড়, বৃহত্তর সিলেটের চুনারুঘাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, ফেনির ছাগলনাইয়া, খাগড়াছড়ির রামগড় সীমান্ত পথে দেদার চোরাচালান হচ্ছে চা পাতা। বিজিবির হাতে প্রায় সময়ে ধরা পড়ে চোরাপথে আসা এই পণ্যটি। কিন্তু যে পরিমানে প্রবেশ করে সেই তুলনায় তা অতি নগণ্য। দেশীয় প্যাকেট চা বিপণনকারীরা সম্প্রতি দর বৃদ্ধি করেছে। এই সুযোগে বাজার সম্প্রসারণ করতে চোরাচালান আরও রমরমা হয়েছে। অত্যন্ত খারাপ অবস্থা সিলেটের চুনারুঘাট এলাকায়। সীমান্তবর্তী এই উপজেলার চিমটিবিল এবং গুইবিল সীমান্তের ৪টি এলাকা দিয়ে বানের স্রােতের মত ঢুকছে। বস্তায় বস্তায় আসছে একেবারে নির্বিঘেœ। চুনারুঘাট থেকে ট্রাকভর্তি হয়ে পাতা চলে যায় স্থানে স্থানে। চিমটিবিল- আমু চা বাগান সড়ক, আমু চা বাগান-কালিশিরি সড়ক এবং আমু চা বাগান-আমু রোড বাজার সড়ক পথে আসছে প্রচুর। চা বাগান এবং পাহাড় ঘেরা এলাকা হওয়ায় সেখানে চোরাচালান জমজমাট। কেবল চুনারুঘাট নয়, দেশের আরও বিভিন্ন সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারিদের কাছে অধিকতর লাভজনক পণ্য হল চা পাতা।
এভাবে চোরাপথে বস্তাভর্তি চা পাতা প্রবেশে উদ্বিগ্ন এক বাগান মালিক বললেন, গত কয়েক বছরে বিপুল বিনিয়োগ করেছেন তিনি কারখানা আধুনিকায়ন, নতুন বাগান এবং নার্সারি তৈরি ও সেচ খাতে। যেভাবে প্রতিবেশী দেশ থেকে চোরাচালান হয়ে পাতা আসছে তাতে এই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তিনি আশা করেন যে চা শিল্প রক্ষায় পাতার চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। নতুবা ব্যাংকের ঋণ শোধ দূরে থাক, সুদের টাকাও নিয়মিত পরিশোধ সম্ভব হবে না বলে আশংকা করেন তিনি।
গত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রাম নিলামে চায়ের দর ভাল থাকায় প্রায় সব বাগানে নতুন বিনিয়োগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট ( বিটিআরআই ) উদ্ভাবিত উন্নত জাতের অধিক ফলনশীল গাছ রোপন, আধুনিক কারখানা এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ হয়েছে। তাতে উৎপাদন বেড়েছে এবং গুণগত মানও উন্নত হয়েছে। অপরদিকে, চা শিল্পকে সুরক্ষা দিতে চা আমদানিতে চড়া হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট