
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম আট দিনেই দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এই সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৯৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলের প্রথম আট দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭১৮ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৫৬ কোটি ডলার। ফলে বছরওয়ারি হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ দশমিক ৫ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষায় রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতেও সহায়ক।
এর আগে গত মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়। ওই মাসে দেশে আসে প্রায় ৩৭৭ কোটি ডলার, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, সরকারের প্রণোদনা সুবিধা এবং প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধি— এই তিনটি কারণে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। পাশাপাশি হুন্ডির মতো অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা কিছুটা কমে আসায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার হারও বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্স নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
পূর্বকোণ/আরআর