
সম্প্রতি শিশু–কিশোরীদের ওপর ঘটা নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর শফিকুর রহমান। এর পেছনে ক্ষমতায় মত্ত একটি রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টাতা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। আজ শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
শফিকুর রহমান লিখেছেন, ঢাকায় ৬ বছর বয়সী শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা, নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর খুন এবং হাজারিবাগে স্কুল ছাত্রীকে হত্যা; এই ঘটনাগুলো গোটা জাতিকে স্তম্ভিত করেছে।
তিনি লিখেছেন, এসব ঘটনায় আমরা নগ্ন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ক্ষেত্র বিশেষে প্রশাসনের চরম শৈথিল্য লক্ষ্য করছি। অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করার বদলে ধর্ষকের রক্ষক হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে এলাকা ছাড়া করতে চাওয়ার মত মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের দুঃসাহস ক্ষমতায় মত্ত একটি দলের নেতারা কিভাবে দেখাতে পারে?
জামায়াত আমির লিখেছেন, শিশু তাহিয়া হত্যার পর কার বা কাদের ইশারায় একে ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলো? কারা এখন সেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে? এরা কারা এবং তাদের উদ্দেশ্য কী- জনগণের কাছে আজ তা স্পষ্ট।
তিনি লিখেছেন, দলীয় পদবি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্যাতিতদের দমিয়ে রাখা এবং নিপীড়কদের রক্ষা করা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশের সংস্কৃতি হতে পারে না।
জামায়াত আমির লিখেছেন, আমাদের কথা সুষ্পষ্ট, ইনসাফের প্রশ্নে কোনো আপস চলবে না। অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে স্বচ্ছ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
শফিকুর রহমান আরও লিখেছেন, আমি মরহুমাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা দেশের সকল মজলুমের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শামিল থাকবো, ইনশাআল্লাহ।
পূর্বকোণ/এএইচ