
বাসাবাড়িতে এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও প্রাণহানি। মূলত গ্রাহকদের অসাবধানতা, ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহার এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারের কারণেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। একটু সচেতন হলে এই বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গ্যাস লিক শনাক্ত করাই প্রতিরোধের প্রথম ধাপ। সিলিন্ডার থেকে পচা ডিমের মতো উৎকট গন্ধ বের হলে বা তীক্ষ্ণ ‘হিসহিস’ শব্দ শোনা গেলে বুঝতে হবে গ্যাস লিক হচ্ছে। এছাড়াও ঘরের গাছ হঠাৎ মরে যাওয়া কিংবা পরিবারের সদস্যদের হঠাৎ মাথা ঘোরা ও বমি ভাব হওয়াও গ্যাস লিকের লক্ষণ। লিক পরীক্ষা করতে হোসপাইপ বা রেগুলেটরে সাবান-পানির ফেনা ব্যবহার করা যেতে পারে; লিক থাকলে সাবানের বুদবুদ বড় হয়ে উঠবে।
দুর্ঘটনা এড়াতে অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে সিলিন্ডার কেনা এবং প্রতি ১০ বছর অন্তর এটি পুনরায় পরীক্ষা করা জরুরি। সিলিন্ডার সর্বদা সমতলে সোজা করে রাখতে হবে এবং চুলা থেকে অন্তত ৩ ফুট দূরত্বে স্থাপন করতে হবে। রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং দাহ্য পদার্থ সিলিন্ডার থেকে দূরে রাখা বাঞ্ছনীয় ।
গ্যাসের গন্ধ পাওয়া মাত্র আতঙ্কিত না হয়ে সবার আগে চুলার নব ও সিলিন্ডারের রেগুলেটর বন্ধ করতে হবে। এ সময় কোনোভাবেই দেশলাই জ্বালানো বা বৈদ্যুতিক সুইচ অন-অফ করা যাবে না, কারণ সামান্য স্ফুলিঙ্গ থেকেও বড় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। দ্রুত দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে এবং সিলিন্ডারে সেফটি ক্যাপ লাগিয়ে প্রয়োজনে নিরাপদ খোলা স্থানে সরিয়ে নিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, আবদ্ধ স্থানে বাতাসের তুলনায় মাত্র ৪.৫ শতাংশ গ্যাস জমা হলেই তা ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। ব্যক্তিগত সচেতনতাই পারে এই ঝুঁকি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে।
পূর্বকোণ/কায়ছার/পারভেজ