
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেশের অন্তত ২৬টি জেলায় ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু এবং ৩৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
নির্বাচনের তিন দিন পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ বিজ্ঞিপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে ‘তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছে সংস্থাটি।
নিহতদের মধ্যে মুন্সিগঞ্জের জসিম উদ্দিন ও বাগেরহাটের ওসমান সরদার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন। ময়মনসিংহে এক শিশুকে তার বাবা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী হওয়ায় সুপারি চুরির মিথ্যা অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুইজন এবং ভোলায় আওয়ামী লীগের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজ এক রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সিরাজগঞ্জে পুলিশের গুলিতে এক দিনমজুর গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সহিংসতার শিকার জেলাগুলোর মধ্যে ভোলা, নাটোর, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, যশোর ও ঢাকার কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ হামলার শিকার হয়েছেন। ঘরবাড়ি ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনার পাশাপাশি নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক নারীর ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এমএসএফ সতর্ক করেছে যে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতাকে আরও উসকে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে।
পূর্বকোণ/কায়ছার /পারভেজ