
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদল আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বাদল দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে ময়মনসিংহের স্বদেশ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
শেরপুর জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান জানান, রাত ১০টার দিকে অসুস্থতা বেড়ে গেছে বাদলকে প্রথমে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ময়মনসিংহে নিয়ে স্বদেশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবরে শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী উপজেলায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল এবং এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।
শেরপুর-১ সদর আসনে জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, নুরুজ্জামান বাদলের প্রথম নামাজে জানাজা বুধবার বেলা ২টায় শেরপুর শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্কে এবং দ্বিতীয় জানাজা বিকাল ৫টায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে । জানাজা শেষে তাকে শ্রীবরদী পৌর শহরের পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হবে।
জানাজায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সামিউল হক ফারুকীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নুরুজ্জামান বাদলসহ মোট পাঁচজন প্রার্থী শেরপুরের এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, এ আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম এখন বাতিল হয়ে যাবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর বৈধভাবে মনোনীত কোনো প্রার্থী মারা গেলে গণবিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার নির্বাচন কার্যক্রম বাতিল করতে হবে।
বৈধ প্রার্থীর (বাছাইয়ের টিকে থাকলে) মৃত্যুর বিষয়টি কমিশনকে জানাবেন রিটার্নিং অফিসার। ইসি এ নির্বাচনি এলাকার জন্য নতুন তফসিল ঘোষণা করবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে নির্বাচন অনুষ্ঠানে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
তবে আগে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, তাদের পরবর্তী কার্যক্রমে নতুন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে না এবং জামানতের অর্থও জমা দিতে হবে না।
সেক্ষেত্রে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট হবে।
পূর্বকোণ/এএইচ