
জেফরি এপস্টেইন কেলেঙ্কারি মূলত প্রয়াত মার্কিন ধনকুবের এবং দণ্ডিত অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সাথে বিশ্বের প্রভাবশালী রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও রাজকীয় ব্যক্তিদের গোপন সম্পর্কের একটি বিশাল নথি ফাঁসের ঘটনা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এই সংক্রান্ত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নতুন নথি প্রকাশ করার পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
কেন এটি নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে?
এই কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মূল কারণ হলো এতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র পাওয়া গেছে: নথিতে দাবি করা হয়েছে যে, বিল গেটস রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এবং এপস্টেইনের কাছে মাদক চেয়েছিলেন। অন্যদিকে, ইলন মাস্ক এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপের ‘বন্য পার্টি’ সম্পর্কে ইমেইলে জানতে চেয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এক নারী যৌন হেনস্তার নতুন অভিযোগ এনেছেন। ওই নারীর দাবি, এপস্টেইন তাঁকে অ্যান্ড্রুর সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য লন্ডনে পাঠিয়েছিলেন।
এফবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, এপস্টেইন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করতেন এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। এছাড়া সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যা নিয়ে তাঁর বিতর্কিত তত্ত্ব এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফরে এপস্টেইনের কথিত মধ্যস্থতার দাবি বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এই নথিতে নাম আসার জেরে ইতিমধ্যেই স্লোভাকিয়ার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিরোস্লাভ লাজকাক পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
মূলত ক্ষমতা, যৌন অপরাধ, এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের এক জটিল জাল এই নথির মাধ্যমে উন্মোচিত হওয়ায় এটি বর্তমানে বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে অভিযুক্ত অনেক পক্ষই এসব দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
পূর্বকোণ/কায়ছার/পারভেজ