
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। তবে এবারের নির্বাচনে প্রচারণার চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের কঠোর আচরণবিধি। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে একগুচ্ছ বিধিনিষেধ জারি করেছে কমিশন।
তফসিল অনুযায়ী, ২৯৮টি সংসদীয় এলাকায় ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত । অর্থাৎ ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগেই সকল প্রকার প্রচার কার্যক্রম সমাপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রতিটি প্রার্থী প্রচারণায় সমান অধিকার পাবেন, তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জনসভা বা প্রচারণায় বাধা প্রদান, ভয়ভীতি দেখানো বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা নিষিদ্ধ।
পরিবেশ রক্ষায় এবার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচারণায় কোনো প্রকার পলিথিন, প্লাস্টিক বা রেক্সিনের মতো অপচনশীল দ্রব্য ব্যবহার করা যাবে না। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যতীত ব্যানার ও ফেস্টুন হতে হবে সাদা-কালো রঙের। এছাড়া ১০ ফুট বাই ৪ ফুটের বেশি ব্যানার এবং ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চির বেশি ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে না, যেখানে প্রার্থীর ছবি ও প্রতীক ব্যতীত অন্য কারো ছবি থাকবে না।
দেয়াল লিখন, তোরণ নির্মাণ এবং গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি বা যানবাহনে প্রচারণা সামগ্রী সাঁটানো আইনত দণ্ডনীয়। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে ট্রাক, বাস, নৌযান বা মোটরসাইকেল নিয়ে কোনো শোডাউন বা মশাল মিছিল করা যাবে না। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এমন সড়কে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ এবং বিদেশের মাটিতে প্রচারণা চালানো যাবে না। বিশেষ করে ধর্মীয় উপাসনালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রচারণার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে চেহারা বিকৃতি, ভুল তথ্য বা ঘৃণা ছড়ানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে চলবে ভোটগ্রহণ। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যেই এই কঠোর বিধিমালা প্রণয়ন করেছে নির্বাচন কমিশন।
পূর্বকোণ/কায়ছার