চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬

আপিলে ভোটে ফিরলেন ২০ প্রার্থী, বাদ একজন

আপিলে ভোটে ফিরলেন ২০ প্রার্থী, বাদ একজন

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১২:০৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাদ পড়াদের মধ্যে আপিল করে ভোটে ফিরেছেন ২০ জন প্রার্থী। আবার বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে বাদ পড়েন বিএনপির একজন। গতকাল সোমবার পর্যন্ত ১৬ আসনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১২১ জনে। আজ মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন। আগামীকাল বুধবার চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

 

বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে আপিল শুনানিতে বাদ পড়েন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। তার বিরুদ্ধে হলফনামায় ঋণখেলাপের তথ্য গোপন করার অভিযোগ করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন। আর বাদ পড়াদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৯ (বাকলিয়া-কোতোয়ালী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক আপিলে মনোনয়ন ফিরে পান।
তফসিল মতে, ২৯ ডিসেম্বর ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ সময়। চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ১৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে ৪২ জনের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসাররা। ১০১ জন প্রার্থীকে বৈধ হিসেবে ঘোষণা করেন তিন রিটার্নিং অফিসার।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনজন। নগরের ৫টি (চট্টগ্রাম-৪, ৫, ৮, ৯ ও ১০) আসনের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন। জেলার ১০টি (চট্টগ্রাম-১, ২, ৩, ৬, ৭, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬) আসনের রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। চট্টগ্রাম-১১ আসনের রিটার্নিং অফিসার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন চৌধুরী।

 

মনোনয়ন বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীদের অনেকেই রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করেন। আবার বৈধ প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন করেন। ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আপিল শুনানিতে ২০ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া বিএনপির এক বৈধ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

 

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার। তার মনোনয়ন বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ইসিতে আবেদন করেন প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন। গত ১৮ জানুয়ারি আপিল শুনানির শেষদিনে সরোয়ারের মনোনয়ন বাতিল করে ইসি। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

 

অপরদিকে, চট্টগ্রাম-৯ (বাকলিয়া-কোতোয়ালী) আসনে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে জামায়াতের প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হকের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার। রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আবেদন করেন তিনি। সেখানে প্রথম দফা শুনানিতে তার মনোনয়ন বাতিল বহাল রাখা হয়। পরে দ্বিতীয় দফা আপিলে মনোনয়ন ফিরে পান ডা. ফজলুল হক।

 

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে ১৭ প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকারকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়। ১৭ জানুয়ারি ওই আসনে গিয়াস কাদের চৌধুরীকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। অপরদিকে, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ওই আসনে এখন পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থী নেই। তবে সরোয়ার আলমগীর ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন করেছেন বলে জানান।

 

আজ মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ১৬টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। আগামীকাল (২১ জানুয়ারি) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করবেন প্রার্থীরা।

 

 

পূর্বকোণ/এএইচ

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট