
বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে খেলা বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় আছেন ক্রিকেটাররা। বৃহস্পতিবার সর্বশেষ ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে করা সংবাদ সম্মেলনে ৫টি দাবির কথা উত্থাপন করা হয়েছে।
উত্থাপিত দাবিতে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের সংকট, নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগে বিসিবির অবস্থান, বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ, নারী ক্রিকেটে সুযোগ-সুবিধাসহ বিপিএলে ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার সন্দেহে ৯ ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি সমাধানের দাবিও করা হয় তাতে।
সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, ‘মাঠে যাবো শর্ত একটাই, বিসিবি থেকে যদি কমিটমেন্ট করে যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই লোক (এম নাজমুল ইসলাম) বিসিবিতে থাকবে না। যদি থাকে, তখন ক্রিকেটাররা খেলা বন্ধ করলে সেটার দায়ভার তাদের ওপর যাবে না। সম্পূর্ণ দায়িত্ব বিসিবি নেবে। যদি তাদের পক্ষ থেকে সেরকম ঘোষণা আসে তখন।’
আজকের বিপিএল ম্যাচ নিয়ে মিঠুন বলেছেন, ‘আজকের ম্যাচটা বাতিল হয়েছে। জানিনা দ্বিতীয় ম্যাচ হবে কিনা। তবে বোর্ডের কাছে অনুরোধ থাকবে দর্শকদের যারা টিকিট কেটে এসেছেন। পরে তারা যেন এই ম্যাচটা ফ্রিতে দেখতে পারেন। আর বোর্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য আসেনি। এলে তখন মিডিয়াকে জানিয়ে দেবো।’
মূলত বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের পর থেকেই এমন অবস্থানে গেছেন ক্রিকেটাররা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দোয়া ও মিলাদ মাহফিল আয়োজন করে। তা শেষ করে বিসিবির পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান নাজমুল ইসলাম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে কেমন আর্থিক ক্ষতি হতে পারে তার একটা ধারণা দেন সাংবাদিকদের। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের নিয়ে বিস্ময়কর মন্তব্য করে আলোচনা-সমালোচনারও জন্ম দেন তিনি।
বিশ্বকাপে না খেললে কতটা আর্থিক ক্ষতি হতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের? এমন প্রশ্ন নাজমুল বলেছেন, কোনও ক্ষতি নেই।
আরেক প্রশ্নে তার মন্তব্য ছিল এমন, ‘আমরা যে ওদের পেছনে এত খরচ করছি, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওরা কিছুই করতে পারছে না। আজ পর্যন্ত আমরা একটাও বৈশ্বিক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি? কোনও একটা জায়গায় আমরা কতটুকু কী করতে পারছি? আমরা তাহলে তো প্রত্যেকবারই বলতে পারি, তোমরা খেলতে পারোনি, তোমাদের পেছনে যা খরচ করেছি, এটা এবার তোমাদের কাছ থেকে আমরা নিতে থাকি, ফেরত দাও।’
পূর্বকোণ/আরআর