
পোস্টাল ব্যালটের প্রতীক বিন্যাস নিয়ে অভিযোগ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, যে পোস্টাল ব্যালটে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের অনেক ভাই-বোনেরা নির্বাচনে তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন। যে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে, তাতেও কেউ মনে করতে পারেন ঘটনাক্রমে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম এবং প্রতীকটা প্রথম লাইনে দেওয়া হয়েছে। অথচ বিএনপির নাম এবং প্রতীক ঠিক মাঝখানে দেওয়া হয়েছে। যেটা ভাজ করলে ভালো করে নজরেই পড়বে না।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা এ নিয়ে কথা বলেছি তাদের (ইসি) সঙ্গে। তাদের কথায় মনে হয়েছে, তারা বিষয়টি ঠিক ওইভাবে খেয়াল করেন নাই এবং অ্যালফাবেটিক্যালি ঠিক আছে কি-না এটাই তাদের কাছে বিবেচনার বিষয় ছিল। কিন্তু আমরা বলেছি, আপনারা এখানে ৫টা লাইন করেছেন, ৫টা কলাম করেছেন এবং ১৪টা লাইন করেছেন যার ফলে ৩টি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের নাম ও প্রতীকটা প্রথম লাইনে এসে গেছে। এটা যদি ৫টা না হয়ে ৬টা কলাম হতো বা ৪টা কলাম হতো, ১৪টার জায়গায় যদি ১২টা বা ১৬টা লাইন হতো তাহলে কিন্তু এই ব্যাপারটা এভাবে সাজানো সুযোগ ছিল না।
তিনি বলেন, সময় সুযোগ থাকলে বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপার আবার সংশোধন করে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছি। পোস্টাল ব্যালট পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় যে পদ্ধতিতে বিতরণ করা হচ্ছে এবং এটা সঠিক হচ্ছে না, এতে কিছু ত্রুটি হচ্ছে। যার নমুনা আমরা দেখেছি বাহরাইনে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতারা অনেকগুলো ব্যালট পেপার হ্যান্ডেল করছে। এটা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে, ভাইরাল হয়ে গেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে সংবিধান অনুসারে নির্বাচনের অধিকার দেওয়া এবং বিগত সরকারের আমলে মামলার কারণে বিদেশে অবস্থানের কারণ দেখিয়ে ‘নির্বাচনের বাইরে রাখা উচিৎ হবে না’।
তিনি বলেন, আমাদের দল না শুধু আরও অন্য দলেরও কিছু প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সংবিধানে যেখানে বলা আছে যে কেউ যদি নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করে তাহলেই তিনি নির্বাচনের জন্য যোগ্য হবে। আমরা দেখছি যে কিছু জায়গায় অফিসার এ ধরনের বিষয়ে প্রার্থীদের প্রার্থিতা অবৈধ করেছেন। এই নির্বাচন কমিশনে যে আপিল হচ্ছে সেখানে কিছু প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে।
তারেক রহমান বের হলে জনসমাগম হয় তাই তিনি কোথাও যাচ্ছেন না বল মন্তব্য করে তিনি বলেন, অনেক দলের প্রার্থীরা জনসমাগম করছে, ভোট চাচ্ছে, এমন কী বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারাও নির্বাচনি আচরণ ভাঙছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান করা হয়েছে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ইসির সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া প্রমুখ।
পূর্বকোণ/এএইচসি/আরআর