
কক্সবাজার জেলার বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পৌর প্রিপারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে প্লাস্টিক পণ্যের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে রবিবার এর আয়োজন করা হয়।
পরে জনসচেতনতায় রাস্তায় প্ল্যাকার্ড হাতে নীরব অবস্থানে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া তারা শপথ নিয়ে বলে ‘রিফিউজ পলিথিন’
এদিন দুপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মিলনায়তনে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে সামুদ্রিক এই জেলায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুরাবস্থার আলোচনায় ব্যক্তি সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে আইন প্রয়োগে কোনো সুফল আসবে না বলে মত জেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইবনে মায়াজ প্রামাণিকের। তার মতে সর্বসাধারণের অপরিচ্ছন্ন জীবন যাপনের কারণেই দেশে ডেঙ্গু, সর্দি ও জ্বরে এত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। তবে প্লাস্টিক পণ্য রিসাইকেলের প্রতি জোর তার। বলেন, গোলটেবিল বৈঠকেও প্লাস্টিক ও পলিথিন পণ্য ব্যবহার বন্ধের প্রতি জোর দেন জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। এ সকল পণ্য ব্যবহার বন্ধে প্রতিটি দফতরকে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান তার।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্যের জন্য প্রতিটা বাড়িতে ভিন্ন ডাস্টবিনের ব্যবস্থা থাকলেও তা কেউ ব্যবহার করছে না। এছাড়া এর ব্যবহার হলেও সিটি করপোরেশন থেকে ময়লা সংগ্রহের পর তা আবার মিশিয়ে ফেলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য শুধুমাত্র জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে না। এর কারণে সামুদ্রিক সম্পদও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমুদ্রে মাছের পরিমাণ দিনদিন কমে যাচ্ছে।
এদিকে, প্লাস্টিকের উৎপাদনে নিয়ন্ত্রণ আনার প্রতি জোর দেন দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান। বলেন, উৎপাদন কমানো না গেলে এর ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব নয়।
তবে স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও এনজিও সংস্থাগুলোর সমালোচনা করেন স্থানীয় সাংবাদিক ও পরিবেশ বিষয়ক কর্মীরা। তাদের মতে, প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশ কাজই লোক দেখানো।
গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগের বিভাগের প্রধান ড. আফতাব হোসেন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল কাবিল খান।
পূর্বকোণ/জেইউ/পারভেজ