চট্টগ্রাম রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪

বেনজীরকে কখন গ্রেপ্তার করা হবে ঠিক করবেন আদালত : কাদের

অনলাইন ডেস্ক

৩১ মে, ২০২৪ | ৭:৪২ অপরাহ্ণ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জনে অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এটার তো একটা প্রক্রিয়া আছে। সেই প্রক্রিয়ায় দুদক তদন্ত করছে। দুদক মামলা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা আদালত ঠিক করবেন, কখন গ্রেপ্তার করবে ও জেলে পাঠাবে। তবে বেনজীরের বিদেশযাত্রার বিষয়টি আমি অবহিত নই।  

শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও বেনজীর আহমেদের মতো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি, এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্নীতি ও লুটপাটের শিরোমণি বিএনপি। দুর্নীতিবাজদের তালিকা করলে বিএনপি নেতাদের নাম সবার আগে আসবে। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশেই গণতন্ত্র পারফেক্ট নয়। আমাদের দেশের গণতন্ত্রও পারফেক্ট দাবি করি না। তবে পারফেক্ট করার পথে আমাদের চেষ্টা আছে, প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে আন্তরিক।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আজ বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা বলে, তাদের গণতন্ত্র ছিল ‘কারফিউ গণতন্ত্র’, ১৫ ফেব্রুয়ারি আর প্রহসনের হাঁ-না ভোট। যেখানে হাঁ ভোট পড়েছিল ১১৪ শতাংশ! এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার করে তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গিয়েছিল, নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রহসন ও তামাশায় পরিণত করেছিল। তাদের মুখে গণতন্ত্রের বুলি হচ্ছে, ভূতের মুখে রাম নাম।
 
মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগে যথাসময়ে সম্মেলন হয়। মির্জা ফখরুল দলের গঠনতন্ত্র ভেঙে আর সম্মেলন না করেই কত বছর কয়বার বিএনপির মহাসচিব হয়েছেন? মহাসচিব পদে মির্জা ফখরুলের কী বৈধ অধিকার আছে? বিএনপির দলের ভেতরেই গণতন্ত্র নেই। তারা দেশের গণতন্ত্র কীভাবে আনবে?
 
‘তারেক রহমান ও খালেদা জিয়া দেশের জনপ্রিয় নেতা’ বিএনপি নেতাদের এমন দাবি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি আমলে হাওয়া ভবন ছিল দুর্নীতি আর লুটপাটের ভবন। এখন তারা দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে! তাদের আমলে দুর্নীতি করা দল এবং প্রশাসনের কাউকে শাস্তি দিয়েছে? আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তদন্ত হচ্ছে। এই সরকার বিএনপির মতো ইমিউনিটি কালচার গড়ে তোলেনি।

নিজের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আমি মন্ত্রী হয়ে যদি দুর্নীতি করি, সেটা কি বিনাবিচারে শেষ হয়ে যাবে? কারা কী করেন- প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব খবর আছে। প্রধানমন্ত্রী তার অফিসেও কিছু ব্যবস্থা নিয়েছেন।

‘দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে আওয়ামী লীগ সরকার’- বিএনপির এমন দাবির প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সারাবিশ্বে অর্থনীতির খারাপ অবস্থা। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতির বেসামাল অবস্থা। সেখানে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশ সামাল দিয়ে যাচ্ছে, ভারসাম্য রক্ষা করছে। দেশের অর্থনীতি যদি ধ্বংস হবে, তাহলে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক কীভাবে বাংলাদেশকে সম্ভাবনার দেশ হিসেবে সাপোর্ট করছে? সেটা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।’

‘বাংলাদেশ সেবাদাস রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে’ বিএনপির এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কে কার সেবাদাস? বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা কারও সেবাদাস নন। বিএনপির মুখের বিষ আরও উগ্র হয়েছে। তারা একরাশ ব্যর্থতার স্তূপীকৃত আবর্জনার ওপর দাঁড়িয়ে মানসিক অশান্তিতে ভুগছে। মানসিক অস্থিরতায় তারা সত্য বলতে ভুলে গেছে, মিথ্যার বেসাতি করে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শামসুন্নাহার চাঁপা, উপ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সায়েম খান প্রমুখ।

পূর্বকোণ/আরআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট