চট্টগ্রাম সোমবার, ২৭ মে, ২০২৪

প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে থাকবে: আইএমএফ

অনলাইন ডেস্ক

১৬ এপ্রিল, ২০২৪ | ১১:৩২ অপরাহ্ণ

ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছরে আরও কমার আভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ); যা ৬ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

 

উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে অর্থনীতির টানাপড়েনের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সরকারের প্রত্যাশা অনুযায়ী যেমন বাড়বে না, তেমনি আর্থিক হিসাব বছর শেষে জনজীবনে মূল্যস্ফীতির চাপও আগের চেয়ে বাড়বে বলে সবশেষ প্রতিবেদনে বলেছে সংস্থাটি।

 

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) আইএমএফ সবশেষ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রকাশ করে। এতে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হওয়ার প্রাক্কলন করেছে। গত অক্টোবরের আউটলুকে যা ৬ শতাংশ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছিল ঋণদাতা সংস্থাটি। এর আগে এপ্রিলের পূর্বাভাসে তা সাড়ে ৬ শতাংশ হওয়ার কথা বলেছিল।

 

‘স্থিতিশীল কিন্তু ধীর: লক্ষ্যচুত্যির মধ্যেও স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তন’ শীর্ষক এপ্রিলের ’ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে’ বাংলাদেশের অর্থনীতির হালনাগাদ তথ্য পর্যালোচনার পর এমন প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে এমন আভাসের কথা বলা হয়েছে।

 

চলতি অর্থবছরে সরকার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। বছর দুয়েক থেকে মূল্যস্ফীতি ও ডলার সংকটের চাপের মধ্যে বাজেটের সময় নির্ধারণ করা এ লক্ষ্য অর্জন নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন অর্থনীতিবিদরা।

 

আইএমএফ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে থাকবে এমন আভাস দিলেও বাংলাদেশের আরেক উন্নয়ন সহযোগী এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি চলতি সপ্তাহেই মনে করছে এ হার হবে ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

 

আর সপ্তাহ দুয়েক আগে বিশ্ব ব্যাংক তাদের পূর্বাভাসে এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছিল।

 

তবে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হওয়ার কথা বলছে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা আইএমএফ।

 

এদিকে আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে দিয়ে যাওয়া বাংলাদেশে চলতি বছর শেষে তা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ হবে। আগামী ২০২৫ সাল শেষে মূল্যস্ফীতির পারদ নামবে ৬ শতাংশে। এর আগে অক্টোবরের পূর্বাভাসে তা ৭ দশমিক ২ শতাংশ হওয়ার কথা বলো হয়েছিল।

 

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি গত কয়েক মাস থেকেই ৯ শতাংশের ঘরে। এ ছাড়া চলতি হিসাবে ভারসাম্যের ঘাটতি অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিবেদনে আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

 

বাংলাদেশে কমলেও বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ছয় মাস আগের দেওয়া প্রাক্কলনের চেয়ে সামান্য বাড়বে বলে আভাস দিয়েছে আইএমএফ।

 

এপ্রিলে এসে সংস্থাটি বলছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি এগোবে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হারে। গত অক্টোবরে এ হার প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৩ শতাংশ। এতে করে আরও এক বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে ধীর গতি দেখা যাবে। তবে ধীরে এগুলেও আগের চেয়ে স্থিতিশীল হবে তা। উচ্চ মূল্যস্ফীতির দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব অর্থনীতিকে টেনে তুলতে জোর লাগালেও চীন ও ইউরোপে চাহিদা কমে যাওয়ার মধ্যে দুই অঞ্চলের যুদ্ধ স্বস্তি দিচ্ছে না। নিউজ: বিডিনিউজ

 

পূর্বকোণ/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট