চট্টগ্রাম রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ছে না কেন?

অনলাইন ডেস্ক

২৪ মার্চ, ২০২৪ | ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব ও বেশি মাইলেজ হওয়ায় সারা বিশ্বেই বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন ও ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ৫০ ভাগ মানুষকে বৈদ্যুতিক গাড়ি সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারও। সরকারের ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সাজানো হয়েছে রোডম্যাপ। কিন্তু ২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশে মাত্র ৭১টি বৈদ্যুতিক গাড়ি নিবন্ধিত হয়েছে। ফলে এখনও আশানুরূপ বাড়েনি বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার। কিন্তু কেন?

 

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে নূন্যতম ৩০ শতাংশ গাড়ি বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তর করতে চায় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। সংস্থাটির হিসাবে, ওই বছরের মধ্যে ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস করতে বৈদ্যুতিক গাড়ি ভূমিকা রাখবে।

 

দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত করতে ২০২৩ সালে ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন করা হয়। বাংলাদেশে ২০২১ সাল থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন শুরু হয়। ২০২১ সালে ছয়টি বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধিত হয়। ২০২২ সালে ৯টি বৈদ্যুতিক গাড়ি নিবন্ধিত হয়। ২০২৩ সালে সব চেয়ে বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন হয়েছে। এ বছর নিবন্ধিত হয়েছে ৫৬টি গাড়ি।

 

দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির সংখ্যা কেন বাড়ছে না, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম অন্যতম বড় একটি বাধা। বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় দামও বেশি। সুবিধা বেশি হলেও উচ্চমূল্যের কারণে অনেকেই কিনতে আগ্রহী হন না। তবে পরিবেশ ও জ্বালানির বিষয়টি বিবেচনা করে অনেক দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি শুল্ক নেই। আবার ব্যবহারকারীদের উৎসাহিত করতে ব্যবহারকারী পর্যায়ের প্রণোদনার বিষয়টি রয়েছে। বাংলাদেশেও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে হলে উচ্চ শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে।

 

বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি অনেকগুলো মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সবগুলো মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নেই কোনও সমন্বয়। ফলে বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার সম্পর্কিত বিষয়গুলো সমন্বিত উদ্যোগে এগোচ্ছে না। বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত, গাড়ির শুল্কর বিষয় অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত, নিবন্ধন ও চলাচল সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীনে চার্জিং স্টেশন, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি ডিসচার্জ বা পরিত্যক্ত হলে ডিজপোজাল নীতিমালা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

 

বাংলাদেশে বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ বেঞ্জ, টেসলা, অডি ও পোর্শের মতো ব্র্যান্ডগুলো বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি করছে। আমদানিকারকরা বলছেন, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। তবে তেলে চালিত গাড়ির তুলনায় দাম বেশি হওয়ায় অনেকের আগ্রহ কম। শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলে ক্রেতারা আগ্রহী হবেন। এছাড়া চার্জিং স্টেশনও কম।

 

যেসব দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ি আছে সেখানে কয়েক কিলোমিটার পরপর বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশনের দেখা যায়। বাংলাদেশ দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশনও উল্লেযোগ্য হারে বাড়েনি। দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য প্রথম চার্জিং স্টেশন স্থাপন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অডি। ২০২৩ সালের আগষ্ট মাসে তেজগাঁও বাণিজ্যিক এলাকায় অডি বাংলাদেশের কার্যালয় প্রাঙ্গণে স্টেশনটি স্থাপন করা হয়। অডি বাংলাদেশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের মধ্যে ১১টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

 

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘শুরুতে বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া যায়নি। এখন ধীরে ধীরে ব্যবহার বাড়ছে। এসজিডির লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট যানবাহনের ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়িতে পরিণত করতে হবে। সরকার বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য একটি পলিসি করছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন দেওয়ার জন্য আমরা ২০২০ সালে বিদ্যমান আইন সংশোধন করেছি। তারপরও আমার বৈদ্যুতিক গাড়ি চলাচল নীতিমালাও করেছি। আশা করছি, পর্যায়ক্রমে ব্যবহার আরও বাড়বে।’তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

পূর্বকোণ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট