চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সর্বশেষ:

অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্রের ৮৬তম প্রয়াণ দিবস আজ

অনলাইন ডেস্ক

১৬ জানুয়ারি, ২০২৪ | ৮:৪০ অপরাহ্ণ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জন্মেছিলেন রবীন্দ্র-প্রতাপকালে। তবু অনায়াসেই বাঙালি পাঠকের হৃদয় জয় করে নিয়েছিলেন স্বমহিমায়। কথাসাহিত্যে এনেছিলেন অভূতপূর্ব জোয়ার। বঙ্কিমচন্দ্রের বহিরাঙ্গিক ঘটনাপ্রবাহ এড়িয়ে রবীন্দ্রনাথের কথাসাহিত্যে মনোজাগতিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া কিংবা মনোবিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি চরিত্র-চিত্রণে ঠাঁই পেয়েছিল। শরৎচন্দ্র বাঙালির চিরায়ত ভাবাবেগের জায়গাটিকে আশ্রয় নিলেন।

 

 তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লি জীবন ও সমাজ। মানুষের জীবনের নানা ভাবাবেগের অপরূপ রূপান্তর তার মতো আর কেউই করতে পারেননি। সমাজ জীবনের বাস্তবতায় তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো আজও তারই মতো অমর। তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে দেবানন্দপুরের হুগলি ব্রাঞ্চ স্কুল ও ভাগলপুরের দুর্গাচরণ এম ই স্কুলে অধ্যয়ন করেন। তারপর টিএন জুবিলি কলেজিয়েট স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাসের পর একই কলেজে এফএ শ্রেণিতে ভর্তি হন। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে তার শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি ঘটে। এরপর তিনি বনেলি স্টেটে সেটেলমেন্ট অফিসারের সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের অনুবাদক এবং বার্মা রেলওয়ের হিসাব দপ্তরের কেরানি পদে চাকরি করেন।

 

তিনি ১৯২১ সালে কংগ্রেসের অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন এবং হাওড়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাহিত্য জগতে সে সময়েই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তিনি একে একে বিন্দুর ছেলে ও অন্যান্য, পরিণীতা, বৈকুণ্ঠের উইল, পল্লীসমাজ, দেবদাস, শ্রীকান্ত (চার খণ্ড), দত্তা, গৃহদাহ, দেনা-পাওনা, পথের দাবী, শেষ প্রশ্ন ইত্যাদি গল্প-উপন্যাস রচনা করেন। বাংলাসহ ভারতীয় বিভিন্ন ভাষায় তার অনেক উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে। তিনি ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় মারা যান।

 

 

পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট