চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সর্বশেষ:

৭ জানুয়ারি ক্ষমতাসীনদের কফিনে শেষ পেরেক পড়বে: গয়েশ্বর

অনলাইন ডেস্ক

৩ জানুয়ারি, ২০২৪ | ১:২৯ অপরাহ্ণ

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ক্ষমতাসীনদের কফিনে শেষ পেরেক পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) রাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজকে একদিকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যু যন্ত্রণায়, আরেক দিকে বন্দি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের বাইরে থেকে পথ দেখাতে পারছেন, উৎসাহ দিতে পারছেন। তাই আন্দোলন সফলে কারো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় নাও থাকতে হতে পারে। তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভায় উপস্থিত ছাত্রদলের একাধিক নেতা জানান, ভোটকে সামনে রেখে নানা দিক-নির্দেশনা দেন বিএনপির হাইকমান্ড। ভোট বর্জনে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার ওপর বেশি জোর দেন। বিএনপিসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাইকে ভোট না দিতে নিরুৎসাহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বলা হয়, বিএনপি কোনো সন্ত্রাসী দল নয়। বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল। এজন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই আন্দোলন সফল করতে হবে। ‘ডামি’ একতরফার যে ভোট হচ্ছে, সেখানে ভোট দেওয়া থেকে জনগণকে বিরত রাখতে হবে। গুপ্ত হত্যার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যরে বিষয়টি উলে­খ করে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সরকার কিছু করে এর দায় বিএনপির ওপর চাপাতে এমন বক্তব্য দিয়েছে। তাই কোন নাশকতা বা কোন ধরনের হামলার ঘটনা সামনে পড়লে তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে হবে। পাঠিয়ে দিতে হবে কেন্দ্রে। সভায় ছাত্রদলের নেতারাও চলমান আন্দোলনের শেষ পরিণতি না দেখে রাজপথ ছেড়ে যাবে না বলে অঙ্গীকার করেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘ছাত্রদের কোনো পিছুটান নেই। তারা সামনে দিকে তাকিয়ে এগিয়ে যায়। আমার এই বিশ্বাস ও আস্থা আছে, আজকের যে ছাত্রদল তারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আন্দোলন ছাত্রদলকেই বাস্তবায়ন করতে হবে। সংগ্রামে জয়ী হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। একদলীয় ডামি নির্বাচন করতে পারলে দেশে গণতন্ত্রের মৃত্যু হবে। তাই এখন রাজপথে নামার শ্রেষ্ঠ সময়। এখন আমরা যদি না জাগি কখনও সকাল হবে না। সবার বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে। গণতান্ত্রিক উপায়েই এমন আন্দোলন করব, যাতে করে ৭ তারিখ ভোটে জনগণ না আসে। বিজয় সুনিশ্চিত।’

সর্বশক্তি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ গ্রেপ্তার এড়াচ্ছে, বিদেশিরা ক্ষমতায় বসাবে না, নিজেদের লড়াই করতে হবে। তোমাদের (ছাত্রদল) কাজ কেউ করে দেবে না। মৌলিক কর্মসূচি দেওয়া হবে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব তোমাদের (ছাত্রদল)। মাঠের শক্তি হচ্ছে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল। পরিকল্পনা ও কৌশলের মাধ্যমে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। না করলে মানবিক বিপর্যয়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। অরক্ষিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে হবে।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘৭ জানুয়ারি তামাশা ও প্রহসনের নির্বাচন হবে। আমরা বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে, এখন একটু শক্ত হতে হবে। আন্দোলনে শক্তির পাশাপাশি বুদ্ধিও খাটাতে হবে। অবিলম্বে সরকারের পতন ঘটাতে হবে। এজনৗ মাত্র কয়েকটা দিন অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই ফ্যাসিষ্ট সরকার হত্যা-গুম-অত্যাচার করে দেশকে নরকে পরিণত করেছে। এই সরকারের পতন না ঘটাতে পারলে সবাই কিন্তু কারাগারে যাব। দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে বিএনপির দিকে। ডামি ও প্রহসনের নির্বাচন হচ্ছে। আন্দোলনে ছাত্রদল হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। অতীতের ন্যায় এখনও সরকার পতন আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে ছাত্রদলকেই।’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন- ছাত্রদলের সাবেক নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপন, রুহুল কবির রিজভী, ফজলুল হক মিলন, নাজিমউদ্দিন আলম, এবিএম মোশাররফ হোসেন, রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, আব্দুল কাদির জুয়েল, হাবীবুর রশিদ হাবিব প্রমুখ। ভার্চুয়াল সভায় কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও সারাদেশের জেলা-উপজেলাসহ তৃনমূলের নেতারা অংশ নেন।

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট