চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সর্বশেষ:

কমেছে অর্থছাড়, বেড়েছে ঋণ পরিশোধের চাপ

অনলাইন ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ | ১১:০৫ অপরাহ্ণ

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে চলছে ধীরগতি। সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের এমন দৈনদশা যেন কাটছেই না। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই ধীরগতির সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা। ফলে বিগত আটটি অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে চলতি (২০২৩-২৪) অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর)। যার প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ে।

 

২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় কমেছে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অর্থছাড় কমলেও বেড়েছে সুদ-আসলসহ ঋণ পরিশোধের চাপ। এসময় ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি। তবে বেড়েছে দাতা সংস্থাগুলোর ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। চলতি অর্থবছর ঋণের প্রতিশ্রুতি বেড়েছে আগের অর্থবছরের তুলনায় ৯২ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের (জুলাই-নভেম্বর) বৈদেশিক ঋণছাড়ের তথ্য প্রকাশ করেছে ইআরডি।

 

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি (২০২৩-২৪) অর্থবছরের পাঁচ মাসে বৈদেশিক অর্থছাড় হয়েছে ২১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে অর্থছাড় এসেছিল ২৪৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ৩৫ কোটি ১৪ লাখ ডলার কম অর্থছাড় করেছে দাতা সংস্থাগুলো।

 

অর্থছাড় কম হলেও বেড়েছে ঋণ পরিশোধের চাপ। সরকার চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে সুদ আসলসহ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে এক হাজার ৪৬৪ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। যেখানে সুদের পরিমাণ ২৩ কোটি ৭৬ লাখ এবং আসল ৬৪ কোটি ২৭ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছিল ৮৪৩ কোটি ৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ, বছরের ব্যবধানে ৬২১ কোটি ৪০ ডলার বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে।

 

তবে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি। গত অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম পাঁচ মাসে সরকার বৈদেশিক বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি পেয়েছিল মাত্র ৪৬ কোটি ১৩ লাখ ডলার। সেখানে চলতি অর্থবছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ৫৮৫ কোটি ৯১ লাখ ডলার। অর্থাৎ, বছরের ব্যবধানে ঋণের প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৫৩৯ কোটি ৭৮ লাখ ডলার।চলতি অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি অর্থছাড় করেছে জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম পাঁচ মাসে দেশ দুটি অর্থছাড় করেছে ৬১ কোটি ৯ লাখ ডলার। যদিও দেশ দুটি থেকে গত অর্থবছরে এসেছিল ৭৪ কোটি ২৭ লাখ ডলার। এসময়ে বিশ্বব্যাংক অর্থছাড় করেছে ৩৮ কোটি ৭৯ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ ডলার কম। ইউরোপ থেকে অর্থ এসেছে ৪৫ কোটি ২৩ লাখ ডলার। এডিবি অর্থছাড় করেছে ৪৪ কোটি ৪২ লাখ ডলার। সংস্থাটি আগের অর্থবছর অর্থছাড় করেছিল ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ডলার।

 

 

পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট