চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

২০ মাসে ৬ লাখের বেশি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস

অনলাইন ডেস্ক

১০ জুলাই, ২০২৩ | ৯:২১ অপরাহ্ণ

২০২১ সালের অক্টোবর থেকে দেড় বছরের কিছু বেশি সময় অভিযান চালিয়ে ৬ লাখেরও বেশি অবৈধ গ্যাস সংযোগ খুঁজে পেয়ে সেগুলো বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস।

এই অভিযানে বকেয়াসহ আদায় হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। জরিমানা ও অতিরিক্ত বিল মিলিয়ে পাওয়া গেছে আরও ১৮০ কোটি টাকার বেশি।

এই অবৈধ সংযোগের সঙ্গে জড়িত থাকায় প্রায় সাড়ে তিনশ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার ঢাকার কারওয়ানবাজারে তিতাস কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানান কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশিদ মোল্লাহ।

তিনি জানান, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ২০ মাসে ২৯ হাজার ৭৪৬টি স্পটে ২৮ হাজার ৩৯৮টি অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ৬৬৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার অবৈধ লাইন উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবৈধ সংযোগ ও বকেয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়েছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৯৭৫টি গ্যাস সংযোগ।

২৫০টি শিল্প কারখানা, ৩২৯টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৫৫টি ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ১০টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে মিটার টেম্পারিংসহ নানা অনিয়ম পাওয়া যায়। পরে সেগুলোর লাইন বিচ্ছিন্ন করলে জরিমানা দিয়ে সংযোগ ফিরে পায় অনেকগুলো।

বকেয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে ১৫০টি শিল্প সংযোগ, ১৩৭টি বাণিজ্যিক সংযোগ, ১১৭টি ক্যাপটিভ সংযোগ ও ৪৩টি ফিলিং স্টেশনের সংযোগ।

তিতাস গ্যাসে এখন আর কোনো চিহ্নিত অবৈধ সংযোগ নেই দাবি করে এমডি বলেন, “আপনারা কোথাও অবৈধ সংযোগের কথা জানতে পারলে আমরা অভিযান পরিচালনা করব।” তিতাসের অবৈধ সংযোগের পেছনে নিজস্ব লোকবলই জড়িত বলে যে অভিযোগ রয়েছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কিছু অভিযোগ সত্য। তবে বাইরের লোকজন বেশি অপকর্ম করছে। ঠিকাদাররাই কাজগুলো করে থাকে।”

তিতাসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশিদ মোল্লাহ বলেন, “আমার সময়ে ৮ জনকে বরখাস্ত করেছি, ১৬ জনকে সাময়িক বরখাস্তসহ ২২৮ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৯১ জনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০ মাসের এই অভিযানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া ২ হাজার ৩৮৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা থেকে আদায় হয়েছে ১ হাজার ৫২৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। বেসরকারি খাত থেকে বকেয়াসহ আদায় হয়েছে ৩২ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। এখনও সরকারি খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি আর বেসরকারি খাতে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া রয়ে গেছে। এসব অভিযান চালাতে তিতাসের খরচ হয়েছে ৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

অতিরিক্ত বিল রয়েছে ৩১২ কোটি ৮১ লাখ টাকা, জরিমানা করা হয়েছে ৯১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে অতিরিক্ত বিল বাবদ আদায় হয়েছে ১৪৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। জরিমানা হিসেবে জমা পড়েছে ৩৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত তাদের ২৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮৪৮ জন গ্রাহক ছিলেন।

এর মধ্যে সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংযোগ ১৭টি, বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংযোগ ৩০টি, ক্যাপটিভ পাওয়ার ১ হাজার ৭১০টি, সার কারখানার সংযোগ তিনটি।শিল্প সংযোগের সংখ্যা ৫ হাজার ৩২২টি, সিএনজি স্টেশনের সংযোগ ৩৯৬টি, বাণিজ্যিক সংযোগ ১২ হাজার ৭৬টি।দেশের সর্ববৃহৎ গ্যাস বিতরণ সংস্থা তিতাসের সবচেয়ে বেশি ২৮ লাখ ৫৬ হাজার ২৪৭টি সংযোগ আছে আবাসিক ভবনে।

 

পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট