চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

বিশ্বে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থী বেড়েছে ৮৮ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ জুন, ২০২৩ | ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ২০২২ সালের ‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস ফোর্স ডিসপ্লেসমেন্ট ইন-২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৯০০ জনে। তাদের নতুন আবেদনকারী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

এতে আরও বলা হয়েছে, শুধু ২০২০ সালেই ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮৮ জন বাংলাদেশি বিভিন্ন বিভাগে নিবন্ধন করেছেন। শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী, উদ্ধার হওয়ারসহ জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার বিভিন্নভাগে বাংলাদেশিরা আশ্রয় প্রার্থনা করছেন। বর্তমানে এ বিশাল সংখ্যক বাংলাদেশি ইউএনএইচসিআরের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। ২০২১ সালে বিশ্বে শরণার্থী হিসেবে ২২ হাজার ৬৭২ জন এবং আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন ৬৫ হাজার ৪৯৫ জন বাংলাদেশি।

 

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১৮ হাজার ৯৫৯ জন বাংলাদেশি নিজেদের শরণার্থী দাবি করে জাতিসংঘের কাছে আবেদন করেছেন। আর ৬৪ হাজার ৬২৪ জন নিজেদের আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে ইউএনএইচসিআরের কাছে নিবন্ধিত হয়েছেন। ৩৪ জন বাংলাদেশি শরণার্থীর মতো পরিস্থিতিতে এবং ৪ লাখ ৭৩ হাজার ২৭১ জন অন্যান্য বিভাগে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার কাছে নিবন্ধিত হয়েছেন।

 

ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তারা জানান, আগের বছরগুলোর তথ্যের সঙ্গে এ বছরের তথ্যের তারতম্য দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হতে পারেন। ২০২২ সালে যেসব বাংলাদেশি আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন তাদের আবেদন একবারে নতুন। একই বছর শরণার্থী, নতুন আবেদনকারী, উদ্ধার হওয়া আশ্রয়প্রার্থীসহ বিভিন্ন বিভাগে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ৫১ হাজার ৯৪৯ জন। সেখান থেকে হিসাব করে বলা হয়েছে- নতুন আবেদনকারী ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। এ বিশাল সংখ্যক বাংলাদেশি বর্তমানে ইউএনএইচসিআরের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

 

এর আগে, ২০২১ সালে ৬৫ হাজার ৪৯৫ জন এবং ২০২০ সালে ৬৪ হাজার ৬২৪ জন আশ্রয়প্রার্থী হিসাবে ইউএনএইচসিআরের কাছে নিবন্ধিত হন। ২০১৯ সালে ইউএনএইচসিআরের কাছে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন ৫৭ হাজার ৯৩৩ জন। ২০১৮ সালে ৭৯ হাজার ৯০০ জন, ২০১৭ সালে ৮৫ হাজার ৩৬ জন।

 

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ ২০ জুন সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব শরণার্থী দিবস। উদ্বাস্তু বা শরণার্থীদের অধিকার, তাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা, নিপীড়ন, অত্যাচার ও দুর্দশার কাহিনি স্মরণে ২০ জুন এ দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও দিবসটি নানা আঙ্গিকে পালন করা হয়।

 

জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বে উদ্বাস্তু বা শরণার্থীর সংখ্যা ৮ কোটি ৯৩ লাখ, যা ভবিষ্যতে আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উদ্বাস্তুদের মধ্যে ২ কোটি ৭১ লাখ  শরণার্থী। বাকিদের কেউ রাষ্ট্রহীন, কেউ আশ্রয়প্রার্থী, কেউ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ। আর এই অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। শরণার্থীদের মধ্যে সিরিয়া ২৭ শতাংশ, ভেনিজুয়েলা ১৮ শতাংশ, আফগানিস্তান ১১ শতাংশ, দক্ষিণ সুদান ৯ শতাংশ এবং মিয়ানমার থেকে ৫ শতাংশ থেকে আগত। এছাড়া ৩০ শতাংশ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আগত শরণার্থী।

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট