চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪

তিন দেশ সফরশেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় বিএনপিকে কেন ডাকব?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা অফিস

১৬ মে, ২০২৩ | ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য বিএনপিকে ডাকার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘কী জন্য ডাকব, কেন ডাকব? বাংলাদেশে এরা আন্দোলন নিয়ে থাকতে চায়, থাকুক। শখে রোদে দাঁড়িয়ে কষ্ট করতে চাইলে, করুক।’

গতকাল সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। তার সাম্প্রতিক জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের অংশীদারত্বের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের ওয়াশিংটন সফরের কথা তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র আঘাতে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ঝড়ের ক্ষতি হ্রাসে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমি নিজে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছি, নানা নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা উপক‚লীয় ১৩টি জেলায় ৭ হাজার ৪০টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছিলাম। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সাড়ে ৭ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পুনবার্সন কার্যক্রম গ্রহণেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সরকার কোনো ‘ভয়ে নেই’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন আসছে বলে ভয় পাবো! কেন ভয় পাবো! আমি জনগণের জন্য কাজ করেছি, জনগণ যদি ভোট দেয় আছি, না দিলে নাই। তিনি বলেন, আমাদের টার্গেট বাংলাদেশের উন্নয়ন, মানুষের জীবনমানের অগ্রগতি। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এক প্রশ্নে সরকারপ্রধান আরও বলেন, ওয়েস্ট-ইস্ট অব ডেমোক্রেসি আমরা ফলো করি। দেখুন, ব্রিটেনে কীভাবে ইলেকশন হয়, তারা কীভাবে করে, আমরা সেভাবেই করবো। এরমধ্যে আমরা এটুকু উদারতা দেখাতে পারি, পার্লামেন্টে সংসদ সদস্য যারা আছেন তাদের মধ্যে কেউ যদি ইচ্ছা প্রকাশ করেন যে নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারে আসতে চান, আমরা নিতে রাজি আছি। এটুকু উদারতা আমাদের আছে, আগেও আমরা নিয়েছি। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালে আমি খালেদা জিয়াকেও আহ্বান (নির্বাচনকালীন সরকারে আসার) করেছিলাম। তারা তো আসেনি। আর এখন তো তারা পার্লামেন্টে নাই। কাজেই ওটা নিয়ে চিন্তারও কিছু নেই।

বিএনপির আন্দোলন বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তারা মাইক লাগিয়ে আন্দোলন করেই যাচ্ছে। সরকার হটাবে। আমরা তো তাদের কিছু বলছি না। আমরা যখন অপজিশনে ছিলাম আমাদের কি নামতে দিয়েছে? গ্রেনেড হামলা করে হত্যা করার চেষ্টা করেছে। আমাদের ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারছে। নির্বাচন ঠেকাতে ৫০০ স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছে। সাড়ে তিন হাজার লোককে আগুনে পোড়ানো হয়েছে। তিন হাজার ৮০০ গাড়ি, ২৭টি রেল, ৯টি লঞ্চ, ৭০টি সরকারি অফিস পুড়িয়েছে। তারা তো জ্বালা-পোড়াওই করে গেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলে দিয়েছি, আন্দোলন করুক কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু জ্বালা-পোড়াও যদি করতে যায়, কোনো মানুষকে যদি আবার পোড়ায়, তাকে ছাড়বো না। মানুষের ক্ষতি আর করতে দেবো না।’

রিজার্ভ নিয়ে দেশে তেমন কোনো সংকট নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন মাসের খাদ্য কেনার মতো ডলার যেন আমাদের হাতে থাকে, সেটা নিয়েই আমাদের চিন্তা। রিজার্ভ নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। তিনি বলেন, আমরা রিজার্ভ নিয়ে বলতে বলতে সবার মাথায় এটা ঢুকে গেছে। আমাদের রিজার্ভ এখনো যা আছে তাতে অন্তত এটুকু বলতে পারি, আমাদের এমন কোনো সংকট এভাবে নাই। তবে আমরা সবসময় রিজার্ভ ধরে রাখারই চেষ্টা করি।
ঘূর্ণিঝড় মোখার আঘাতে দেশের যেসব এলাকায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো ইতিমধ্যে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এমন প্রস্তুতি নিলাম যে, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানারই সাহস পেল না। তবে হ্যাঁ, ঘূর্ণিঝড় একটার পর আবার আসে। সতর্ক থাকতে হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, মহার্ঘভাতা (সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য) বলে কিছু নেই। মূল্যস্ফীতি যত বাড়বে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা একটি পার্সেন্টেজ বেতন বাড়াই। তাছাড়া আমরা অনেক সুযোগ-সুবিধাও দিচ্ছি। বৈশাখী ভাতা থেকে শুরু করে নানা ধরনের ভাতা, ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার লোন। মহার্ঘভাতা দেওয়ার কোনো প্ল্যান নেই। মূল্যস্ফীতি বাড়ায় ক্রয়ক্ষমতার কথা হিসাব করে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও শেখ ফজলুল করিম সেলিম, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পূর্বকোণ/এ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট