চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪

গণতন্ত্র-সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সংবাদপত্র : স্পিকার

৩১ মার্চ, ২০২২ | ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের পূর্বকোণসহ দেশের বহুল প্রচারিত ১৫টি দৈনিক পত্রিকাকে সম্মাননা দিয়েছে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। প্রকাশনার ২৫ বছর পেরোনো সদস্য সংবাদপত্রগুলোকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। গতরাতে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছ থেকে পূর্বকোণের পক্ষে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন সম্পাদক ডা. ম. রমিজউদ্দিন চৌধুরীসহ অন্য পত্রিকার সম্পাদকেরা। এ উপলক্ষে নোয়াব সভাপতি এ. কে. আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সসম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয় গণমাধ্যমকে। বিশ্বায়নের এই যুগে কেউ বিচ্ছিন্ন নয়। সংবাদ সংগ্রহের পর তা আমাদের সামনে পরিবেশন করছে গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের পাওয়া তথ্য আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ জন্য দায়িত্বশীল ও নৈতিকতাসম্পন্ন গণমাধ্যম দরকার। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই পারে সমাজকে পরিবর্তন করতে।
বিশেষ অতিথি ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের চমৎকার সম্পর্ক। সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী; যেকোনো সমালোচনা গ্রহণে প্রস্তুত। তবে সমালোচনার পাশাপাশি উন্নয়ন ও অর্জনের কথাও বলতে হবে। তিনি বলেন, প্রিন্ট মিডিয়ার গুরুত্ব এখনও অন্য সব মিডিয়ার চেয়েও উপরের জায়গায় রয়েছে। অনলাইন কিংবা টিভি থেকে নিত্য খবর জানা হলেও প্রতিদিন ভোরে প্রিন্ট মিডিয়ার খবর না পড়া হলে পরিপূর্ণ হওয়া যায়না।
২৫ বছর পেরোনোয় নোয়াবের সম্মাননা পাওয়া সংবাদপত্রগুলো হচ্ছে- দৈনিক সংবাদ, ইত্তেফাক, আজাদী, পূর্বাঞ্চল, করতোয়া, পূর্বকোণ, ইনকিলাব, ভোরের কাগজ, জনকণ্ঠ, দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের মধ্যে, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সংবাদপত্র তার নিজের অস্তিত্ব বজায় রেখেছে। মিথ্যা ও ভুল তথ্যে ভরা একপাক্ষিক সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থেকে দায়িত্বশীল, নৈতিকতাসম্পন্ন সাংবাদিকতার আহŸান জানিয়ে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আরও বলেন, ‘প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন পোর্টাল, ওয়েব পোর্টাল-নিত্যনতুন কত মাধ্যম! এসব গণমাধ্যম থেকে পাওয়া খবর আমাদের জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। গণমাধ্যমের তথ্য আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সঠিক ও যথাযথ তথ্যের ভিত্তিতেই কেবল ইনফর্ম ডিসিশন গ্রহণ করা সম্ভব। তাই দায়িত্বশীল ও নৈতিকতাসম্পন্ন সাংবাদিকতা একান্ত অপরিহার্য।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘মিডিয়া এথিকস ফলো করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্তমান ভুল, মিথ্যা তথ্যে ভরা সংবাদ পরিবেশন কিভাবে প্রোপ্রাগান্ডা সোশ্যাল মিডিয়াকে মুহূর্তের মধ্যে একাকার করে ফেলে তা আমরা দেখছি। তাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই পারে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্ত আনতে।’
স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের ইতিহাসের সঙ্গে সংবাদপত্রের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে উল্লেখ করে শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের মধ্যে, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সংবাদপত্র তার নিজের অস্তিত্ব বজায় রেখেছে। গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে নোয়াব সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, ডিজিটাল মিডিয়ার আগ্রাসী উত্থানে ছাপা পত্রিকা সংকুচিত হচ্ছে। পাঠক ও বিজ্ঞাপন কমছে। এর মধ্যে টিকে থাকার চেষ্টা করছে ছাপা পত্রিকা। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বিবেচনা করা হয় উল্লেখ করে এ. কে. আজাদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করেছে। এ ক্ষেত্রে বলা হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কথা। এ আইন নিয়ে অনেকে উদ্বেগের কথা বলেছেন। আইনটি সংশোধনের জন্য সংসদে উপস্থাপন করতে নোয়াবের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- সংবাদ সম্পাদক আলতামাশ কবীর, ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. ম. রমিজউদ্দিন চৌধুরী, ইনকিলাব সম্পাদক এ কে এম বাহাউদ্দিন, ভোরের কাগজের পরিচালক কবি তারিক সুজাত, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক এম জাহিদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডেইলী স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম।
অনুষ্ঠনে পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. ম. রমিজউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের সার্বভৌমত্বের পূর্ণ অনুগত্য অক্ষুন্ন রেখে পূর্বকোণ চেষ্টা করে যাচ্ছে চট্টগ্রাম তথা দেশের মানুষের আশা-অকাক্সক্ষা ও সুখ-দুঃখের কথা বলে যেতে। তিনি বলেন, ২০২১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মুজিববর্ষে দৈনিক পূর্বকোণকে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সেরা আঞ্চলিক পত্রিকার স্বীকৃতি প্রদান করেছে। এরআগে, ২০০৪ সালে বিসিডিজেসির পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় এবং এআরডি’র ‘স্থানীয় সরকার উদ্যোগ’ এর সহায়তায় পরিচালিত জরিপে দৈনিক পূর্বকোণকে আঞ্চলিক ‘সেরা দৈনিক’ এর স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এছাড়াও ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের এক জরিপে ৫টি বিভাগীয় শহরের মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বাধিক পঠিত দৈনিক হিসেবে দৈনিক পূর্বকোণের নাম উঠে আসে।
সম্মাননা প্রদানের এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমÐলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরবিক্রম, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। এছাড়া নোয়াব সদস্য, সম্পাদক, সাংবাদিক নেতা, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, কবি-লেখক, রাষ্ট্রদূত, আইনজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নোয়াব সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট