চট্টগ্রাম রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সর্বশেষ:

২২১ জন বাগান মালিকের তথ্যের খোঁজে রাবার বোর্ড

মোহাম্মদ আলী

১৪ জুলাই, ২০২১ | ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ

সরকার থেকে লিজ নেওয়া ২২১ জন রাবার বাগান মালিকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাচ্ছে না বাংলাদেশ রাবার বোর্ড। ১৯৮০-৮১ সালে এসব ব্যক্তি ৪০ বছরের জন্য ২৫ একর করে ৫ হাজার ৫২৫ একর সরকারি জমি লিজ নিলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের মধ্যে কতজন রাবার চাষ করেছে তার কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে তাদের লিজের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। এখনো পর্যন্ত পুনঃনবায়নের জন্য কেউ আবেদনও করেননি। ফলে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছে বাংলাদেশ রাবার বোর্ড। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) সৈয়দা সারওয়ার জাহান দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘বান্দরবানের ২২১ ব্যক্তিকে ১৯৮০-৮১ সালে সংশ্লিষ্ট বান্দরবান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাবার চাষে ৪০ বছরের জন্য ২৫ একর করে ৫ হাজার ৫২৫ একর সরকারি জমি লিজ দেওয়া হয়। তাদের ইজারা মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় তাদের ইজারা নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে গত ৩ জুন বান্দরবান জেলা প্রশাসক বরাবরে চিঠি দিয়েছি।’
সৈয়দা সারওয়ার জাহান বলেন, ‘২২১ জনের মধ্যে কতজন রাবার চাষ করেছে বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের কাছে তার কোন তথ্য নেই। এ কারণে সরকারের রাজস্ব আদায় ব্যাহতসহ প্রকৃত রাবার চাষীরা নিরুৎসাহিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘শুধু বান্দরবান জেলা নয়, এর আগে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটিসহ বিভিন্ন জেলা প্রশাসক বরাবরে রাবার চাষে লিজ নেওয়া ব্যক্তিদের তথ্য জানতে বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ বাংলাদেশ রাবার বোর্ড সূত্র জানায়, ‘বাংলাদেশে ১৯৬৭-৬৮ সাল থেকে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন সরকারিভাবে রাবার চাষ শুরু করে। এরপর ১৯৮০-৮১ সাল থেকে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সরকারি জমি লিজ প্রদানের মাধ্যমে রাবার চাষ শুরু করা হলেও রাবার বাগানের সংখ্যা, লিজ গ্রহিতাদের তালিকা, রাবার বাগান হিসেবে ব্যবহৃত জমির পরিমাণ, জমির অবস্থানসহ বিস্তারিত বিবরণ কোথাও সংরক্ষিত পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ রাবার বোর্ড আইন ২০১৩ (২০১৩ সালের ১৯ নম্বর আইন) অনুবলে ৫ মে ২০২১৩ বাংলাদেশ রাবার বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে আলাদা দপ্তর হিসেবে রাবার বোর্ডের যাত্রা শুরু হয়। এর আগে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের সাথে রাবার বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল।
সূত্র জানায়, রাবার উৎপাদন এবং বিপণনে বিএফআইডিসি ছাড়াও বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ১১টি রাবার বাগান রয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে বান্দরবানের ৩২ হাজার ৫৫০ একর জমি ১৩০৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে (২৫ একর করে জন প্রতি)। বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে ১৮ সদস্যের স্ট্যান্ডিং কমিটি প্রকৃত রাবার চাষীদের মধ্যে জমি লিজ দিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড তিন হাজার ৩০০ একর জমিতে রাবার বাগান করে। এছাড়া বহুজাতিক কোম্পানি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা ২০ হাজার ৮০০ একর জমিতে রাবার চাষ করে।
বাংলাদেশ রাবার গার্ডেন ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘বাংলাদেশে যত রাবার চাষ হয়, তারমধ্যে ৯৫ শতাংশ হয় বান্দরবান জেলায়। এ জেলায় ব্যক্তি মালিকানাধীন রাবার চাষের জমির পরিমাণ হচ্ছে ৩২ হাজার ৫০০ একর। রাবার মালিক রয়েছেন ১৩০৭ জন। এর মধ্যে জমি লিজ নিয়ে চাষ না করাসহ বিভিন্ন কারণে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে ৪০০ জনের লিজ বাতিল করা হয়। পরে এর মধ্যে ১০০ জনের লিজ পুনঃনবায়ন করা হয়।’

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট