চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২

২৮ এপ্রিল, ২০১৯ | ৩:০০ পূর্বাহ্ণ

ওদের হাতেই স্বপ্নের বাংলাদেশ

আনোয়ারা বেগম (৬৫)। মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। এক বছর আগে নিখোঁজ হন তিনি। এর মধ্যে তিনি কোথায়, কিভাবে ছিলেন তা জানতো না পরিবারও। তাঁকে ফিরে পাওয়ার জন্য অনেক খোঁজ করলেও সন্ধান না পাওয়ায় একরকম আশা ছেড়েই দিয়েছিল পরিবার। সীতাকু-ের ছোট দারোগারহাট ধর্মপুর নাজীর মেম্বারের বাড়ির আরাকান হোসেনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম। দেড়বছর আগে আপন ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে টানা দুই মাস অবস্থান করেন। এর কিছুদিন পর তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ভাইয়ের বাড়িতেই জীবনযাপন শুরু করেন আনোয়ারা। এরমধ্যে ২০১৮ সালে কোন এক সময় পরিবারের অগোচরে ঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন আনোয়ারা বেগম। পরিবারও অনেক খোঁজাখুঁজি করে আনোয়ারা বেগমকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়েই দেয়। এরপর একটি বছর রাস্তা-ঘাটেই কেটে যায় আনোয়ারার। গত ২২ এপ্রিল (সোমবার) সন্ধ্যায় নগরীর কদমতলী মোড় এলাকায় রাস্তার

পাশে ধুলো-ময়লায় বস্ত্রহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সানজিদা আফরোজ। সানজিদা আফরোজ পূর্বকোণকে জানান, ওই দিন (২২ এপ্রিল) আমি আমার ব্যক্তিগত কাজে বাসা থেকে বের হই। এরমধ্যে কদমতলী মোড়ে রাস্তার পাশেই ধুলো-ময়লায় ও বস্ত্রহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি।

তাছাড়া উনার পায়ে ও শরীরের কয়েকটি স্থানে ক্ষতের চিহ্নতে মশা-মাছি বসা অবস্থায় দেখে আমি আমার পরিচিত কয়েকজনকে খবর দিই। পরে সেখান থেকে আমরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাই চিকিৎসার জন্য। কিন্তু তার পুরো শরীরে ধুলো-ময়লা এবং মল থাকায় ভর্তি করাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন চিকিৎসকরা। পরে আমরা নিজেরাই হাসপাতালে নিচ তলায় গোসল করিয়ে তারপর ভর্তি করাই। এরমধ্যে মাসুম ভাই পরিচিত এক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে নিয়ে আসলে তিনি আনোয়ারা বেগমকে দেখে চেনেন। পরে মাসুম তাদের বাড়ির খোঁজ নেন।
আনোয়ারা বেগমের একমাত্র মেয়ে আয়েশা আক্তার পূর্বকোণকে বলেন, ‘ভারসাম্যহীনতার কারণে মা আমার মামাদের বাড়িতেই থাকতেন। গত এক বছর আগে তিনি কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে আমরা সবাই তাঁকে অনেক খোঁজাখুঁজি করি। কিন্তু না পাওয়ায় একপ্রকার আশা ছেড়েই দেই। গত বৃহস্পতিবারে মাসুম ভাই আমার শ^শুর বাড়িতে এসে আমার খোঁজ নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি খুলে বলি এবং আজ (গতকাল) মাকে আমাদের কাছে তারা ফিরিয়ে দেন। মানুষ মানুষের জন্য এমন করে তা আগে দেখি নি। তারা (স্বেচ্ছাসেবী) গত এক সপ্তাহে আমার মায়ের সকল চিকিৎসা সেবা দিয়েছে এবং আজও (গতকাল) মেডিকেল থেকে আমাদের বাড়িতে এম্বুলেন্সে করে মাকে বাড়িতে দিয়ে যায়। আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।’
মাসুম ভূঁইয়া পূর্বকোণকে বলেন, এতদিন পর উনাকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। আর যেহেতু তাদের আর্থিক অস্বচ্ছলতা রয়েছে, তাই আনোয়ারা বেগমের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে আর্থিক সহযোগিতাও করবো আমরা।’
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম পূর্বকোণকে বলেন, ‘আমরা যাচাই-বাছাই শেষে আনোয়ারা বেগমকে তাঁর পরিবারে কাছে হস্তান্তর করেছি। এমন কোন পরিবারের কেউ নিখোঁজ হলে আগে যেন হাসপাতালে এসে যোগাযোগ করে। যারা এমন একটি মহৎ কাজ করেছে তাদেরও আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট