চট্টগ্রাম রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪

রেলওয়ের অনলাইন টিকিট সংস্থায় নানা অসঙ্গতি: দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ মে, ২০১৯ | ৩:১৮ অপরাহ্ণ

২২ মে ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি শুরুর দিন থেকে সিএনএস অ্যাপে প্রবেশ করতে না পারা, সার্ভার ডাউন কিংবা হ্যাং এমন নানা অভিযোগ অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মুখে। এমন প্রেক্ষাপটে অনলাইনে বিক্রির আড়ালে টিকিট জালিয়াতি হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে কমলাপুর স্টেশনের সার্ভার কক্ষে হানা দেয় দুদক।
অনলাইন টিকিট বিক্রিতে সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা সিএনএসের কক্ষে অভিযান চালায় দুদকের একটি আইটি এক্সপার্ট দল। বৈধ সময় পার হওয়ার পরও অ্যাপে টিকিট কেটে নেয়াসহ বেশ কিছু অসঙ্গতি তুলে ধরেন তারা।
ইচ্ছাকৃতভাবে সার্ভার হ্যাং করে রাখা হয় কিনা? এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি সিএনএস। দুদক বলছে, রেলের কারিগরি ঘাটতির কারণে সিএনএসকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। দুদকের সহকারী পরিচালক খায়রুল হক বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে তারা সার্ভার লক করে রেখেছে কিনা তার উত্তর তাদের কাছে নেই। এসব অসঙ্গতি নিয়ে রেলের ই-টিকিট নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিএনএস যে ব্যাখ্যা দিয়েছে তাতেও সন্তুষ্ট নয় সংস্থাটি।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ে রেলের অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা ও সিএনএসের শীর্ষ কর্তাদের সাথে ঘন্টাব্যাপী আলোচনার পর সংবাদমাধ্যমে কোনো কিছু না জানিয়ে চলে যায় দুদক দল।
পরে দুদকের সব অভিযোগ অস্বীকার করে সিএনএস ও রেলওয়ে। নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করে অ্যাপ উন্নয়নে নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করলেও রেলওয়ে বলছে, অ্যাপের দুর্বলতার কারণে ঝামেলায় পড়েছেন যাত্রীরা। অ্যাপটি উন্নয়নে নতুন করে চুক্তি করা হচ্ছে বলেও জানায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
দুদকের প্রকৌশলী সোহাগ কুমার দাস বলেন, ৩১ তারিখ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত টিকিট বিক্রি করা হবে। এই টিকিট বিক্রির সময় ১০টা পর্যন্ত। আমরা এখানে এসে দেখলাম টিকিট ১০টার পরও বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী পরিচালক (অপারেশন) মিয়াজাহান বলেন, জনগণের চাহিদার সাথে সেভাবে আমরা এখনো সক্ষম নই। এই সক্ষমতা অর্জনের জন্য রেলওয়ের পরবর্তী ব্যবস্থাগুলো রেলওয়েকে নিতে হবে।
ঈদ টিকিটের প্রায় ৫০ হাজার পাঁচদিনে বিক্রির বরাদ্দ পায় অনলাইন, সোমবার (২৭ মে) দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অবিক্রিত টিকিটের সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার বলে জানায় সিএনএস।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট