
ইরান–ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে। ইরানের দাবি, চলমান সংঘাতে দেশটির ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় হামলার শিকার হয়েছে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে লাখো শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম।
ইরানের বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তিমন্ত্রী হোসেন সিমাই সাররাফ জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির অন্তত ৩০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি হামলার মুখে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএ’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, সামরিক লক্ষ্যবস্তু না হওয়া সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ও গবেষণাসংক্রান্ত অবকাঠামোতে হামলা চালানো হচ্ছে। এতে বিপুলসংখ্যক স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইরানের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য দেশটির বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে দুর্বল করা।
এদিকে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট ও স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তেহরানের শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ভবন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসব হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় না।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলার ঘটনায় তেহরান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরান সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এমন পাল্টাপাল্টি হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের শিক্ষা ও গবেষণা খাত এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ