
ইরানে কয়েক সপ্তাহের স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট রবিবার (২৯ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে।
তারা বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার সেনাকে জড়ো করা হয়েছে। আর এসব সেনাকে দিয়ে কয়েক সপ্তাহব্যাপী ইরানে স্থল হামলা চালানো হতে পারে। তবে এটি অন্য সাধারণ স্থল হামলার মতো হবে না।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, স্থল হামলার যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে সেটি ‘যুদ্ধে নতুন ধাপ’ সৃষ্টি করতে পারে। যেটি মার্কিন সেনাদের জন্য যুদ্ধ শুরুর সময়ের চেয়ে আরও বেশি বিপজ্জনক হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেছেন, এই স্থল হামলা অন্য সাধারণ স্থল হামলার মতো হবে না। এর বদলে ইরানে স্পেশাল ফোর্স এবং কামান সেনারা রেইড দেবে।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইউএসএস ত্রিপোলি জাহাজে করে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ অতিরিক্ত সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় সময় রাতে সেন্টকমের এক্স অ্যাকাউন্টে মার্কিন মেরিন সেনা, যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানের ছবি শেয়ার করে জানানো হয়, ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের এই নাবিক ও মেরিন সেনারা গত ২৭ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে পরিবহন ও স্ট্রাইক ফাইটার বিমানসহ উভচর হামলা (জল এবং স্থল অভিযান) এবং কৌশলগত সামরিক সরঞ্জাম।
এমন এক সময়ে এসব সেনা মোতায়েন করা হলো যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ৮২তম এয়ারবোর্ড ডিভিশন থেকেও আরও হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া নতুন করে আসা এসব সেনা ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও হাজার হাজার সৈন্য।
স্থল হামলার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে খার্গ দ্বীপকে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি হরমুজ প্রণালীল কাছে অবস্থিত একটি দ্বীপ। যেখান থেকে ইরান তাদের ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে। হরমুজ দিয়ে যেন নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে এই দ্বীপটি টার্গেট করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেছেন, সম্ভাব্য এ স্থল হামলার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ হতে পারে। তবে আরেকটি সূত্র বলেছেন, এটি কয়েক মাস ধরে চলতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ মার্কিন সেনা নিহত ও প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
পূর্বকোণ/পিআর