
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন যে ইরানের কাছে ১৫ দফার প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এক সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তা নিশ্চিতও করেছে।
মঙ্গলবার ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, সংঘাত বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ইরানের ভেতরের ‘সঠিক মানুষের’ সঙ্গে কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানিরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ‘খুব করে ধরেছে’ বলেও তার দাবি। “আমরা এখন আলোচনার মধ্যে আছি,” বলেছেন তিনি।
যদিও তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি।
ইরানের পার্লামেন্টের প্রভাবশালী স্পিকার বাকের কালিবাফ সোমবার ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার দেশের আলোচনা সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্র এক মাস লম্বা যুদ্ধবিরতিও চাইছে বলে তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ।
বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে যুক্তরাষ্ট্র যে ইরানের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে তা নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে আর কিছু বলেননি।
এ প্রস্তাবের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিলুপ্ত, আঞ্চলিক সশস্ত্র সহযোগী সংগঠনগুলো থেকে সমর্থন তুলে নেওয়া ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রসঙ্গগুলো আছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমটি।
এসব নিয়ে রয়টার্স ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের মন্তব্য চাইলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরান পারমাণবিক নয় এমন জ্বালানি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড়সড় ছাড় দিয়েছে। তবে এ নিয়ে আর বিস্তারিত কিছু তার মুখ থেকে বের হয়নি।
সাড়ে তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর তেহরান বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ কার্যত বন্ধ করে দেয়। স্বাভাবিক সময়ে এই পথ দিয়েই বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তাদের গন্তব্যে যায়।
তেহরানের ওই পদক্ষেপের কারণে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জ্বালানির দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। যার ধাক্কা পড়েছে বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারগুলোতেও।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা’কে (আইএমও) ইরান বলেছে, ‘অ-বৈরি নৌযানগুলো’ হরমুজ পার হতে পারে, যদি সেগুলো ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ সংক্রান্ত একটি নোট মঙ্গলবার রয়টার্স দেখেছেও।
“এটা বেশ বড়সড় উপহার, যার মূল্য হবে বিপুল পরিমাণ অর্থ। তারা খুবই চমৎকার একটি কাজ করেছে,” ইরান নিয়ে মন্তব্যে এমনটাই বলেছেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় অগ্রগতির আভাস দিলেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা এবং অঞ্চলজুড়ে তেহরান ও তার মিত্রদের পাল্টা হামলা অব্যাহত আছে।
ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে আরও সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে একাধিক সূত্রও জানিয়েছে।
বিষয়টি সম্বন্ধে জ্ঞাত দুই ব্যক্তি মঙ্গলবার রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কয়েক হাজার সেনা পাঠাতে যাচ্ছে বলে তাদের ধারণা।
এখনই ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের মতো সেনা রয়েছে। নতুন এ সেনারা সেখানে ওয়াশিংটনের সমরশক্তির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ যে আরও লম্বা হবে এমন শঙ্কাও বাড়াবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা আয়োজনে ইচ্ছুক। ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বোমা মারার হুমকি ট্রাম্প স্থগিত করার পরদিন তার এ ইচ্ছার কথা জানা গেল।
‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার বরাত দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোমবার ইরানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ৫ দিন স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছিলেন।
এক্সে দেওয়া পোস্টে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন, সংলাপ আয়োজনের চলমান প্রচেষ্টার প্রতি পূর্ণাঙ্গ সমর্থন রয়েছে পাকিস্তানের। ‘পরিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে অর্থবহ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আলোচনা’ করতে আয়োজকের ভূমিকা পালন করতে ইসলামাবাদ প্রস্তুত।
পাকিস্তান সরকারের এক সূত্র বলেছে, দুই পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠকের আলোচনা ‘শেষ পর্যায়ে’ রয়েছে, আর যদি বৈঠকটি হয়, ‘যদি হয়’, তাহলে তা এক সপ্তাহের মধ্যেই হবে।
পূর্বকোণ/পিআর