চট্টগ্রাম রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬

হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম। ছবি: এআই দিয়ে বানানো।

হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২২ মার্চ, ২০২৬ | ১:০২ অপরাহ্ণ

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের জন্য খুলে না দেওয়া হলে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আল্টিমেটাম দিয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এ হুমকি উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

 

শনিবারের (২১ মার্চ) এ বিবৃতিটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ট্রাম্পের ওপর গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি সুরক্ষিত করার জন্য ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যেটি ইরান ‘শত্রু জাহাজ’-এর জন্য বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার ফলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে এবং শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে।

 

ফ্লোরিডায় নিজের বাড়িতে থাকা ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, যদি ইরান ঠিক এ মুহূর্ত থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে খুলে না দেয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হেনে সেগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে, যার শুরুটা হবে সবচেয়ে বড়টি দিয়ে।

 

ট্রাম্পের হুমকির পর পাল্টা হুমকিতে ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, দেশটির জ্বালানি ও শক্তি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হলে তারা এ অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।

 

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন হামলা শুরু হলে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব জ্বালানি অবকাঠামো, পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাবে। এর আগে ইরানের সদ্যপ্রয়াত জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান আলী লারি জানি সতর্ক করেছিলেন যে, দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিড আক্রান্ত হলে আধা ঘণ্টার মধ্যেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল অন্ধকারে ডুবে যাবে।

 

এদিকে পাল্টাপাল্টি এ হুমকির মধ্যেই শনিবার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদ ও দিমোনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

 

ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের অন্তত দুটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো সরাসরি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে।

 

আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এই হামলার পর ইসরায়েলজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের ইরানি আক্রমণের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

 

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, ৪৮ ঘণ্টার এই সময়সীমা পার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের কোনো বিমান হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ শুরু করবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বাজার এবং বিশ্ব অর্থনীতি ট্রাম্পের এই আল্টিমেটামের কারণে টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সত্যিই ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হয়, তবে তা কেবল ইরান নয়, বরং পুরো অঞ্চলের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিতে পারে। এমন এক অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন কেবল ধ্বংসাত্মক সংঘাতের প্রহর গুনছে। সূত্র: আল-জাজিরা

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন