চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৫ মার্চ, ২০২৬

খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান কেন স্থগিত করল ইরান? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান কেন স্থগিত করল ইরান? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৫ মার্চ, ২০২৬ | ১২:২২ অপরাহ্ণ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। আল-জাজিরার খবরে বলা হয় দেশটিতে চলমান হামলার আশঙ্কা হতে পারে প্রথম কারণ।

 

ইরান মনে করছে, বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বড় কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন করলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ফলে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতেই আপাতত অনুষ্ঠানটি স্থগিত রাখা হয়েছে।

 

ইরানের সংবিধানে সর্বোচ্চ নেতার পদটি অত্যন্ত শক্তিশালী। বর্তমানে দেশটি একজন নতুন নেতা নির্বাচনের সন্ধিক্ষণে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নিয়োগ কোনো সাধারণ প্রক্রিয়া নয়; বরং এর ওপর ইরানের ভবিষ্যৎ অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতি নির্ভর করছে।

 

৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ বর্তমানে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পরিষদের একজন সদস্য জানিয়েছেন, এই পদের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও পর্যালোচনার জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন।

 

সংবিধানে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ উত্তরসূরি নিয়োগের কথা বলা থাকলেও বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এই প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক শির হেভারের মতে, এই সময় নেওয়া হচ্ছে মূলত একজন ‘নিরাপদ’ ও ‘কট্টরপন্থি’ উত্তরসূরি খুঁজে পেতে, যিনি এই সংকটময় মুহূর্তে দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবেন।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল গঠিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও বিচার বিভাগের প্রধান।

 

পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ইরানের নেতৃত্ব তাড়াহুড়ো না করে অত্যন্ত সতর্ক ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে। সে কারণেই বিদায় অনুষ্ঠান ও নতুন নিয়োগ—উভয় বিষয়েই ধীরগতিতে এগোনোর ইঙ্গিত মিলছে।

 

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মূলত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল রাহিম মুসাভি ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুর প্রাণ হারান।

 

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, হামলায় এখন পর্যন্ত ১০৪৫ জন নিহত হয়েছেন।

 

যৌথ হামলার জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে ইরান। তাদের পাল্টা আঘাতে অন্তত ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত ও কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বহু স্থাপনা ধ্বংস ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট