১৩ মাস পর বাংলাদেশিদের জন্য খুলল শিলিগুড়ির হোটেল
দীর্ঘ ১৩ মাসের ‘বাংলাদেশি বয়কট’ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আবারও বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য হোটেলের দরজা খুলে দিয়েছে শিলিগুড়ির হোটেল মালিকরা। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতেই সীমান্তবর্তী এই বাণিজ্যিক অঞ্চলে স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসায়ী মহলে।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শিলিগুড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে Greater Siliguri Hotelier Association এর সদস্যরা জানান, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার গঠনের পর দুই দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। উত্তেজনা কমেছে, কূটনৈতিক যোগাযোগ স্বাভাবিক হচ্ছে— এমন প্রেক্ষাপটে তারা আবারও বাংলাদেশি পর্যটকদের স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর
শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থলসংযোগ। পাশাপাশি নেপাল, ভুটান, চীন ও বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ফুলবাড়ি ও হিলি সীমান্ত বাণিজ্যও অনেকাংশে এ করিডোরনির্ভর।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কূটনৈতিক মিশন ঘিরে উত্তেজনার জেরে গত বছরের আগস্টের পর পরিস্থিতি অবনতি ঘটে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিসা পরিষেবা বন্ধ হয়, এবং শিলিগুড়ির হোটেল মালিকদের একাংশ ‘বাংলাদেশ বয়কট’-এর ডাক দেন।ব্যবসায়ীদের আশাবাদ
বর্তমান পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্থিতিশীল বলে দাবি হোটেল সংগঠনের নেতাদের। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ফলে হোটেল মালিক ও কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। একইভাবে কলকাতার নিউমার্কেট ও মার্কুইস স্ট্রিটের ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকরাও আশাবাদী। তাদের ধারণা, নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভিসা জটিলতা কমবে, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে।
ভিসা কার্যক্রমও ধীরে ধীরে চালু
ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে ভারতের বিভিন্ন বাংলাদেশ ভিসা সেন্টার। বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন আগরতলা-সহ কয়েকটি মিশনে কনস্যুলার সেবা পুনরায় শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে। গত বছর ২২ ডিসেম্বর থেকে শিলিগুড়ি ও আগরতলায় কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।
সব মিলিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্কে স্বাভাবিকতার ইঙ্গিত মিলতেই সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও চাঙ্গা হওয়ার আশা দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
পূর্বকোণ/পিআর