চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সর্বশেষ:

ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বড় অংশ বাতিল করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বড় অংশ বাতিল করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

অনলাইন ডেস্ক

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৯:৫২ অপরাহ্ণ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চাভিলাষী ও ব্যাপক শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের কর্মসূচি একটি বড় আইনি বাধার মুখে পড়েছে।

 

আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে ট্রাম্পের এই কর্মসূচির একটি বড় অংশ বাতিল করে দিয়েছে। ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে দেওয়া এই রায়ে আদালত জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট যে আইনের ওপর ভিত্তি করে এই শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা তাকে এমন ক্ষমতা প্রদান করে না।

 

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস আদালতের এই সংখ্যাগরিষ্ঠ মত পাঠ করেন। অন্যদিকে, বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো এবং ব্রেট কাভানা এই রায়ের বিপক্ষে ভিন্নমত পোষণ করেন।

 

মূলত ‘ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ বা IEEPA-এর নতুন এক ব্যাখ্যার ভিত্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের ওপর এবং বৈশ্বিক ‘পারস্পরিক’ শুল্ক আরোপ করেছিল।

 

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, IEEPA আইনে কোথাও সরাসরি ‘শুল্ক’ শব্দটি উল্লেখ নেই। এই আইন কেবল জাতীয় জরুরি অবস্থায় বিদেশি সম্পত্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে আমদানি ‘নিয়ন্ত্রণ’ করার ক্ষমতা দেয়, কিন্তু একতরফাভাবে শুল্ক বসানোর নয়।

 

ট্রাম্পের দাবি ছিল, এই শুল্কের ফলে বিদেশি দেশগুলো থেকে বিপুল রাজস্ব আদায় হচ্ছে এবং এর বোঝা আমেরিকানদের ওপর পড়বে না। তিনি এমনকি শুল্ক থেকে ৬০০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের দাবিও করেন। তবে বিভিন্ন নিরপেক্ষ সংস্থা ও সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, প্রকৃত রাজস্বের পরিমাণ এর চেয়ে অনেক কম (প্রায় ২০০-২৮৯ বিলিয়ন ডলার)।

 

এছাড়া প্রশাসনও স্বীকার করেছে যে, এই শুল্কের অর্থ প্রকৃতপক্ষে মার্কিন আমদানিকারকরাই পরিশোধ করছেন।

 

এর আগে ফেডারেল বাণিজ্য আদালত এবং ফেডারেল আপিল আদালতও এই শুল্ককে অবৈধ বলেছিল। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে ট্রাম্পের রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা এবং মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াটি বড় ধরণের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। এটি প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার একটি স্পষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দিল।

তথ্যসূত্র- সিএনবিসি

 

পূর্বকোণ/কায়ছার/পারভেজ

শেয়ার করুন