
২০২৬ সালের শুরু থেকেই বৈশ্বিক রাজনীতিতে যে অস্থিরতা ও সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বুলগেরিয়ার রহস্যময় নারী ও তথাকথিত ‘ভবিষ্যদ্দ্রষ্টা’ বাবা ভাঙ্গা। তার অনুসারীদের দাবি, বহু বছর আগেই তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ২০২৬ সাল পৃথিবীতে ‘যুদ্ধ ও ধ্বংস’ ডেকে আনবে।
নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তিনি ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের পাশাপাশি ভিনগ্রহের প্রাণীর সঙ্গে মানুষের প্রথম যোগাযোগের কথাও বলে গেছেন।
বিশ্বব্যাপী সামাজিক মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও পোস্টে বলা হচ্ছে, বাবা ভাঙা আগেও বড় বড় ঘটনা যেমন ৯/১১ হামলা, বারাক ওবামার নির্বাচিত হওয়া, চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের উত্থান পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
বাবা ভাঙ্গা ১৯৯৬ সালে ৮৫ বছর বয়সে মারা যান। এর তিন দশক পরও তাঁর রহস্যময় ‘ভবিষ্যদ্বাণীগুলো’ বিশ্ববাসীকে ভাবাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ভবিষ্যদ্বাণীর পেছনে নির্ভরযোগ্য বা প্রমাণিত কোনো তথ্য নেই। এগুলো মূলত পুরনো কথাবার্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব এবং বর্তমান সময়ের ব্যাখ্যা মিলিয়ে তৈরি। অনেক ক্ষেত্রেই বাবা ভাঙার নিজের বলা বা লেখা কোনো নির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণীর প্রামাণ্য রেকর্ড পাওয়া যায় না। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তব বিশ্বের ঘটনাকে এসব ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখাকে বৈজ্ঞানিক বা নির্ভরযোগ্য হিসেবে ধরা ঠিক নয়।
ভবিষ্যদ্বাণীর মিল ও অমিল
অনুসারীদের মতে, তার কিছু ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়েছে। যেমন—৯/১১ হামলার পূর্বাভাস, রাশিয়ান সাবমেরিন কুরস্ক দুর্ঘটনা, ওবামার নির্বাচিত হওয়া, চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের উত্থান। তবে সব ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, ২০১০ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বা ২০২৫ সালে কোনো ক্রীড়া আসরে ভিনগ্রহীদের আবির্ভাব—এসব ঘটেনি।
বাবা ভাঙার কথিত সময়রেখা নাকি শতাব্দীর পর শতাব্দীজুড়ে বিস্তৃত।
প্রচলিত দাবিতে বলা হয়— ২০২৮ সালে মানুষ শক্তির সন্ধানে শুক্র গ্রহ অনুসন্ধান করবে, ২০৩৩ সালে মেরু অঞ্চলের বরফ ব্যাপকভাবে গলে যাবে, ২০৭৬ সালে বিশ্বজুড়ে কমিউনিজম ছড়িয়ে পড়বে, ২১৭০ সালে তীব্র খরায় বহু অঞ্চল ধ্বংস হবে,৩০০৫ সালে মঙ্গলগ্রহের সভ্যতার সঙ্গে যুদ্ধ হবে, ৩৭৯৭ সালে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে আর ৫০৭৯ সালে পৃথিবীর সমাপ্তি ঘটবে।
বিশ্লেষকরা বলেন, এসব ভবিষ্যদ্বাণী প্রমাণিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নয়। এগুলো মূলত পুরনো বক্তৃতা, সামাজিক মিডিয়ার গুজব ও আধুনিক ব্যাখ্যার মিশ্রণ। বাবা ভাঙার নিজের লেখা বা বক্তব্যের প্রমাণও পাওয়া যায় না। তাই বাস্তব বিশ্বের ঘটনার সঙ্গে এগুলো মিলিয়ে দেখাকে বৈজ্ঞানিক বা নির্ভরযোগ্য তথ্য হিসেবে ধরা যায় না।
তবুও বাবা ভাঙা এখনো সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে মানুষের কৌতূহলকে উসকে দিচ্ছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহাকাশ অনুসন্ধান, ভূরাজনীতি কিংবা পৃথিবীর শেষ—এসব বিষয় ঘিরে তার ভবিষ্যদ্বাণী মানুষের কৌতূহল তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অজানার সঙ্গে মানুষের ভবিষ্যৎ জানার আকর্ষণই তার প্রতি আগ্রহের মূল কারণ। সূত্র: গালফ নিউজ।
পূর্বকোণ/পিআর