
ইরানের মুদ্রার রেকর্ড দরপতন ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে তেহরানের বাজার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৯ দিনের এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
কুর্দি–ইরানি মানবাধিকার সংস্থা হেনগাউ জানিয়েছে, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ২৫, যাদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী চারজন রয়েছে। এছাড়া এক হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মীদের নেটওয়ার্ক এইচআরএএনএ–এর তথ্যমতে, ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুইজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তারা ১২০৩ জনকে গ্রেফতারের দাবিও করেছে।
রয়টার্স স্বতন্ত্রভাবে এই নিহতের সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি। ইরান কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের নিহতের কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি, তবে অন্তত দুইজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত এবং এক ডজনের বেশি আহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।
তেহরানের বাজার থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে পশ্চিম ও দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ২০২২–২৩ সালে মাহসা আমিনীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনের তুলনায় এবারের বিক্ষোভের মাত্রা ছোট, তবে এর গতিপ্রকৃতি ভিন্ন। শুরুতে অর্থনৈতিক দাবি থাকলেও দ্রুতই তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। এইচআরএএনএ জানিয়েছে, দেশটির ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৭টিতেই বিক্ষোভ ছড়িয়েছে এবং কিছু জায়গায় বিক্ষোভকারীরা দেশটির ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও স্লোগান দিচ্ছেন।
ইরানের এই উত্তাল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে তিনি তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসবেন। এর জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি শত্রুর কাছে নতি স্বীকার করবেন না।
ইরানের পুলিশ প্রধান আহমাদরেজা রাদান রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলেন, আমরা বিক্ষোভকারী ও দাঙ্গাবাজদের মধ্যে পার্থক্য করছি। দাঙ্গাবাজদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। যারা বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়েছে, তাদের এখনই সঠিক পথে ফেরার সময়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। মুদ্রাস্ফীতি রোধ এবং ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষায় তিনি ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে আমদানিকারকদের জন্য অগ্রাধিকারমূলক মুদ্রা বিনিময় হার বাতিল করে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে অর্থ সহায়তা পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে ২৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানকেও পরিবর্তন করা হয়েছে।
তবে সরকারের এসব পদক্ষেপেও কমছে না অস্থিরতা। মঙ্গলবার ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মান আরও কমে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০–তে দাঁড়িয়েছে, যা বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে প্রায় ৪ শতাংশ দরপতন।
পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ