চট্টগ্রাম শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

সর্বশেষ:

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১১:৩০ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আসামে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য বন্দিশিবির

প্রায় সাতটি ফুটবল মাঠের সমান বনভূমি উজাড় করা হয়েছে ভারতের আসামে একটি দুর্গম এলাকায়। সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে রাজ্যের অবৈধ অভিবাসীদের জন্য বন্দিশিবির। ভারতে এটিই প্রথম কোনো গণকারাগার। নির্মাণাধীন অন্তত তিন হাজার বন্দির ধারণক্ষমতার বন্দিশিবিরটির ভেতরে স্কুল ও হাসপাতালসহ অন্যান্য সুবিধা থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে এ বন্দিশিবিরের নির্মম বাস্তবতা হলো, এটির নির্মাণকাজে নিযুক্ত নির্মাণশ্রমিকরা নিজেদের হাতে বানানো বন্দিশালায় শেষমেশ বন্দি হতে পারেন।  গত সপ্তাহে প্রকাশিত রাজ্যের জাতীয় নাগরিক তালিকা—এনআরসি বা নাগরিকপঞ্জিতে শ্রমিকদের কারো কারো নাম নেই ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বন্দিশালার নির্মাণকাজে নিয়োজিত নারী শেফালী হাজং জানিয়েছেন, তার নাম এনআরসি তালিকায় নেই। তাকে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণে আদালতে যেতে হবে। যদি তাতে তিনি ব্যর্থ হন, তাকেও এমনই একটি বন্দিশালায় নেয়া হতে পারে।

ভারত সরকারের ভাষ্য হলো, আসাম রাজ্যে সীমান্তবর্তী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী বহু অবৈধ অভিবাসী সেখানে যুগের পর যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন। তবে ভারতে অবৈধ ঘোষিত কোনো নাগরিককে নিজেদের দেশের নাগরিক বলতে রাজি নয় ঢাকা।

এ অবস্থায় হাজং নৃগোষ্ঠীর শেফালীর মতো অনেকেই ব্যাপক দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। শেফালী বলছিলেন, ‘কিন্তু আমার পেটের দায় আছে, কোথাও না কোথাও কাজ করতেই হবে।’

আসাম রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম দফায় গোয়ালপাড়া শহরের কাছাকাছি এমন অন্তত দশটি বন্দিশিবির নির্মাণ করা হবে ।

ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আসামের নাগরিকদের তালিকা—এনআরসি প্রস্তুত করা হয়। গত সপ্তাহে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়। তাতে আসামের তিন কোটি ১১ লাখ মানুষের নাম রয়েছে। বাদ পড়েছেন ১৯ লাখ ছয় হাজার মানুষ, যার মধ্যে অধিকাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

পূর্বকোণ/তাসফিয়া

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 291 People

সম্পর্কিত পোস্ট