চট্টগ্রাম বুধবার, ২২ মে, ২০২৪

সর্বশেষ:

ওয়াগনার বিদ্রোহ : রাশিয়ার সেই ‘কুখ্যাত’ জেনারেলকে গ্রেপ্তারের গুঞ্জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩০ জুন, ২০২৩ | ২:০৮ অপরাহ্ণ

গত ২৩ জুন হঠাৎ বিদ্রোহ করে রাশিয়ার ভাড়াটে আধা সামরিক বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপ। এ বিদ্রোহের পর থেকে (শনিবার) দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ এক জেনারেল লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছেন। গুঞ্জন উঠেছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনে নেতৃত্ব দেওয়া ‘কুখ্যাত’ কমান্ডার হিসেবে পরিচিত জেনারেল সের্গেই সুরোভিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, ওয়াগনার প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোঝিনের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই বিদ্রোহ সম্পর্কে আগে থেকেই জানতেন জেনারেল সুরোভিন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল সের্গেই সুরোভিন হলেন রাশিয়ার মহাকাশ বাহিনীর প্রধান এবং ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর সর্বোচ্চ কমান্ডার। ২০২২ সালে তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তখন প্রিগোঝিন সুরোভিনকে স্বাগত জানিয়ে তাকে ‘কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব’ এবং ‘মাতৃভূমির সেবা করার জন্যই তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন’ বলে অভিহিত করেন।

সুরোভিন এবং প্রিগোঝিনের মধ্যকার এই সুসম্পর্ক এমন গুজবকে উস্কে দিয়েছে যে, জেনারেল সুরোভিন ওয়াগনারের বিদ্রোহ সম্পর্কে আগে থেকেই জানতেন । প্রিগোঝিনকে সমর্থন করার জন্য এখন তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে— এর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা।

কারণ ২৩ জুন প্রিগোঝিন যখন বিদ্রোহ শুরু করেন, তখন শুক্রবার দেরিতে এর বিরুদ্ধে এবং রাশিয়ার সরকারের সমর্থনে দ্ব্যর্থহীন এক বিবৃতি দেন জেনারেল সুরোভিন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনার সাথে একসঙ্গে লড়াই করেছি। ঝুঁকি নিয়েছি এবং একসঙ্গে জিতেছি। আমরা একই রক্তের , আমরা যোদ্ধা। আমি আপনাকে থামতে অনুরোধ করছি। শত্রুরা আমাদের দশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার জানিয়েছে, প্রিগোঝিনের সশস্ত্র বিদ্রোহ সম্পর্কে আগে থেকেই জানতেন জেনারেল সুরোভিন। যেখানে তার ভাড়াটে সেনারা রোস্তভ শহর দখল করে এবং একটি সাধারণ ক্ষমা চুক্তি সই হওয়ার আগে রাজধানী মস্কোর দিকে অগ্রসর হয়।

অন্যদিকে দেশটির আরেক সংবাদামধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালও একইদিন জানায় যে, এই ব্যর্থ বিদ্রোহের আরেক লক্ষ্য হিসেবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই সোইগু এবং রুশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভকেও অপহরণ করা হতে পারে।

তবে লন্ডনের কিংস কলেজের যুদ্ধ বিষয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক স্যার লরেন্স ফ্রিডম্যান এই বিদ্রোহে সরোভিনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বলেছেন যে, ‘এই বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে প্রিগোঝিন কি অর্জন করার চেষ্টা করেছেন- সবটাই নির্ভর করছে তার ওপর। সুরোভিন হয়তো শীর্ষ কমান্ডের পরিবর্তনে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু তিনি এমন একটি বিদ্রোহের সঙ্গেও জড়াতে চান নি- প্রিগোঝিনেরও প্রকৃত উদ্দেশ্য এটা নয় বলে আমি মনে করি।’

তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তর ক্রেমলিন সুরোভিনের গ্রেপ্তারের গুঞ্জনের বিষয়টি প্রত্যাখান করে বলেছে, বিদ্রোহের পর অনেক গল্প বের হয়েছে এবং সামনেও বের হবে।

এদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি। তবে দেশটির কয়েকজন সামরিক ব্লগার জানিয়েছেন, শনিবারই সুরোভিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিনের পর থেকে তার পরিবার আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।

সিরিয়ায় সফলভাবে বাশার আল-আসাদ বিরোধীদের দমন করেন সুরোভিন। তাই তাকে ইউক্রেন যুদ্ধের কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিন পরই তাকে সরিয়ে দিয়ে আবার ভ্যালারি গেরাসিমোভকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন