চট্টগ্রাম শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

চ্যাট জিপিটি’র গোপন অস্ত্র প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | ৫:৪১ অপরাহ্ণ

মার্কিন প্রযুক্তি-শিল্প- কেন্দ্রিক প্রকাশনা ‘দ্য ইনফরমেশন’ অনুসারে, ‘ওপেন এআই’ (চ্যাট জিপিটি’র স্রষ্টা কোম্পানি) সাম্প্রতিক মাসগুলিতে অন্তত এক ডজন গুগল এআই কর্মীকে নিজের পকেটে পুরেছে। এই প্রকৌশলীরা চ্যাট জিপিটি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এখন কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে ওপেন এআই চ্যাট জিপিটি’র মাধ্যমে সারা বিশ্বে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এআই অনুশীলনকারী কিংবা বিনিয়োগকারী- সকলেই আজ জানতে চান কীভাবে একটি ছোট ‘সাত বছর বয়সী স্টার্টআপ কোম্পানি’ গুগলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে! আসলে, এক্ষেত্রে ওপেনএআই-এর সবচেয়ে বড় অস্ত্রটি হল- ‘তার গুগল থেকে ‘কাজ’র লোকেদের শিকার করতে পারা’। এখন যেহেতু চ্যাট জিপিটি’র রমরমা অবস্থা, গুগল প্রতিভারাও ওপেনএআই-এর দিকে ভিড়তে শুরু করে দিয়েছে।

নভেম্বরে চ্যাট জিপিটি চালুর ক’সপ্তাহ আগে থেকে ওপেন এআই গোপনে গুগলের অন্তত পাঁচজন কর্মীকে তার বট’টির ফিনিশিং টাচ দেবার কাজে লাগিয়ে দিতে পেরেছিল। ওপেন এআই-এর অফিসিয়াল ঘোষণা ব্লগে, ব্যারেট জফ, লিয়াম ফেদাস, লিউক মেৎজ, রাফা গনতিজে লোপস- এই প্রাক্তন গুগল কর্মচারীদের নাম, চ্যাট জিপিটি-এর প্রধান অবদানকারীদের তালিকায় তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

গত মাসে, ওপেনএআই গুগলের একজন গবেষককে ‘নিজের’ করে নিয়েছে, যিনি সার্চ ইঞ্জিনটির জন্য মেশিন লার্নিং মডেল তৈরির অন্যতম রূপকার ছিলেন। মোটামুটি পরিসংখ্যান অনুসারে, ‘গুগল ব্রেইন’ কমপক্ষে ৪ মূল সদস্য হারিয়েছে। গুগল ব্রেইনের মূল কর্মীরা একের পর এক ‘দলত্যাগ’ করেছে।

একসময় যে জায়ান্ট বিশ্বের বেশিরভাগ মেশিন লার্নিং প্রতিভাকে নিজের করায়ত্ত করে নিয়েছিল, আজ সে নিজেই ‘ওপেন এআই’র শিকারে পরিণত। ‘গুগল’-এ অনেক গবেষকই অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছিলেন এই জন্য যে, তাদের অনেক গবেষণালব্ধ জ্ঞানই নাকি কর্তৃপক্ষ মূল্যায়ন করেনি।

যেমন- কিছু কর্মচারী হতাশ এই জন্য যে, তারা বেশ কয়েক বছর ধরে চ্যাট ফাংশনটিকে সার্চ ইঞ্জিনে একীভূত করার পরামর্শ দিচ্ছিলেন, কিন্তু কোনোও প্রতিক্রিয়া পাননি। তাই তারা ওপেনএআই-এর মতো অন্য কোথাও উড়াল দেবার সুযোগের সন্ধানে ছিলেন।

প্রকৃতপক্ষে, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই গুগল অনেক বড় বড় কোম্পানির লোকদের শিকার করেছিল। ১৯৯০ এর দশকের শেষের দিকে, তৎকালীন প্রতিষ্ঠিত এক প্রযুক্তি কোম্পানি ‘ডিজিটাল ইকুইপমেন্ট’ থেকে তাদের বর্তমান এআই নেতা- জেফ ডিনকে ছিনিয়ে এনেছিল। অবশ্যই, গুগলও বসে নেই। তারা শীঘ্রই ‘বার্ড’ চালু করেছে। আমরা সবাই বাকি গল্প জানি, বার্ড চ্যাট জিপিটি থেকে অনেক দূরে। এটি আপাতদৃষ্টিতে সহজ প্রশ্নের খুব ভুল উত্তর দেয়। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ সম্পর্কে সাধারণ তথ্য দিতে এটি ব্যর্থ হয়েছে। তবে এটা ‘গুগল’, শিঘ্রই তারা ফিরে দাঁড়াতে সচেষ্ট হবে- সন্দেহ নেই।

পূর্বকোণ/মামুন

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট