চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

সর্বশেষ:

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে বাড়ছে কিডনি রোগ

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে বাড়ছে কিডনি রোগ

ডা. সাদিয়া সুলতানা

১২ মার্চ, ২০২৬ | ১:৪৯ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে বাড়ছে কিডনি রোগীর সংখ্যা। কেউ কেউ সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে পারলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগ জটিল আকার ধারণের পরই রোগীরা এ সম্পর্কে জানতে পারছেন। ছোট-বড় সব বয়সের মানুষই কিডনির বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে। এ প্রসঙ্গে দৈনিক পূর্বকোণের সাথে কথা বলেছেন এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের নেফ্রোলজি বিভাগের এটেন্ডিং কনসালট্যান্ট ডা. সাদিয়া সুলতানা।

 

পূর্বকোণ : কেন বাংলাদেশে কিডনি রোগ দ্রুতহারে বাড়ছে?

 

ডা. সাদিয়া সুলতানা : বাংলাদেশে কিডনি রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অপ্রয়োজনীয় ব্যথানাশক ও অ্যান্টি-বায়োটিক ওষুধের ব্যবহার, স্থূলতা, অতিরিক্ত ও কাঁচা লবণ খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না পান করা এবং অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া কিডনি রোগের বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখছে। অনেকে আছেন যারা উপসর্গ থাকা সত্তে¡ও কেবল অবহেলার কারণে রোগকে জটিল করে তুলছেন, যার পিছে মূল কারণ সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার অভাব। তাই কিডনি রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন।

 

পূর্বকোণ : ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ কেন কিডনি রোগের প্রধান কারণ?

 

ডা. সাদিয়া সুলতানা : অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ছোট ছোট রক্তনালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আর এই সমস্যা দুটি যদি দীর্ঘকালীন হয়, তাহলে সময়ের সাথে সাথে স্বাভাবিকভাবেই কিডনি তার ফিল্টার করার ক্ষমতা হারাতে থাকে। এক পর্যায়ে কিডনি ফেইলিউরের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

 

পূর্বকোণ : নেফ্রোটিক সিনড্রোম কী এবং শিশুদের জন্য এটি কতটা গুরুতর?

 

ডা. সাদিয়া সুলতানা : নেফ্রোটিক সিনড্রোম শিশুদের একটি সাধারণ কিডনি সমস্যা, যেখানে কিডনি প্র¯্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রোটিন বের করে দেয়। এর ফলে শিশুর শরীরে বিশেষ করে চোখের চারপাশে ও পায়ে ফোলা দেখা যায়। এছাড়া, শিশুর শরীরে হঠাৎ ফোলাভাব, প্রশ্রাবের পরিমাণ বা রঙে পরিবর্তন, ঘন ঘন জ্বর বা প্রশ্রাবে সংক্রমণ, শিশুর বৃদ্ধি স্বাভাবিক না হওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ। সময়মতো চিকিৎসায় অধিকাংশ শিশুই সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে।

 

পূর্বকোণ : যারা ডায়ালাইসিসকে খুব ভয় পান তাদের জন্য কী পরামর্শ এবং ডায়ালাইসিস মূলত কী ও এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

 

ডা. সাদিয়া সুলতানা : সহজ ভাষায়, ডায়ালাইসিস হলো কিডনির কাজকে কৃত্রিমভাবে সম্পন্ন করার একটি চিকিৎসা ব্যবস্থা। কিডনি বিকল হয়ে গেলে, শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে গেলে, রক্তে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিনসহ ক্ষতিকর পদার্থ বেড়ে গেলে কিডনি স্বাভাবিক নিয়মে রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করতে বা ফিল্টার করতে ব্যর্থ হয়, তখন ডায়ালাইসিস করতে হয়। এটি দুই প্রকার; ১। হেমোডায়ালাইসিস, যেখানে মেশিনের মাধ্যমে শরীরের বাইরে রক্ত পরিষ্কার করা হয় এবং ২। পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস, যেখানে পেটের ভেতরের ঝিল্লিকে ব্যবহার করে শরীরের ভেতরেই রক্ত পরিশোধন করা হয়। ডায়ালাইসিস সাধারণত খুব বেশি ব্যথাদায়ক না। অনেকে মনে করেন এটি ব্যথাদায়ক, তবে বাস্তবে বেশিরভাগ রোগীই শুধু সূঁচ দেওয়ার সময় সামান্য অস্বস্তি অনুভব করেন। এরপর বাকি প্রক্রিয়া ব্যথা ছাড়াই সম্পন্ন হয়।

 

পূর্বকোণ : কিডনি রোগ প্রতিরোধে কী করা উচিৎ?

 

ডা. সাদিয়া সুলতানা : কিডনি রোগের অনেক ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ থাকে না। তাই সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য-পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যদি আগে থেকেই সতর্ক হয়ে জীবনযাপনে স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনলে অনেক ক্ষেত্রেই কিডনি জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

 

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন