চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪

গ্রীষ্মের রোগ-ব্যাধি থেকে বাঁচার উপায়

অনলাইন ডেস্ক

১৪ মে, ২০২৩ | ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

অতিরিক্ত গরম বা তাপ যে কোনো বয়সের মানুষের জন্যই ক্ষতির কারণ। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের ঝুঁকি এ সময় সবচেয়ে বেশি। গরমে শারীরিক অস্বস্তি ও নানা রোগ-ব্যাধি দেখা দেয়। একটু সচেতন থাকলে গ্রীষ্মের এই সময়ে রোগ-ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

এই গরমে চলতে-ফিরতে সবার অসুবিধা হয় ও কম-বেশি শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। সময়মতো সচেতন না হলে অনেক সময় তা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সাধারণত অতিরিক্ত গরমে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেগুলোর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

১) হিট স্ট্রোক: গ্রীষ্মের দুপুরে তাপমাত্রা কখনো কখনো ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। বাতাসের আর্দ্রতাও বেড়ে যায় দারুণভাবে। প্রখর রোদে এ রকম গরমে ইচ্ছা না থাকলেও বিভিন্ন কাজে বাইরে যেতেই হয়। তার ফলে গরমে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। হিট স্ট্রোক হচ্ছে এক ধরনের হাইপারথার্মিয়া। হাইপার হচ্ছে অধিক মাত্রা, আর থার্মিয়া মানে তাপ। শরীরে অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকেই বলা হয় হিট স্ট্রোক। আমাদের শরীরের ভেতরে নানা রাসায়নিক ক্রিয়ার কারণে সব সময় তাপ সৃষ্টি হতে থাকে। ঘামের সাহায্যে সেই তাপ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু এক টানা রোদে থাকলে গরমে ঘামের সঙ্গে শরীরের অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যায়। শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যাওয়ায় ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি হয়। ঘামের সঙ্গে লবণ বেরিয়ে যাওয়াতে লবণের ঘাটতি দেখা দেয়। যার ফলে শরীরকে করে তোলে অবসন্ন ও পরিশ্রান্ত। এতে মাথাঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারেন অনেকেই। তৎক্ষণাত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে মৃত্যুও হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বাচ্চা, বয়স্ক ও যারা ওবেসিটিতে ভুগছে তারা হিট স্ট্রোকে সহজেই আক্রান্ত হয়।

▶ প্রতিকার: যতটুকু সম্ভব এই গরমে রোদে কম বের হতে হবে। একান্তই বের হতে হলে সঙ্গে পানির বোতল রাখা দরকার ও মাঝে মাঝে পানি পান করা উচিত। তা না হলে শরীর অবসন্ন মনে হওয়া মাত্রই ছায়াযুক্ত বা শীতল কোনো স্থানে বিশ্রাম করা উচিত। যদি অবস্থা খারাপ মনে হয় তাহলে ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে, যাতে শরীরের লবণ ও পানিশূন্যতা দূর করতে পারে। অজ্ঞান হয়ে গেলে বা মাথা ঘোরালে মাথায় পানি ঢালতে হবে। তাতেও যদি অবস্থার উন্নতি না হয়, তাহলে হিট স্ট্রোকে আক্রান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

২) পেটের অসুখ: গরমের সময় অত্যধিক তাপমাত্রায় খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া গরম থেকে স্বস্তি পাওয়ার জন্য চলার পথে আমরা অনেক কিছুই খেয়ে ফেলি, যেগুলোতে হয়তো রোগ জীবাণু থাকতে পারে। গরমে পানি সংকটের কারণে বাসায় বা হোটেলে থালা-বাসন ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। এসব কারণে অনেকেই পেটের অসুখে আক্রান্ত হয়। যাকে আমরা বলি ফুড পয়জনিং। এ থেকে বমি, পায়খানা বা ডায়রিয়াসহ অনেক রোগেই আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে।

▶ প্রতিকার: পেটের অসুখ থেকে বাঁচতে হলে আমাদের বাইরের খোলা খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে। একান্তই যদি বাইরে খেতে হয় তবে ভালো রেস্টুরেন্টে খাওয়া ভালো। বাসি খাবার একদম খাওয়া যাবে না। খাবার আগে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি, শরবত বা ফলের রস পান করতে হবে। পাতলা পায়খানা শুরু হলে স্যালাইন খেতে হবে। চিড়ার পানি, দই, ভাতের সঙ্গে কাঁচা কলা মিশিয়ে খেলে ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়। অবস্থা বেশি খারাপ হলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

৩) ত্বকের সমস্যা: গরমে অনেকেরই ত্বকের বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দেয়। ঘামাচি হওয়া, তারপর সেই ঘামাচি চুলকাতে গিয়ে নখের আঁচড়ে ঘা তৈরি হয়ে সমস্যা সৃষ্টি করে। আবার গরমে পানির অভাব থাকায় ঠিকমতো গোসল করতে না পারার কারণে শরীর অপরিষ্কার থাকে। ফলে চর্মরোগের সৃষ্টি হয়। গরমে পুড়ে ত্বক কালো হওয়া বা অনেকের ত্বকে ছোপ ছোপ দাগও পড়ে।

▶ প্রতিকার: ত্বকের সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে হলে রোদে বেশি ঘোরাঘুরি করা উচিত নয়। প্রতিদিন বাইরে থেকে আসার পর সাবান দিয়ে ভালো করে গোসল করা উচিত। বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা ব্যবহার করতে হবে। সবসময় হালকা রঙের কাপড় ব্যবহার করতে হবে। ভালো প্রতিষ্ঠানের সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। চোখে সানগ্লাস ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘামাচি হলে ঘামাচি পাউডার লাগাতে হবে। গরমে অনেকের সর্দি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির সমস্যা দেখা দেয়। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া যেমন স্বাভাবিক, তেমনি একটু সাবধানে থাকলে সুস্থ থাকা অসম্ভব নয়।

৪) হিট একজর্সন: হিট স্ট্রোক ও হিট একজর্সনের লক্ষণগুলো প্রায় এক ধরনের। প্রচণ্ড গরমে একটানা ৩-৪ ঘণ্টা থাকলে এ রোগ দেখা দেয়। বমি ভাব, মাথা ঘোরা, মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া এসবই হিট একজর্সনের লক্ষণ।

▶ প্রতিকার: রোদে কাজ করতে হলে কাজের মাঝে মাঝেই বিরতি দিয়ে ছায়ায় বসুন। মাথায় টুপি ব্যবহার করা যেতে পারে। মাঝে মাঝে পানি খেতে হবে।

৫) সান বার্ন: সূর্যের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি ত্বকেরও ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। তার ফলেই গ্রীষ্মকালে ত্বকে দেখা দেয় সান বার্ন। এই সান বার্ন স্কিন ক্যানসারের আশংকা বেশ খানিকটা বাড়িয়ে দেয়। সান বার্ন থেকে বাঁচতে হলে ভালো কোম্পানির লোশন মুখ, গলা, হাতে লাগাবেন। বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা অবশ্যই রাখবেন।

পরামর্শদাতা: ডা. চৌধুরী সাইফুল আলম বেগ, মেডিকেল এডুকেটর এন্ড জিপি এক্সামিনা, অস্ট্রেলিয়া ব্লাকটাউনের ওয়াল্টার্স রোড মেডিকেল সেন্টার।

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট