চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সর্বশেষ:

সুদিন ফিরছে অর্থনীতিতে

অনলাইন ডেস্ক

২৫ জুন, ২০২৩ | ১০:৩৪ অপরাহ্ণ

পদ্মা সেতু উদ্বোধন করার এক বছর পূর্তি হলো আজ। ২০২২ সালের এই দিনে সেতুটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক বছরে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে পদ্মা সেতুর ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সেতুটির সুফল ভোগ করা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম বাগেরহাট। সেতুর প্রভাবে এক বছরে এ জেলার বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন এসেছে। পর্যটক বেড়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, মোংলা বন্দর দিয়ে পোশাক রপ্তানি হচ্ছে, কৃষি খাতেও এসেছে আমূল পরিবর্তন।

পর্যটনশিল্প: বাগেরহাটের পর্যটন আগে থেকেই সমৃদ্ধ। বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ ও সুন্দরবনের আকর্ষণ অনেক বেশি। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় কাঙ্ক্ষিত দর্শনার্থী আসতেন না এসব স্থানে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর উল্লেখযোগ্য হারে দর্শনার্থী বেড়েছে। পাল্লা দিয়ে রাজস্বও বেড়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন বলেন, গত এক বছরে সুন্দরবনে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮ জন দেশি ও ১ হাজার ৬৭৫ বিদেশি দর্শনার্থী এসেছেন। এই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, যা ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় দ্বিগুণ।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বাগেরহাটের কাস্টোডিয়ান মোহাম্মাদ যায়েদ জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮ জন দেশি ও ১ হাজার ৪৮২ জন বিদেশি দর্শনার্থী এসেছেন। রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮৭ লাখ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশি দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ১৫ হাজার এবং বিদেশি ছিলেন ২৮৯ জন।

মৎস্য খাত: এক বছরে বাগেরহাটে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ১০ শতাংশ। এ জেলায় উৎপাদিত বাগদা, গলদা চিংড়ি, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রকার মাছ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে যাচ্ছে অল্প সময়ে। এতে ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা। ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এএসএম রাসেল বলেন, পদ্মা সেতুর ফলে বাগেরহাট জেলার মৎস্য সেক্টর আশার আলো দেখছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় যেমন বেড়েছে তাজা মাছের চাহিদা, তেমনি চিংড়ি, কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানি বেড়েছে। গেল বছর জেলায় ৯৯ হাজার টন সাদা মাছ উৎপাদন হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১০ হাজার টন।

কৃষি খাত: গত এক বছরে কৃষিনির্ভর এই জেলায় কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়েছে ৫ শতাংশ। উৎপাদিত সবজি সহজে বাজারজাত করায় কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয়েছে। গত বছর হেক্টরপ্রতি সবজির উৎপাদন ছিল ২০ টন। এবার ২৫ টন সবজি উৎপাদন হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বাগেরহাটের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু চালুর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা আসছেন এ এলাকায়। এতে কৃষকের সবজি সহজে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। কোনো সবজি নষ্ট হওয়ার শঙ্কা নেই। অনেক কৃষক তাঁদের উৎপাদিত সবজি রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন।

জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তালুকদার আবদুল বাকি বলেন, পরিবহন সেক্টরের বড় স্বপ্ন ছিল পদ্মা সেতু। এই সেতু চালুর মধ্য দিয়ে পরিবহন সেক্টর অনেক এগিয়ে গেছে। যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। বাগেরহাট থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতাযাত হয়েছে।

মোংলা বন্দর: ঢাকা থেকে সড়কপথে চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় মোংলা বন্দরের দূরত্ব কম। এ কারণে পণ্য আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা মোংলা বন্দর ব্যবহার শুরু করেছেন। এরই মধ্যে প্রথমবারের মতো গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি শুরু হয়েছে এই বন্দর দিয়ে। এক বছরে পাঁচটি জাহাজে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। কনটেইনারবাহী জাহাজের আগমনও বেড়েছে ১৫ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে কনটেইনারবাহী জাহাজ আসে ৪৫টি, ২০২২–২৩ অর্থবছরে এসেছে ৫২টি।

মোংলা বন্দরের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য ৬ হাজার ২৫৬ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী। তিনি জানান, বর্তমানে বন্দর এলাকায় ১১টি এলপিজি কারখানা, পাঁচটি সিমেন্ট কারখানা ও বিভিন্ন ধরনের ১০টি শিল্পকারখানা রয়েছে। বন্দরের ২৫৮ একর জমিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল বেপজা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে মোংলা বন্দরের ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েক গুণ। বিদেশি জাহাজের আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ অঞ্চলে গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বলে দাবি করেছেন জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের সভাপতি লিয়াকত হোসেন লিটন। তিনি বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে টিকে থাকতে ব্যবসায়ীরা উৎপাদন খরচ কমানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই এ অঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার বাড়াতে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের বিকল্প নেই।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাহসিকতায় পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে ২১ জেলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেছে। নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, পর্যটন, কৃষি, মৎস্য ও বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। পদ্মা সেতু ঘিরে এই অঞ্চলে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে। তথ্যসূত্র: সমকাল

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট