চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪

তরুণ উদ্যোক্তা ও এক্সেসরিজ শিল্পবান্ধব বাজেট চাই

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ মে, ২০২৩ | ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

এশিয়ান গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক সাকিফ আহমেদ সালাম বলেছেন, শতভাগ রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রকৃতির গার্মেন্টস এক্সেসরিজ শিল্প খাতটি বিগত বাজেটগুলোতে বঞ্চিত হয়েছে। রপ্তানি বাণিজ্যে ৮৮ শতাংশই অবদান রাখে তৈরি পোশাক শিল্পের এক্সেসরিজ ব্যবসা। বর্তমানে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ফিরলেও কাঁচামালের দাম বাড়ায় এর সুফল পাচ্ছে না এক্সেসরিজ খাত। একইসঙ্গে ফ্রেইট খরচও বেড়েছে। কিন্তু আমরা এক্সেসরিজের মূল্য পাচ্ছি আগের মতোই। তাই লোকসান করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে কারখানাগুলো। পূর্বকোণ প্রতিনিধির সঙ্গে আসন্ন বাজেট (২০২৩-২৪) প্রসঙ্গে আলাপকালে ‘বাজেট ভাবনা’য় তিনি এসব কথা বলেন।

তরুণ উদ্যোক্তা সাকিফ আহমেদ সালাম বলেন, আগামী বাজেটে গার্মেন্ট রপ্তানিকারকদের যেসব সুবিধা দেওয়া হয়, এক্সেসরিজ খাতেও যেন তা দেওয়া হয়। এ খাতে চার শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি রপ্তানির বিপরীতে ১ শতাংশ নগদ সহায়তা ও ১২ শতাংশ কর্পোরেট কর হারের সুবিধা দেওয়া দরকার। করহার যেন আর না বাড়ে। অতিরিক্ত করভারে শিল্প-বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, বাজেটে সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া পণ্য উৎপাদনের উপকরণ আমদানিতে বড় ছাড় দেওয়া উচিত। রপ্তানিকারকদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এক্সেসরিজ ব্যবসায়ীদের যেন প্রণোদনা দেওয়া হয়। তাহলে এক্সেসরিজ খাতের সাময়িক অসুবিধা দূর হবে এবং বিনিয়োগ বাড়বে।

সাকিফ আহমেদ বলেন, দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক শিল্পের বোতাম, জিপার, হ্যাঙ্গার, পলিব্যাগ, সেলাই সুতাসহ প্রায় ৪০ ধরনের এক্সেসরিজের জোগান আসে এ খাত থেকে। দেশে প্রায় ১৭ হাজারেও বেশি কারখানা এসব পণ্য উৎপাদন করে। দুঃখের বিষয় এক্সেসরিজ ব্যবসাটি দিন দিন বিদেশিদের হাতে চলে যাচ্ছে। উৎপাদনের পাশাপাশি ট্রেডও করছে চীন-ভারতসহ কয়েকটি দেশ। এতে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। বাজেটে যদি ছাড়গুলো দেওয়া হয় তাহলে দেশে এক্সেসরিজের উৎপাদন বাড়বে। চীনসহ অন্যান্য দেশগুলো থেকে সরে যাবে সবকিছু। দেশে ফেব্রিকস প্রায় চলে আসছে। এক্সেসরিজ শতভাগ দেশেই উৎপাদন হবে এবং দেশ থেকে সবকিছু নেওয়া যাবে।

শিল্পপতি সাকিফ আহমেদ সালাম বলেন, বর্তমানে তরুণ উদ্যোক্তারা বিপদে আছেন। তাদের টিকিয়ে রাখতে বাজেটে আলাদাভাবে তাদের বরাদ্দ দেওয়া দরকার। তাছাড়া নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে প্রতিবছরই বাজেটে বড় অঙ্কের বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন। বাজেটে অগুরুত্বপূর্ণ কিছু খাত থেকে বিশাল বরাদ্দ কমিয়ে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ব্যয় করা যায়। এবারের বাজেট হওয়া চাই উদ্যোক্তাবান্ধব। আমি মনে করি, বাজেটের মাধ্যমে শুধু উদ্যোক্তা তৈরির রাস্তা করে দিলে হবে না, উদ্যোক্তাদের কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়- এ ব্যাপারে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।

পূর্বকোণ/এ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট