চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১১:১৫ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

তিন বছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ দ্বিগুণ হবে

২০২১-২২ অর্থবছর সুদ ও আসল মিলে ২০০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। আগামী তিন বছরের মধ্যে এর পরিমাণ দ্বিগুণ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে গত অর্থবছর পর্যন্ত সুদাসল মিলে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পাঁচ বছর লেগেছিল। অর্থাৎ বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ এখন আগের চেয়ে বাড়ছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদেশি ঋণ নিতে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ এসেছে রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে। রবিবার শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘সুশাসন নিশ্চিতকরণে বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক ওই সেমিনারের আয়োজন করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বিদেশি ঋণ নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এ ঋণ দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। তবে এ ধরনের ঋণ গ্রহণে আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। জেনে বুঝে এবং হিসাবনিকাশ করেই বিদেশি ঋণ নিতে হবে, যাতে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়।

আলোচনায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, উন্নত দেশের কাতারে উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত পর্যাপ্ত বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে বৈদেশিক ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ শতাংশ। এ হার দ্বিগুণ হলেও কোনো সমস্যা নেই।

তিনি বলেন, বিদেশি ঋণে সুদ কম থাকার পাশাপাশি তা দীর্ঘ মেয়াদে পরিশোধ করতে হয়। গড়ে দেড় শতাংশ সুদে বিদেশি ঋণ পাওয়া যায়। এই ঋণ পরিশোধ করার সময়টাও অনেক বড়। অনেক ঋণ আবার ৩১ বছরে পরিশোধ করতে হয়। অন্যদিকে দেশীয় ঋণ যদি ব্যাংক থেকে নেয়া হয়, তাহলে সাড়ে ৭ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিতে হয়।

তিনি জানান, এ মুহূর্তে পাইপলাইনে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ আছে। ঋণের সঠিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিছু দেশ প্রচুর বৈদেশিক ঋণ নিয়েও সুবিধা করতে পারেনি। যেমন- পাকিস্তান। এর অন্যতম কারণ ঋণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। কিছু ভুল করে তারা সমস্যায় পড়েছে। তাই এক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ঋণ গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কিছু দুর্বলতা আছে। অনেক সময় ঋণদাতারা নিজের মতো করে ঠিকাদার নির্বাচনসহ অন্যান্য কাজ করে। এতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ে এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় নানা সমস্যা হয়। তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মানুষের মধ্যে নৈতিক চর্চা বাড়াতে হবে।

ইআরডির বিশ্বব্যাংক অনুবিভাগের প্রধান আবদুল বাকি বৈদেশিক ঋণের বিষয়ে উপস্থাপনা পেশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের স্থিতি এখন প্রায় ৫৬ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার। গড় রেয়াতকাল ৭ বছর ৬ মাস এবং পরিশোধকাল ২৮ বছর। বিশ্বব্যাংক সবচেয়ে বড় উন্নয়ন অংশীদার। মোট ঋণের ৩২ শতাংশ তাদের।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খান, পরিকল্পনা সচিব মামুন আল রশীদ, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামানসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সেমিনারে অংশ নেন। তথ্যসূত্র: সমকাল

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট