চট্টগ্রাম শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

সর্বশেষ:

ব্ল্যাক হোলের ভেতর কি আছে?

ব্ল্যাক হোল হলো সেসব বৈজ্ঞানিক রহস্যের একটি যার সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি অবগত নন। একারণে সম্প্রতি এম৮৭ নামক গ্যালাক্সিতে অবস্থিত একটি ব্ল্যাক হোলের প্রকৃত ছবি তৈরি করার ঘটনাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তৈরিকৃত এ ছবিটি হলো ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্বের প্রথম প্রত্যক্ষ ও পর্যবেক্ষণীয় প্রমাণ।

মরিয়ম আকতার

৯ মে, ২০১৯ | ২:১৬ অপরাহ্ণ

এতদিন আপনি অনলাইনে বা জ্যোতির্বিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের যেসব ছবি দেখেছেন তা ছিল ইলাস্ট্রেশন বা কল্পনাপ্রসূত আঁকা চিত্র। হ্যাঁ, সেগুলো ছিল বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন হিসাবের আলোকে ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে যা ভেবেছে তার কৃত্রিম উপস্থাপন।
ব্ল্যাক হোল হলো সেসব বৈজ্ঞানিক রহস্যের একটি যার সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি অবগত নন। একারণে সম্প্রতি এম৮৭ নামক গ্যালাক্সিতে অবস্থিত একটি ব্ল্যাক হোলের প্রকৃত ছবি তৈরি করার ঘটনাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তৈরিকৃত এ ছবিটি হলো ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্বের প্রথম প্রত্যক্ষ ও পর্যবেক্ষণীয় প্রমাণ।
কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির ফিজিক্সের সহযোগী অধ্যাপক ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী বেঞ্জামিন মনরিল বলেন, ‘এ বিস্ময়কর বস্তুর প্রকৃত ছবি তৈরি করতে পারাটা বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনা, যা পূর্বে আমরা নকশা, মডেল ও সমীকরণের মাধ্যমে দেখতাম।’
ব্ল্যাক হোলের ছবি তো পাওয়া গেল, কিন্তু এর ভেতরে কি আছে?
* ব্ল্যাক হোল কি?
প্রত্যেকেই হয়তো ব্ল্যাক হোল শব্দটি শুনেছে, কিন্তু আমাদের অধিকাংশই (যারা জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী নয়) জানে না যে ব্ল্যাক হোল আসলেই কি। মনরিল বলেন, ‘ব্ল্যাক হোল হলো এমন একটি বস্তু যা এতই বৃহৎ যে এটির অত্যধিক মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সবকিছুকে ভেতরের দিকে টানে, এমনকি আলোকেও।’ এখনো দ্বিধায় আছেন? একটি ট্রাম্পোলাইনের ওপর একটি বোলিং বলের কথা চিন্তা করুন: এটি মধ্যখানে একটি বড় ডিপ্রেশন সৃষ্টি করবে, তাই আপনি এটির ওপর কিছু মার্বেল ছুঁড়ে মারলে নিচের দিকে পতিত হবে। একইভাবে ব্ল্যাকহোল তার চারদিকে স্থান ও সময়কে (একত্রে স্পেসটাইম বা স্থানকাল বলে) বাঁকিয়ে রাখে। মনরিল বলেন, ‘এমনকি ব্ল্যাক হোল থেকে আলোর গতিও নিস্তার পায় না। স্থান এত বেশি বেঁকে থাকে যে একমাত্র দিক হলো নিম্নতা। একারণে ব্ল্যাক হোল কালো বা অদৃশ্য। আমরা ব্ল্যাক হোল দেখি না, কারণ ব্ল্যাক হোল থেকে কোনো আলো বের হতে পারে না।’
* ব্ল্যাক হোল কিভাবে সৃষ্টি হয়?
অনুসন্ধিৎসু মন জানতে চায় যে ব্ল্যাক হোল ঠিক কি দিয়ে তৈরি। মনরিল বলেন, ‘যখন কোনো সাধারণ বস্তু
সংকুচিত হয়ে যথেষ্ট পরিমাণে ছোট হয়ে যায়, তখন থেকে ব্ল্যাক হোলের সূচনা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যখন বড় বড় নক্ষত্রের জ্বালানি শেষ হয়ে যায়, তখন তারা মহাকর্ষের মাধ্যমে নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংস করে ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি করে। মনরিল বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা গ্যালাক্সি এম৮৭ এর যে ব্ল্যাক হোলের ছবি দেখেছি তা সম্ভবত ধ্বংসপ্রাপ্ত হাইড্রোজেন গ্যাসের বড় বড় মেঘপুঞ্জ থেকে সৃষ্টি হয়েছে।’[ সূত্র : ডয়চে ভেলে] (আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট